এলোপাথাড়ি গুলিতে পাঁচ সহকর্মীকে খুন করে আত্মঘাতী জওয়ান

সেনা সূত্রে খবর, রাষ্ট্রীয় রাইফেলসের ওই সিপাই সদর দরজার কাছে পাহারায় ছিল। রাত দু'টো নাগাদ চুপিসাড়ে ঢুকে পড়ে ছাউনির ভিতরে। তখন সবাই গভীর ঘুমে মগ্ন। ঘুমন্ত জওয়ানদের তাক করে নিজের ইনস্যাস রাইফেল থেকে গুলি চালাতে শুরু করে সে। ঘটনাস্থলেই মারা যায় পাঁচজন। গুলির আওয়াজ শুনে অন্যান্য রক্ষীরা দৌড়ে আসে। ঘাতক সিপাইকে বলা হয় আত্মসমর্পণ করতে। কিন্তু হঠাৎ রাইফেলের নল নিজের কপালে ঠেকিয়ে ট্রিগার টেনে দিয়ে আত্মঘাতী হয়। গোটা ঘটনায় হতবাক হয়ে যায় সবাই। রাতেই ছুটে আসেন সেনাকর্তারা। জখমদের নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালে। এদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
সহকর্মীদের গুলি চালিয়ে মারার ঘটনা সেনাবাহিনীতে নতুন কিছু নয়। এর আগেও কয়েকবার ঘটেছে। কিন্তু কেন এত হিংস্র হয়ে উঠছে জওয়ানরা?
মনোবিদদের মতে, সেনাবাহিনীর চাকরিতে খুব চাপ পড়ে শরীর ও মনের ওপর। দিনের পর দিন রাত জাগা, রাতে জঙ্গি ধরতে বেরনো, এর ফলে শারীরিক ধকল তো আছেই। পাশাপাশি রয়েছে প্রচণ্ড মানসিক চাপ। কাশ্মীর, নাগাল্যান্ডের মতো পাহাড়ি এলাকায় কনকনে ঠান্ডা থাকে অধিকাংশ সময়। তার ওপর যে কোনও সময় জঙ্গি হামলার ভয়। খেতে বসার আগেও জওয়ানরা জানেন না, খাওয়া শেষ করতে উঠতে পারবেন কি না! ঘুমোতে যেতে হয় এই ভয় নিয়ে যে, কালকের সূর্য হয়তো আর দেখা যাবে না! তার ওপর আছে ওপরওয়ালাদের নির্মম ব্যবহার। পান থেকে চুন খসলে কোর্ট মার্শাল বা সিয়াচেন, চীন সীমান্তের মতো দুর্গম জায়গায় বদলি। ছুটি চেয়ে পাওয়া যায় না। সাধারণ সেনাদের (সোলজার্স জেনারেল ডিউটি) কারও বয়স বেশি নয়। কেউ ২০, কেউ ২৫, তো কেউ ২৬। ফলে একটা সময়ে পর সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে তরুণমনে ক্ষোভ দানা বাঁধে। তখনই ঘটে এমনতর হিংস্র হামলার ঘটনা।












Click it and Unblock the Notifications