লালকেল্লা সংলগ্ন বিস্ফোরণ কাণ্ডে সন্দেহভাজন আরেকটি গাড়ির খোঁজে তল্লাশি অভিযান, তৎপর দিল্লি পুলিশ প্রশাসন
দিল্লির লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের গেট নম্বর ১ এর সামনে ভয়াবহ গাড়ি বিস্ফোরণের ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই উঠে আসছে একের পর এক নতুন নতুন তথ্য। এবার সামনে এল আরও এক চাঞ্চল্যকর দিক। বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারে একটি লাল রঙের ফোর্ড ইকোস্পোর্ট!
সূত্রের খবর, ওই গাড়িটি মূল অভিযুক্ত উমর উন নবির নামে রাজৌরি গার্ডেনে নিবন্ধিত। পুলিশের দাবি, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত হুন্ডাই আই২০ র পাশাপাশি এই গাড়িটিও একই সন্দেহভাজনদের মালিকানাধীন। গাড়ির নম্বর DL10CK0458।

এরপরই গোটা রাজধানীতে জারি হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। দিল্লির সমস্ত থানায়, পুলিশ পোস্টে ও সীমান্ত এলাকায় জোরদার তল্লাশি চলছে। উত্তরপ্রদেশ ও হরিয়ানার পুলিশকেও সতর্ক করা হয়েছে। এই মুহূর্তে দিল্লি পুলিশের পাঁচটি বিশেষ দল ময়দানে নেমে ওই গাড়ির খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে শহরজুড়ে।
গত সোমবার সন্ধ্যায় লালকেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে ধীরে চলা একটি হুন্ডাই আই২০ হঠাৎই ভয়াবহ বিস্ফোরণে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অন্তত ১২ জনের, আহত বহু মানুষ। আগুনে পুড়ে যায় আশপাশের আরও কয়েকটি গাড়ি। ঘটনার খবর পেয়ে মুহূর্তের মধ্যে পৌঁছে যায় ৭ টি দমকল ইঞ্জিন।
প্রাথমিক তদন্তে ফরিদাবাদে সম্প্রতি ধরা পড়া একটি জঙ্গি মডেলের সঙ্গেই এই বিস্ফোরণের যোগ পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যেই কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তদন্ত চলছে পুরো চক্রটি উন্মোচনের জন্য।
এদিকে, বুধবার ভুটান সফর শেষ করে ভারতে ফিরেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পৌঁছে যান লোক নায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ হাসপাতালে। আহতদের সঙ্গে কথা বলেন, তাদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী এক্স হ্যাণ্ডেলে লিখেছেন "দিল্লির বিস্ফোরণে আহতদের দেখতে এলএনজেপি হাসপাতালে গিয়েছিলাম। সবার দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।"
তিনি আরও স্পষ্ট করে জানান,
"যারা এই নৃশংস ষড়যন্ত্রের পেছনে রয়েছে, তাদের কাউকেই ছাড়া হবে না। প্রত্যেককে ন্যায়ের মুখোমুখি হতে হবে।"
আজ সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটে, প্রধানমন্ত্রী ক্যাবিনেট কমিটি অন সিকিউরিটি এর বৈঠক ডেকেছেন বিস্ফোরণ পরবর্তী পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে।
অন্যদিকে, রাজধানী জুড়ে চলছে কড়া নজরদারি। দিল্লির সমস্ত প্রবেশ ও প্রস্থান পয়েন্টে চলছে ব্যাপক চেকিং, মোতায়েন করা হয়েছে বিপুল সংখ্যক প্যারামিলিটারি বাহিনী। গাড়ি ও যাত্রীদের তল্লাশি চলছে জোরদারভাবে, যাতে কোনওভাবেই নিরাপত্তার ফাঁকফোকড় না থাকে।
রাজধানীর আকাশে এখন একটাই প্রশ্ন ভাসছে লালকেল্লা বিস্ফোরণের পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকা চক্রান্তের শেষ সূত্রটি কোথায়?












Click it and Unblock the Notifications