সংক্রমণ বাড়ছে গ্রামে, গ্রামীণ ভারতে কোভিড দমনে জারি কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা
গ্রামীণ ভারতে কোভিড দমনে জারি কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা
করোনা ভাইরাস খুবই তীব্রভাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ছে। শহরাঞ্চলের পাশাপাশি এই সংক্রমণ শহর সংলগ্ন এলাকায়, গ্রামে ও আদিবাসী এলাকাতেও ছড়িয়ে পড়েছে। রবিবার কেন্দ্র সরকারের পক্ষ থেকে কোভিড বিপর্যয় পর্যবেক্ষণের জন্য নির্দেশিকা জারি করেছে।

স্বাস্থ্যসেবা পরিকাঠামো জোরদার করা
এর ঠিক একদিন আগেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সরকারি আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছিলেন যে গ্রামীণ এলাকায় অক্সিজেন সরবরাহ নিয়ে বন্টন পরিকল্পনা তৈরি করা হোক, টেস্টিংয়ের ওপর জোর দেওয়া হোক, যার মধ্যে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে টেস্ট এবং গ্রামীণ এলাকার স্বাস্থ্য কর্মীদের সহায়তা করা। এরপরই এই নির্দেশিকা জারি করা হয়। জনগণকে সক্ষম করা, প্রাথমিক স্তরের স্বাস্থ্যসেবা পরিকাঠামোকে শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক ভাইরাসের বিস্তার রোধ দমনে গ্রামীণ অঞ্চলে অনুসরণীয় বিধিগুলির সেট প্রকাশ করেছে।

নজরদারির প্রয়োজন
স্বাস্থ্য মন্ত্রকের একাধিক নিয়মের মধ্যে একটি নিয়ম হল গ্রাম স্বাস্থ্য স্যানিটেশন এবং পুষ্টি কমিটির (ভিএইচএসএনসি) সহায়তায় আশা কর্মীরা পর্যায়ক্রমে ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো অসুস্থতা / গুরুতর তীব্র শ্বাস প্রশ্বাসের সংক্রমণ (আইএলআই / এসএআরআই) জন্য সক্রিয় নজরদারি নিশ্চিত করবে প্রতিটি গ্রামে। এই নির্দেশিকায় আরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে কমিউনিটি স্বাস্থ্য অফিসার টেলিপরামর্শের মাধ্যমে সংক্রমণেপ গুরুতর দিকটি পর্যবেক্ষণ ও নজরদারি করবে এবং এর সঙ্গে কোনও রোগীর কোর্মবিডিটি রয়েছে কিনা ও অক্সিজেনের সম্পৃক্ততা কেমন তা উচ্চতর কেন্দ্রে জানাবে।

আইসোলেটে থাকার নির্দেশ
এই নির্দেশিকায় মন্ত্রক বলেছে, 'এই রোগীদের আইসোলেটে থাকতে হবে যতদিন না টেস্ট রিপোর্ট নেগেটিভ আসছে। উপসর্গ নেই কিন্তু উচ্চতর সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে এইসব রোগীদের কোয়ারেন্টাইনে ও আইসিএমআরের প্রোটোকল অনুযায়ী টেস্ট করাতে হবে।' নির্দেশিকায় এও বলা হয়েছে যে কনট্যাক্ট ট্রেসিংয়ের ওপর জোর দিতে হবে। এর সঙ্গে এও বলা হয়েছে যে যাঁদের টেস্ট রিপোর্ট পজিটিভ আসবে তাঁদের বাড়িতেই কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে।

হোম আইসোলেশন কিট
কোভিড মেডিক্যাল যন্ত্রপাতির অভাব নিয়ে নির্দেশিকায় বলা হয়েছে থার্মোমিটার ও পালস অক্সিমিটার গ্রামের প্রতিটি পরিবারকে ঋণ হিসাবে দেওয়া হবে এবং তার ওপর পর্যবেক্ষণ করবেন ফ্রন্টলাইন কর্মী বা স্বেচ্ছাসেবক বা শিক্ষকরা। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, 'প্যারাসিটামল ৫০০ এমজি ট্যাবলেট, আইভারমেকটিন, কাশির সিরাপ, মাল্টিভিটামিন (চিকিৎসকের পরামর্শে) সহ হোম আইসোলেশনের কিট দেওয়া হবে প্রত্যেক পরিবারকে। এর পাশাপাশি রোগীর শারীরিক অবস্থার খোঁজ নিতে হবে স্বাস্থ্য ও স্বেচ্ছাসেবক কর্মীদের।'

দ্বিতীয় ওয়েভ মারাত্মক
প্রথম কোভিড ওয়েভের বিপরীতে যেখানে গ্রামীণ অঞ্চলগুলিতে কোভিড সংক্রমণকে বাড়িয়ে তুলেছে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে দ্বিতীয় ওয়েভের প্রভাব গ্রামীণ অঞ্চলে আরও মারাত্মক হতে পারে, যেখানে স্বাস্থ্যসেবা পরিকাঠামো চিরাচরিতভাবে দুর্বল এবং কম চিকিৎসা সুবিধা পাওয়া যায়। দেশের ৭৩ শতাংশ জনসংখ্যা গ্রামীণ জেলাগুলিতে থাকেন। গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতে ৩.১১ লক্ষ নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন এবং মোট সংক্রমণের সংখ্যা ২.৪৬ কোটি। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে মারা গিয়েছে ৪,০৭৭ এবং মোট মৃতের সংখ্যা ২.৭ লক্ষ।












Click it and Unblock the Notifications