'লিখতে জানি না শুধু সই করতে জানি', কেষ্টকে বয়ান লেখাতে হিমসিম খেল ইডি
অনুব্রত মণ্ডলকে বয়ান লেখাতে গিয়ে হিমসিম খেল ইডি
দিল্লিতে দফায় দফায় জেরা করা হচ্ছে অনুব্রত মণ্ডলকে। কিন্তু সেই জেরার বয়ান লেখাতে গিয়ে এক প্রকার হিমসিম খেতে হল দিল্লির ইডির অফিসারদের। বয়ান লিখতে হবে শুনেই বেঁকে বসেন কেষ্ট। তিনি ইডি আধিকারীকদের জানান সই ছাড়া কিছুই তিনি করতে পারেন না। বীরভূমের বাঘ তাই মুখেই সব কাজ তুড়িতে হয়ে যেত। শুধু সই করতে হত কয়েকটা কাগজে। তাই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে লেখাপড়ার পাট কবে চুকিয়ে দিয়েছেন। এখন আর লিখতে পারবেন না। নিরুপায় ইডি শেষে বাইরে থেকে এক সাক্ষীকে নিয়ে এসে কেষ্টর বয়ান লেখাচ্ছেন। তাতে কেবল সই করে দিচ্ছেন অনুব্রত মণ্ডল।

সই করতে পারি শুধু
গতকাল থেকে দফায় দফায় বৃহস্পতিবার সকাল থেকে জেরা করা হচ্ছে অনুব্রত মণ্ডলকে। সকালে প্রথমে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয় তাঁর। তারপরে তাঁকে আবার জেরা করা শুরু হয়। জেরায় একের পর চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসতে শুরু করেছিল। কিন্তু অনুব্রত মণ্ডলকে দিয়ে তাঁর নিজের বয়ান লেখাতে গিয়ে হিমসিম খেয়েছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী দল। তাঁরা কেষ্টকে নিজের বয়ান লিখতে বললে তিনি জানিয়েছেন লিখতে পারেন না। কেবল সই করতে পারেন। অর্থাৎ রাজনীতি করেছেন তিনি। তাই লেখালেখির অভ্যাস তাঁর নেই। মুখের কথাতেই সব কাজ হয়ে যেত। লেখা লেখি বলতে কেবল সই করতে হত তাঁকে।

শেষে কী করলেন ইডি অফিসাররা
অনুব্রত মণ্ডলের মত এরকম দুঁদে রাজনৈতিক নেতা নাকি লিখতে পারেন না। শুনে আকাশ থেকেই পড়েছিলেন দিল্লির ইডি অফিসাররা। শেষে এক নিরপেক্ষ সাক্ষীকে নিয়ে আসেন তাঁরা। তিনি অনুব্রত মণ্ডলের বয়ান লিখে দেন। এবং কেষ্ট মণ্ডল সেটা শোনার পর সই করে দিয়েছেন শুধু। একে বেশ কিছুটা সময় নষ্ট হয়েছে ইডির। এদিকে আগামীকালই তাঁকে ফের আদালতে পেশ করতে হবে কারণ আগামীকালই শেষ হয়ে যাচ্ছে তাঁর ইডি হেফাজতের মেয়াদ।

মুখে মুখেই কাজ
বীরভূমের বেতাজ বাদশা তিনি। দোর্দণ্ড প্রতাপ নেতার দাপটে বাঘে গরুতে একঘাটে জল খেত বীরভূমে। পড়াশোনা করার তেমন প্রয়োজন পড়েনি। তাঁর একটা কথাতেই সব কাজ হয়ে যেত জেলায়। এমনকী তাঁর কথা না শুনে একটি পাতাও নড়ত না বীরভূমে। তিনি যে লেখালেখি কিছুই করেন না সেটা হজম করতে একটু সমস্যাই হয়েছে ইডির। যদিও কেষ্ট অকপটে বলে দিয়েছেন তাঁর লেখালেখির প্রয়োজন হয়নি। মুখের কথাতেই কাজ হয়ে যেত। পড়াশোনা কবেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। তারপর থেকে রাজনীতিই ছিল তাঁর ধ্যানজ্ঞান।

কেষ্টর বিপুল সম্পত্তির হদিশ
এদিকে অনুব্রত মণ্ডলের ৯ কোটি টাকার সম্পত্তির হদিশ পেয়েছে ইডি। সেটাকে ৬ কোটি টাকা বলে ডিডে দেখানো হয়েছিল। তাই নিয়ে দফায় দফায় সকাল থেকে কেষ্টকে জেরা করা হয়েছে। কিন্তু তার কিছুই অনুব্রত মণ্ডল খোলসা করেনি। কেষ্টর মেয়ের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টেও বিপুল লেনদেনের তথ্য পাওয়া গিয়েছে। এমনকী কেষ্টর মেয়ের দুটি কোম্পানির দিকেও নজর রয়েছে ইডির। কেষ্টকে জেরা করে সেই কোম্পানির আর্থিক লেনদেন নিয়েও জানতে চাইছেন তদন্তকারীরা












Click it and Unblock the Notifications