২০২০ নিউজ মেকার: অর্ণব গোস্বামী সম্পর্কে কিছু ঘটনা একনজরে
২০২০ নিউজ মেকার: অর্ণব গোস্বামী সম্পর্কে কিছু ঘটনা একনজরে
৪ নভেম্বর সকালে গোটা দেশে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছিল একটিই খবর, তা হল জনপ্রিয় সঞ্চালক তথা সাংবাদিক অর্ণব গোস্বামীর গ্রেফতারির খবর। মুম্বইতে অর্ণবের বাড়িতে গিয়ে মহারাষ্ট্র পুলিশ সেদিন অর্ণবকে গ্রেফতার করে। অভিযোগ ছিল ২০১৮ সালের এক ইন্টিরিয়ার ডেকোরোটারের আত্মহত্যায় প্ররোচনা দিয়েছেন অর্ণব। এরপর লম্বা লড়াই। ২০২০ সালের নিউজ মেকার খোদ 'নিউজ প্রেজেন্টার' অর্ণব গোস্বামী।

অসমে জন্ম অর্ণবের
১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ অসমের গুয়াহাটিতে জন্ম নেন অর্ণব। মূলত অসমিয়া বাঙালি পরিবারের সন্তান হিসাবেই অর্ণবের পরিচিত রয়েছে। বাবা মনোরঞ্জন গোস্বামী ভারতীয় সেনায় ৩০ বছরের সেবার পর যোগদেন বিজেপিতে। যদিও গুয়াহাটির বুক থেকে প্রার্থী হয়েও জয় ঘরে তুলতে পারেননি মনোরঞ্জন গোস্বামী। এদিকে, মা সুপ্রভা গোস্বমী একজন লেখিকা হিসাবে পরিচিত। সুপ্রভা দেবীর বাবা গৌরীশঙ্কর ভট্টাচার্য অককালে অসমের রাজনীতিতে তাবড় বাম নেতা হিসাবে পরিচিত ছিলেন। তিনি সেখানে বিরোধী দলতেও ছিলেন বিধানসভায়।

অর্ণবের পড়াশোনা
দিল্লি ক্যানটনমেন্টের সেন্ট মেরি স্কুল থেকে দশম শ্রেণি পাশ করে , জবলপুর ক্যান্টনমেন্টের কেন্দ্রীয় বিদ্যালয় থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পাশ করেন অর্ণব। এরপর দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিন্দু কলেজে সোশিওলজি, তারপর ১৯৯৪ সালে অক্সফোর্ড থেকে স্নাতোকোত্তর।

সাংবাদিকতার সফর
কেরিয়ারের শুরুতে অর্ণব গোস্বামী কলকাতায় 'টেলিগ্রাফ' এ কাজ শুরু করেন। এরপর দিল্লি পাড়ি দিয়ে এনডিটিভি। তারপর টাইমস নাও, আর এরপর রিপাবলিক টিভি। যেখানে কর্মরত অবস্থার মাঝেই গ্রেফতারি হয় অর্ণবের।

অর্ণবের বিরুদ্ধে মামলা
২০১৮ সালে ইন্টিরিয়ার ডিজাইনার কুমদ নায়েক ও অন্বয় না.য়েকের আত্মহত্যা প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে ২০২০ সালে নভেম্বরে অর্ণবকে গ্রেফতার করে মহারাষ্ট্র পুলিশ। প্রসঙ্গত, মহারাষ্ট্রের শিবসেনার সঙ্গে অর্ণবের সংঘাত এর আগে থেকেই পারদ চড়ায়। এরপর অর্ণবের গ্রেফতারি সেই প্রেক্ষাপটে তুমুল শোরগোল ফেলে দেয়।

ভাইরাল ভিডিও থেকে জেল পর্ব
এক ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, কীভাবে অর্ণব গোস্বামীকে তাঁর বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে পুলিশ। কার্যত টানা হেঁচড়া করে তাঁকে ভ্যানে তোলা হয়েছিল বলে খবর। এদিকে এই ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। প্রতিবাদ জানায় নিউজ ব্রডকাস্টার্স অ্যাসোসিয়েশন। অর্ণবের জেল হেফাজত হয় ২ সপ্তাহের জন্য। তাঁর বিরুদ্ধে ৩০৬, ৩০৪ ধারায় মামলা দায়ের হয়।

আইনি লড়াই
এদিকে, অর্ণবের গ্রেফতারির পর বম্বে হাইকোর্টে জামিনের আর্জি জানান দেশের অন্যতম খ্যাতনামা এই সাংবাদিক। তবে সেক্ষেত্রে জামিন খারিজ হয়। এরপর সুপ্রিম কোর্টে যাত্রা শুরু হয় অর্ণবের। এরপর ১১ নভেম্বর জামিনে মুক্তি পান অর্ণব গোস্বামী। পরবর্তীকালে সেই জামিনের মেয়াদ বাড়ে।












Click it and Unblock the Notifications