নিজের বাড়িতে জরুরি মিটিংয়ে শীর্ষ নেতৃত্বকে তলব অমিত শাহের
নিজের বাড়িতে জরুরি মিটিংয়ে শীর্ষ নেতৃত্বকে তলব অমিত শাহের
চার রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের পর এই প্রথম শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সামনাসামনি মিটিংয়ে বসছেন অমিত শাহ। কোভিডের সেকেন্ড ওয়েভ চলাকালীন ভার্চুয়াল মিটিংয়ের উপর জোর দিয়েছিল বিজেপি৷ সংক্রমণ নিম্নমুখী হওয়ার পরই ন'জন সাধারণ সচিবদের (জেনারেল সেক্রেটারি) নিয়ে মিটিংয়ে বসছেন শাহ৷

কী নিয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ মিটিং?
নাম প্রকাশ করা যাবে না এই শর্তে দিল্লিঘনিষ্ট এক বঙ্গ-বিজেপি নেতা বলেন, অনেকগুলো বিষয় নিয়েই আলোচনা হবে এই মিটিংয়ে। মূলত বিভিন্ন রাজ্যের পর্যবেক্ষক এবং শীর্ষ নেতাদের অনেকের পারফরম্যান্সে খুশি নন শাহ। নেতাদের রিপোর্টকার্ড ও নির্বাচন পরবর্তী দলীয়কোন্দল নিয়ে আলোচনা হবে। তবে এছাড়াও পাঁচটি মূল বিষয়ের উপর ফোকাস করা হবে
১) সিএএ ও এনআরসি নিয়ে সারা দেশে জমি তৈরি করা ও দ্রুত সিদ্ধান্ত।
২) কোভিড পরিস্থিতিতে গ্রাউন্ড লেভেলে কতটা সফল ভাবে মানুষের প্রয়োজনে কাজ করতে পারছেন বিজেপি নেতারা।
৩) মোদী সরকারের উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলিকে আরও ভালোভালো মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা।
৪) পচিমবঙ্গে বিজেপি সমর্থকদের উপর নির্বাচন পরবর্তী হিংসা।
৫) আগামীর পরিকল্পনা।

কারা থাকছেন এই বৈঠকে?
ভূপেন্দ্র যাদব, সি টি রবি, দুশায়ন্ত গৌতম, ডি পুরান্ডেশ্বরী, অরুণ সিং, দিলীপ সাইকিয়া, কৈলাশ বিজয়বর্গিয়া এবং তরুণ চুঘের মতো বিজেপির সর্বভারতীয় সাধারণ সচিবরা এই বৈঠকে উপস্থিত থাকবেন৷ পাশাপাশি যে সব রাজ্য সদ্যই বিধানসভা নির্বাচন সমাপ্ত হয়েছে সেই রাজ্যগুলির পর্যবেক্ষকদের কয়েকজন উপস্থিত থাকতে পারেন এই বৈঠকে।

কবে হবে এই বৈঠক?
সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত খবর চলতি মাসের ৫ ও ৬ তারিখেই এই মিটিংয় হবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দিল্লিস্থিত বাড়িতে৷ এতদিন করোনার কারণে মূলত ওয়েবিনারেই মিটিং সারছিল গেরুয়া ব্রিগেড৷ তবে এবার যে যার রিপোর্টকার্ড নিয়ে ভাইস-প্রিন্সিপলের কাছে পৌঁছবেন বিজেপি নেতারা।
প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই সিএএ( সিটিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট) নিয়ে পদক্ষেপ শুরু করেছে কেন্দ্র। আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, মায়ানমার, পাকিস্তান প্রভৃতি দেশ থেকে ভারতে চলে আসতে বাধ্য হওয়া হিন্দু, বৌদ্ধ, শিখদের নাগরিকত্বের জন্য আবেদন শুরু করার নির্দেশ দিয়েছে মোদী সরকার৷ গত ২৮ মে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের পক্ষ থেকে জারী করা একটি নোটিশে বলা অ-মুসলিমদের ভারতীয় নাগরিকত্বের আবেদন করতে বলা হয়েছে৷ এই নোটিশের বিরোধিতা করে সুপ্রিমকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে উইনিয়ন মুসলিম লিগ। তাই দেশের বিভিন্ন প্রান্তের দায়িত্বে থাকা বিজেপি নেতাদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি বুঝে নিতে চাইছেন বিজেপির চাণক্য৷

বঙ্গ-বিজেপিতে ইস্তফা দিয়ে আরএসএস-এ ফিরতে পারেন কিছু বড় মুখ
একুশের নির্বাচনে তীরে এসে তরী ডুবেছে বঙ্গ-বিজেপির। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের সময় থেকে বঙ্গ জয়ের স্বপ্ন লালন করছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ং সেবক সংঘ এবং বিজেপি৷ যে বাঙালির হাতে বিজেপির গোড়া পত্তন, প্রায় ৬০ বছরের বেশি সময়েও তাঁর রাজ্যেই পদ্ম ফোটাতে পারেনি বিজেপি৷ এবার সেই সুযোগ ছিল বিজেপির কাছে৷ কিন্তু আশা জাগিয়েও এবারেও বঙ্গ বিজয় অধরা থেকেছে সংঘ পরিবারের৷ সূত্রের খবর তাই রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বে বড়সড় রদবদল আনতে চলছে আরএসএস। কোনভাবেই নাম প্রকাশ করা যাবে না এই প্রতিশ্রুতিতে রাজ্যস্তরের এক বিজেপি নেতা জানান, সংঘ থেকে বঙ্গ-বিজেপির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে এসেছিলেন এরকম একঝাঁক নেতাকে আবারও সংঘের প্রচার কাজে ফেরাতে পারে আরএসএস। যেখানে থাকতে পারে অনেক বড় নামও।
শেষ বিধানসভা নির্বাচনে বঙ্গ-বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের পারফরম্যান্সে একেবারেই খুশি নয় সংঘ। সূত্রের খবর আরএসএস থেকে বিজেপিতে পা রাখা কিছু নেতার বিরুদ্ধেও রাজ্যের একাধিক জায়গা থেকে অভিযোগ এসেছে কেশবভবনে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতার এক সংঘ ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতার বক্তব্য, RSS-এর আদর্শ থেকে সরে এসে দলে নিজেকেই 'হোলিয়ার দ্যান দাউ' ভাবতে শুরু করেছে কয়েকজন। তাদেরই আবার প্রচারের কাজে ফেরাতে চলেছে সংঘ৷
রদবদল হতে পারে বঙ্গ-বিজেপির সাংগঠনিক স্তরেও৷ অনেকদিনের আরএসএস নেতা বিদ্যুৎ মুখোপাধ্যায়কে রাজ্য বিজেপির বিশেষ পদে বসানো হতে পারে বলেও সূত্র মারফত জানা গিয়েছে। রাজ্য বিজেপিতে কিছু 'বিশেষ পদ' তৈরি করে দলের বড় পদগুলির স্বেচ্ছাচারী সিদ্ধান্তে লাগাম পরাতে চাইছে সংঘ৷ তবে শুধু বিদ্যুৎ মুখোপাধ্যায় নয়, বিশ্বহিন্দু পরিষদের সর্বভারতীয় সহ সভাপতি শচীন্দ্রনাথ সিনহার নামও শোনা যাচ্ছে বঙ্গ-বিজেপির অন্দরমহলে৷ আগামীদিনে ডঃ অনির্বাণ গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো শিক্ষিত ও ফ্রেশ মুখ বঙ্গ-বিজেপিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসুক এমনটাও চাইছেন অনেকে। এখন দেখার আগামীদিনে কোন পথে কাদের নিয়ে হাঁটে বঙ্গ-বিজেপি।












Click it and Unblock the Notifications