চিনের সঙ্গে তালিবানদের সুসম্পর্কে নতুন বিপদের আশঙ্কা, সীমান্ত চুক্তি পোক্ত করতে বললেন সেনা প্রধান
চিন-তালিবানদের সুসম্পর্কে নতুন বিপদের আশঙ্কা, সীমান্ত চুক্তি পোক্ত করতে বললেন সেনা প্রধান
লাদাখ সংকট এখনও কাটেনি। তারপরে আবার আফগানিস্তানে তালিবানদের শাসন। সেখানে চিনের সঙ্গে তালিবানদের বেশ সুসম্পর্ক তৈরি হয়েছে। তাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে ভারত। কারণ তালিবানদের সাহায্যে ভারতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ বাড়তে পারে। শুধু লাদাখ নয়, কাশ্মীরেও জঙ্গি অনুপ্রবেশ বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই আগে থেকেই সীমান্ত সুরক্ষিত করার উপর জোর দিয়েছেন সেনা প্রধান জেনারেল নারাভানে। তিনি বলেছেন চিনের সঙ্গে সীমানা নিয়ে চুক্তি পোক্ত করা অত্যন্ত জরুরি।

চিনের সঙ্গে তালিবানদের বন্ধুত্ব
আফগানিস্তানে তালিবান শাসন জারি হওয়ার পর চিনই প্রথম দেশ যাঁরা তাঁদের স্বীকৃতি দেয়। শুধু স্বীকৃতি দেয় তা নয় চিন আফগানিস্তানের উন্নয়নে অনেক অর্থিক সাহায্যের কথাও ঘোষণা করে। যেমনটা আশরপ গনির সরকারের সময় ভারত আফগানিস্তানকে করে এসেছিল। তার থেকে বেশি সাহায্য তালিবানদের করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চিন।
তাতেই সিঁদুরে মেঘ দেখছে ভারত। তালিবানদের সঙ্গে হঠাৎ করে চিনের এই ঘনিষ্ঠতার নেপথ্যে অন্য কোনও কারণ থাকতে পারে বলে আঁচ করতে শুরু করেছে ভারত।

সীমান্ত চুক্তি পোক্ত করার পরামর্শ
ভারতের একরকম প্রতিবেশি দেশ চিন। সরাসরি বিবাদ না থাকলেও গত কয়েক বছরে লাদাখ এবং ডোকালা নিয়ে চিনের সঙ্গে বিবাদ ভালমত গভীর হয়েছে। দীর্ঘ ১ বছর ধরে লাদাখ সীমান্ত নিয়ে চিনের সঙ্গে টানাপোড়েন চলছে ভারতের। ১০ দফার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক বিফলে গিয়েছে। কোনও রকম সমাধান সূত্র মেলেনি। আবার এক শীত পার করে আরেক শীত আসতে চলল লাদাখ নিয়ে চিনের সঙ্গে বিবাদ যে তিমিরে ছিল সেই তিমিরেই রয়ে গিয়েছে। তাই তালিবানদের সঙ্গে চিনের এই সুসম্পর্ক একেবারেই ভাল চোখে দেখছে না ভারত। যেকোনও মুহূর্তে এই বিবাদকে কােজ লাগিয়ে ভারতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ মাথাচারা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে। সেকারণেই সেনা প্রধান জেনারেল নারাভানে বলেছেন চিনের সঙ্গে সীমান্ত চুক্তি পোক্ত করা জরুরি। তাহলে আর সীমান্তে নজরদারি নিয়ে কোনও সমস্যা থাকবে না।

চিনের সাহায্যে নাশকতার চেষ্টা
সেনা প্রধান জেনারেল নারাভানে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন চিনের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত সমস্যাকে কাজে লাগিয়ে ভারতে নাশকতা চালাতে পারে তালিবানরা। সীমন্তে নজরদারির অসুরক্ষিত থাকতে জঙ্গি অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা করতে পারে তারা। এমনিতেই পাকিস্তানের সঙ্গে সুসম্পর্ক রয়েছে তালিবানদের। কাশ্মীরে কড়া নজরদারির কারণে জঙ্গি অনুপ্রবেশ করােত পারছে না পাকিস্তান। চিনকে কাজে লাগিয়ে এবার সেই অনুপ্রবেশ ঘটাতে পারে তারা। চিনের সঙ্গে দুই দিয়ে সীমান্ত রয়েছে ভারতের। লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ এবং অরুণাচল প্রদেশ। কাজেই এই তিনটি জায়গায় সীমান্ত চুক্তি যাকে বলে পাকাপাকি করে ফেলতে পারলে আর কোনও রকম সমস্যা থাকবে না। এমনই মনে করছেন সেনা প্রধান।

সীমান্ত সংকট অব্যহত
চিনের সঙ্গে লাদাখ সীমান্ত সমস্যা এখনও মেটেনি ভারতের। গত বছর মে মাসে গালওয়ান উপত্যকায় চিনা ফৌজের সঙ্গে ভারতীয় সেনার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। তারপর থেকে গালওয়ান উপত্যকা উত্তপ্ত হয়ে রয়েছে। প্যাংগং হ্রদের ধারে নজরদারির ক্যাম্প নিয়ে এখনও দুই দেশের মধ্যে বিবাদ চলছে। দফায় দফায় বৈঠক হয়েছে দুই দেশের সেনার মধ্যে। ইতিমধ্যে ভারতের জাতিয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল চিনে সফরও করেছিলেন। এমনকী বেশ কয়েক দফায় তিনি চিনের বিেদশ মন্ত্রকের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন। সরাসরি সংঘর্ষে না জড়ােলও চিনে নিজের অবস্থান থেকে নড়তে নারাজ।












Click it and Unblock the Notifications