উপসর্গ ছাড়াই হঠাৎ মৃত্যু, করোনা সংক্রমণের নতুন ধারায় দিশেহারা অন্ধ্রপ্রদেশ
উপসর্গ ছাড়াই হঠাৎ মৃত্যু, করোনা সংক্রমণের নতুন ধারায় দিশেহারা অন্ধ্রপ্রদেশ
অন্ধ্রপ্রদেশের বিজয়ওয়াড়ার পুরানো সরকারি হাসপাতাল সংলগ্ন আর্ট সেন্টারে কর্মরত এক ডাক্তার সম্প্রতি শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যার সম্মুখীন হন। সূত্রের খবর, তাঁর বুকের এক্সরে-তে বেশ কিছু ধরা পড়ে এবং সেই একই দিনে তিনি করোনা আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ফলত অন্ধ্রপ্রদেশে উপসর্গ হীন করোনা আক্রান্তদের পরপর মৃত্যুর খবরে উদ্বেগ বাড়ছে প্রশাসনের।

উপসর্গ হীন করোনা আক্রান্তদের হঠাৎ মৃত্যুতে চাঞ্চল্য
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ঘটনার আগের দিনও করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসায় নিয়োজিত ছিলেন ওই ডাক্তার। এছাড়া অন্ধ্রপ্রদেশের পূর্ব-গোদাবরী জেলাতেও এরকম এক করোনা আক্রান্ত রোগীর খোঁজ পাওয়া যায়। সূত্রের খবর ওই ব্যক্তি কাকিনাড়ার একটি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার আধ ঘণ্টার মধ্যে মারা যান। পাশাপাশি ওই ব্যক্তির দ্বারা আরও ২০০ জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। তাছাড়াও অন্ধ্রপ্রদেশের ভিন্ন ভিন্ন প্রান্ত থেকে উপসর্গ হীন করোনা আক্রান্তদের হঠাৎ মৃত্যুর খবরে চাঞ্চল্য ছড়াচ্ছে।

রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি করছে করোনা ভাইরাস
চিকিৎসকদের একাংশের মতে, এই সকল উপসর্গ হীন করোনা আক্রান্তদের আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মনে হলেও ভিতরে ভিতরে অপূরণীয় ক্ষতি করে চলেছে করোনা ভাইরাস। প্রাণঘাতী এই ভাইরাস রক্তে অক্সিজেনের ঘাটতি যে উচ্চতায় নিয়ে যাচ্ছে, তাতে চিকিৎসকদের কাছে নূন্যতম সময়টুকু থাকছে না রোগীকে বাঁচানোর। এমনিতেই প্রত্যহ নতুন নতুন উপসর্গের ঠেলায় দিশেহারা চিকিৎসক থেকে গবেষক প্রত্যেকেই। তার মাঝে অন্ধ্রপ্রদেশে উপসর্গ হীন করোনা আক্রান্তদের মারা যাওয়ার ঘটনায় বাড়ছে আতঙ্ক, ছড়াচ্ছে গুজব।

রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমায় জটিলতা বাড়ছে, হচ্ছে হঠাৎ মৃত্যু
চিকিৎসকদের মতে, চিকিৎসার প্রভাব রোগীর শরীরে কেমন হবে তা নির্ভর করছে রোগীর রোগ প্রতিরোধী ক্ষমতার উপর। সেভেন হিলস হাসপাতালের ফুসফুস রোগ বিশেষজ্ঞ ডঃ ভামসি কৃষ্ণা জানিয়েছেন, "কিছু করোনা রোগীর রক্তে অত্যধিক কম মাত্রায় অক্সিজেন থাকা সত্ত্বেও কোনও উপসর্গ চোখে পড়ছে না। ফলত হাইপকসিয়া ও অন্যান্য শারীরিক জটিলতার কারণে হঠাৎ মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।"

উপসর্গের অভাবে চিকিৎসায় দেরি
অন্ধ্রপ্রদেশ বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স বিষয়ের অধ্যাপক ডঃ জি সুধাকর জানিয়েছেন, "করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত সমস্তরকমের তথ্যানুযায়ী, বিশ্বে করোনা আক্রান্ত অধিকাংশ রোগীই উপসর্গ হীন। কিন্তু এই উপসর্গের অনুপস্থিতির কারণেই দেরি হয়ে যাচ্ছে চিকিৎসায়, দেহের প্রয়োজনীয় অঙ্গগুলির অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে।" তিনি আরও জানিয়েছেন, "এই কারণেই হাসপাতালে ভর্তির সাথে সাথেই তাঁরা মারা যাচ্ছেন। তাছাড়া উপসর্গ না দেখা যাওয়ার কারণে এঁদের সংস্পর্শে সকলে আসছেন একরকম অজান্তেই, ফলত আক্রান্ত হচ্ছেন অধিক সংখ্যক মানুষ।"












Click it and Unblock the Notifications