ধরনা তুলে দিল অমিত শাহের পুলিশ, সাংবাদিক বৈঠক শেষ না করেই রাজঘাট ছাড়লেন অভিষেক
ধরনা কর্মসূচি আর অহিংস থাকল না। রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিন রীতিমতো হিংসায় পরিণত হল। তৃণমূলের নেতা- কর্মীদের রাজঘাট থেকে সরিয়ে দিল দিল্লি পুলিশ। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সাংবাদিক সম্মেলন পর্যন্ত সম্পূর্ণ শেষ করতে দেওয়া হয়নি। দলের কর্মী সমর্থকদের দিল্লি পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দিয়েছে। নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহের বিরুদ্ধে স্লোগান ওঠে তৃণমূল তরফে।
নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে বঞ্চনার প্রতিবাদ এনেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। সেই প্রতিবাদ দিল্লির মাটিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শুরু হয়। রাজঘাটে ধরনা কর্মসূচি বেলা একটার পর শুরু হয়েছিল। একাধিক প্ল্যাকার্ড হাতে ছিল মন্ত্রী, বিধায়ক, সাংসদদের। শুরু থেকেই এই কর্মসূচির থামানোর জন্য দিল্লি পুলিশ থেকে বার্তা দেওয়া হয়। শেষপর্যন্ত রাজঘাট থেকে তৃণমূলকে সরিয়ে দিল অমিত শাহের পুলিশ বাহিনী।

জানা গিয়েছে, বিপুল পরিমাণ পুলিশ বাহিনী দিল্লির রাজঘাটে আগে থেকেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে তৃণমূলের ধরনা কর্মসূচি শুরু হয়। এই কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে। এই দাবি বারবার দিল্লি পুলিশের থেকে আসতে থাকে। কিন্তু কর্মসূচি মেনেই ধরনা চালিয়ে যান তৃণমূল নেতৃত্ব। এরপর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। নরেন্দ্র মোদী সরকারের বিরুদ্ধে দিল্লির মাটি থেকে একের পর এক বার্তা দিতে থাকেন তিনি।
বাংলার বঞ্চনার কথা সাংবাদিকদের সামনে রাখছিলেন অভিষেক। আবাস যোজনার টাকা কেন্দ্রের বিজেপি সরকার আটকে রেখেছে। গত সপ্তাহে রাজ্যের দুই জেলায় দেওয়াল চাপা পড়ে মৃত্যুর ঘটনা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তুলে ধরেন। এছাড়াও ১০০ দিনের কাজের টাকা কেন্দ্রের তরফে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ। বাংলার সঙ্গে রীতিমতো বৈমাত্রেয় সুলভ আচরণ চলছে। এই অভিযোগ তোলা হয়। সেই সময় দিল্লির পুলিশ পৌঁছে যায়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেখান থেকে চলে যেতে অনুরোধ করা হয়। সাংবাদিক বৈঠক মাঝপথে বন্ধ করে দেন অভিষেক।

তিনি গাড়িতে উঠে ওই এলাকা ছেড়ে চলে যান। বাধ্য হয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যান্য সাংসদ, মন্ত্রী, বিধায়করাও রাজঘাট ছাড়েন। তবে সাধারণ কর্মী সমর্থকদের উপর পুলিশ চড়াও হয়েছে। এই অভিযোগ উঠতে থাকে। বিশাল সংখ্যক পুলিশ বাহিনী গোটা রাজঘাট চত্বর ঘিরে ফেলে। তৃণমূলের কর্মী সমর্থক ও সাধারণ মানুষদের এলাকা থেকে ছত্রভঙ্গ করা হয়। বহু মানুষ পুলিশের ভয়ে এদিক ওদিক ছুটতে থাকেন। তৃণমূল কর্মী সমর্থক ও পুলিশের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিও হয় বলে খবর।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের অধীনে রয়েছে দিল্লি পুলিশ। দেশের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। দিল্লিতে তৃণমূলের এই কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে আগাগোড়াই প্রশ্ন ছিল। সোমবার সকালে পুলিশের অতিসক্রিয়তা শুরুতেই চোখে পড়ে। তৃণমূল কর্মীদের বাস পৌঁছেছিল আম্বেডকর ভবনের সামনে। সেখানেই তাদের থাকা- খাওয়ার বন্দোবস্ত করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ পৌঁছে যায় সেখানে। কত সংখ্যায় তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীরা দিল্লিতে এসেছেন? তাদের পরিচয় সহ একাধিক তথ্য দিল্লি পুলিশ সেই সময় সংগ্রহ করে।
রাজঘাটের কর্মসূচিতে পুলিশ কি তাহলে বাধা হয়ে দাঁড়াবে? এই প্রশ্ন তখন থেকেই ঘুরছিল। কর্মসূচি শুরু হতেই পুলিশ সেটি বন্ধ করতে বলে। এমনই অভিযোগ তৃণমূলের। রাজঘাটে এদিন নিরাপত্তার কড়াকড়ি। প্রচুর বিশিষ্ট ব্যক্তি মহাত্মা গান্ধীকে শ্রদ্ধা জানাতে রাজঘাটে যান। সে কারণেই ওই এলাকায় কোনও আলাদা কর্মসূচি সম্ভব নয়। এই বার্তা পুলিশের তরফ থেকে বলা হয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications