গুজরাটে সন্ত্রাস দমনে অভিযান, আইএসআইএস জঙ্গি সন্দেহে ৩ জন গ্রেপ্তার, নাশকতার ছক ভেসে উঠছে তদন্তে
দেশজুড়ে বড়সড় নাশকতার ছক ভেস্তে দিল গুজরাট এন্টি টেররিস্ট স্কোয়াড। সংগঠিত পরিকল্পনায় আইএসআইএস এর পক্ষ থেকে ভারতে সন্ত্রাস ছড়ানোর অভিযোগে ৩ জনকে গ্রেপ্তার করেছে এটিএস। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আদালাজ টোল প্লাজা এলাকার কাছে অস্ত্র সরবরাহের সময় ধরা পড়ে তারা।
এটিএস সূত্রে জানা গেছে ধৃতরা হল ডাঃ আহমেদ মোহিউদ্দিন সাইয়েদ (৩৫),মহম্মদ সুহেল ও আজাদ সুলেমান সাইফি। সূত্রের খবর, প্রায় ১ বছর ধরে এই তিনজনের গতিবিধির উপর নজর রাখছিল এটিএস। বিশেষ করে মোহিউদ্দিনের উপর। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ চিকিৎসাশাস্ত্রের ডিগ্রি নিয়ে চিন থেকে ফেরার পরে তিনি সন্ত্রাসবাদে জড়িয়ে পড়েন ও বিভিন্ন শহরে হামলার নকশা তৈরি করছিলেন।

এটিএস জানিয়েছে, ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে দুটি গ্লক পিস্তল, একটি বেরেট্টা পিস্তল ও ৩০ রাউন্ড কার্তুজ সহ চার লিটার ক্যাস্টর তেল যা রাইসিন' নামক ভয়ঙ্কর বিষ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
তদন্তকারীরা জানান, রাইসিন অত্যন্ত প্রাণঘাতী বিষ, যেটি অল্প পরিমাণেই বহু মানুষের প্রাণ নিতে সক্ষম।এটিএস এর ডিআইজি সুনীল জোশী জানিয়েছেন, মোহিউদ্দিন নিয়মিত যোগাযোগ রাখছিলেন আবু খাদেজা নামের এক টেলিগ্রাম ব্যবহারকারীর সঙ্গে, যার যোগ রয়েছে ISKP এর সঙ্গে। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল "বৃহৎ ক্ষয়ক্ষতির মাধ্যমে আতঙ্ক সৃষ্টি করা"।
উত্তরপ্রদেশ থেকে অস্ত্র রুট, কাশ্মীর পর্যন্ত নেপথ্য খোঁজ, বাকি দুই অভিযুক্তের ধর্মীয় শিক্ষা নেওয়ার পরে তারা বিভিন্ন ভাবে র্যাডিক্যালাইজড হয়েছিল বলে দাবি তদন্তকারীদের। তারা দিল্লি, লখনউ, আহমেদাবাদ সহ বিভিন্ন জনবহুল স্থানে নাশকতার সম্ভাব্য জায়গা চিহ্নিত করছিল। এমনকি কাশ্মীরেও তাদের গতিবিধি পাওয়া গেছে।
পর্যবেক্ষণ থেকে জানা যায়, অস্ত্রের প্রথম চালান এসেছিল রাজস্থানের হনুমানগড় থেকে। পরে তা গুজরাটের কালোলে পৌঁছায় ও সেখানেই ধীরে ধীরে জাল বিস্তার করছিল দলটি। এক অভিযুক্তকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। অন্য দুইজনকেও শীঘ্রই আদালতে তোলা হবে। এটিএস জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সংযোগ ও আরও কেউ এই চক্রে যুক্ত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।












Click it and Unblock the Notifications