তৃতীয় ফ্রন্ট গঠনের উদ্যোগ! দেশের ৭ অ-বিজেপি ৭ মুখ্যমন্ত্রীকে বৈঠকের আহ্বান কেজরিওয়ালের
সম্প্রতি বাংলায় এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠক করে যান সমাজবাদী পার্টি সুপ্রিমো অখিলেশ যাদব। সেখানে কংগ্রেস ও বিজেপির সঙ্গে সমদূরত্ব রেখে চলার প্রস্তাব নেওয়া হয়। এবার দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল অ-বিজেপি সাত মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখলেন। তাঁর এই চিঠিও তৃতীয় ফ্রন্ট গড়ার এক চেষ্টা বলে মনে করা হচ্ছে।
সম্প্রতি অরবিন্দ কেজরিওয়াল দেশের সাত মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনা করেছেন। তাঁর এই পরিকল্পনার নেপথ্যে ২০২৪-এর আগে বিজেপি বিরোধী জোট গড়ার অভীপ্সা রয়েছে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। চিঠিতে তিনি আহ্বান জানিয়েছে, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কেরালার পিনারাই বিজয়ন, তামিলনাড়ুর এম কে স্ট্যালিন এবং অন্যান্যদের।

২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে হঠাৎ দেশে তৃতীয় ফ্রন্ট গড়ার একটা উদ্যোগ শুরু হয়েছে। আম আদমি পার্টির প্রধান তথা দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালও এই কর্মকাণ্ডে একটি বিশেষ ভূমিকা নিয়ে চাইছেন। কংগ্রেসকে বাদ রেখেই এই বিজেপি-বিরোধী জোট গঠনের প্রয়াস শুরু হয়েছে দেশজুড়ে।
এই প্রয়াসে শুধু অরবিন্দ কেজরিওয়াল নন, রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অখিলেশ যাদব, তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কেসিআর-সহ অনেকেই শামিল। তাঁরা সবাউ বিরোধী ঐক্য বাড়াতে চেয়েছিলেন এবং অ-বিজেপি ও অ-কংগ্রেস মুখ্যমন্ত্রীদের একটি ফোরাম গঠন করতে চেয়েছিলেন। ২০২৪-কে টার্গেট করেই এই উদ্যোগ তাঁদের, এমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল ২০১৪ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে কেন্দ্রের প্রতিনিধি লেফটেন্যান্ট গভর্নরের সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন। এখন তিনি সাতজন মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে ১৮ মার্চ দিল্লিতে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। সাধারণভাবে এই বৈঠক প্রগতিশীল মুখ্যমন্ত্রীদের দল গঠন করার চেষ্টা বলে মনে হলেও এর নেপথ্যে আরও বড় কারণ রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
গত ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, কেরালার পিনারাই বিজয়ন, তামিলনাড়ুর এম কে স্ট্যালিন, ঝাড়খণ্ডের হেমন্ত সোরেনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী কে চন্দ্রশেখর রাও ছিলেন আমন্ত্রিতদের তালিকায়। কিন্তু স্বাস্থ্য সংক্রান্ত কারণে তিনি যোগ দিতে পারবেন না বলে জানিয়েছেন।
সম্প্রতি কে চন্দ্রশেখর রাও বা কেসিআরই প্রথম অ-বিজেপি, অ-কংগ্রেস জোটের জন্য চাপ দিয়ে ভরাত পরিভ্রমণ করে তাঁর প্রচেষ্টা জারি রেখেছিলেন। তিনি এখন তাঁর দলকে অন্য রাজ্যে বিস্তারলাভে মনোনিবেশ করছেন। তাঁর দলের নামও তাই তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি থেকে পরিবর্তন করে ভারত রাষ্ট্র সমিতিতে রূপান্তরিত করেছেন তিনি।
বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০১৯ সালে বিরোধীদের একত্রিত করার জন্য উদ্যোগ নিয়েছিলেন। এবার সেখানে উদ্যোগী একাধিক আঞ্চলিক দল। ২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে তিনিও কংগ্রেসকে বা দিয়ে বিজেপি বিরোধী জোট গড়ার পক্ষপাতী। বিহারের নীতীশ কুমার ও তেজস্বী যাদব জানিয়ছেন, আমরা যেখানে আছি সেখানেই খুশি।
এখন প্রশ্ন হল, ২০২৪-এর নির্বাচনে বিজেপি বিরোধী জোট কংগ্রেসকে বাদ রেখে করার চেষ্টা চললেও তা কতটা ফলপ্রসূ হবে, তা নিয়ে ধন্দ রয়েই যায়। কারণ বিহারের জেডিইউ ও আরজেডির পাশাপাশি তামিলনাড়ুর ডিএমকে, ঝাড়খণ্ডের জেএমএম, মহারাষ্ট্রের উদ্ধবপন্থী শিবসেনা, এনসিপি কংগ্রেসকে ছাড়া জোটে আগ্রহী হবে কি না, সন্দেহ।












Click it and Unblock the Notifications