রামনবমীর হিংসা-সহ বিভিন্ন ইস্যুতে বৈঠক! মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের প্রশংসায় ভাসলেন অমিত শাহ
সারা দেশে বিভিন্ন জায়গায় রামনবমী নিয়ে হিংসার ঘটনা। যা নিয়ে চিন্তিত মুসলিম ধর্মীয় নেতারা দেখা করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে। সাম্প্রদায়িক সংঘর্ষের পাশাপাশি তাঁরা ঘৃণার মন্তব্য নিয়েও তাঁরা কথা বলেন। কথা হয়েছে ইউনিফর্ম সিভিল কোড নিয়েও।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করতে যাওয়া মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের প্রতিনিধিদলে ছিলেন জমিয়ত উলেমায়ে হিন্দের প্রধান মওলনা মাহমুদ মাদানি, সেক্রেটারি নিয়াজ ফারুকি, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডের সদস্য কামাল ফারুকি এবং অধ্যাপক আখতারুল ওয়াইসি।

প্রতিনিধি দলের সদস্য নিয়াজ ফারুকি সংবাদ মাধ্যমকে বলেছেন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তারা দেশের সামনে থাকা ১৪ টি চ্যালেঞ্জের কথা বলেছেন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং মহারাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হিংসার ঘটনাগুলিও উঠে আসে বলে জানিয়েছেন তিনি।
মুসলিম ধর্মীয় নেতারা যেসব ঘটনা অমিত শাহের সামনে তুলে ধরেছেন তার মধ্যে রয়েছে বিহারের নালন্দার ঘটনা। সেখানে একটি মাদ্রাসায় আগুন দেওয়া হয়েছিল। এছাড়াও মুসলিম ধর্মীয় নেতারা রাজস্থানের ভরতপুরের জুনায়েদ এবং নাসিরের হত্যাকাণ্ডের ঘটনা নিয়েও আলোচনা করেন।
এছাড়াও মুসলিম ধর্মীয় নেতারা বিভিন্ন সময় যেসব ঘৃণা-মূলক কথা বলেছেন, সেইসব কথাও অমিত শাহের সামনে তুলে ধরেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। উত্তরে অমিত শাহ নাকি বলেছেন, সব ধরনের মানুষ রয়েছে, তবে সবাইকে এক ধরে নেওয়াটা ঠিক নয়। অমিত শাহ আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, এইসব ঘটনার পিছনে সরকার জড়িত নয়।

মুসলিম ধর্মীয় নেতারা অমিত শাহকে বলেছেন, তাঁর (অমিত শাহ) নীরবতা মুসলিমদের হতাশার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এব্যাপারে অমিত শাহ উত্তরে বলেছেন, তিনি বিষয়টি দেখবেন। তাঁরা আরও বলেছেন, অমিত শাহর সঙ্গে সাক্ষাতে তারা কোনও নেতাকেই নিশানা করেননি। তাঁদের লক্ষ্য হল সহযোগিতার তৈরি করে দেশের পরিবেশ পরিবর্তন করা।
অমিত শাহের সঙ্গে মুসলিম ধর্মীয় নেতাদের আলোচনায় উঠে এসেছে একই লিঙ্গে বিয়ে এবং ইউনিফর্ম সিভিল কোডের বিষয়ও। এব্যাপারে মুসলিম ধর্মীয় নেতারা তাঁদের অবস্থান জানিয়েছেন। তবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এনিয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া জানাননি।
এবারের রাজনবমীতে যেসব হিংসার ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্যে অনেকগুলিই অবিজেপি শাসিত রাজ্যে ঘটেছে। পশ্চিমবঙ্গ-সহ এইসব ঘটনার ক্ষেত্রে বিজেপির তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, তাদের মিছিলে বাইরে থেকে হামলা করা হয়েছিল। পাল্টা বিরোধীরা বলছে, রাজনৈতিক লাভ উঠাতেই বিজেপি হিংসার আশ্রয় নিয়েছে।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে বৈঠকের পরে মুসলিম ধর্মীয় নেতারা বলেছেন, তাঁরা ভিন্ন অমিত শাহের সঙ্গে মিলিত হয়েছিলেন। কেননা অমিত শাহ সভায় যেভাবে বক্তৃতা দেন, তাঁর সঙ্গে সাক্ষাতাতে একেবারেই আলাদা ব্যবহার করেছেন। তাঁদের সব কথা তিনি শুনেছেন, কোনও কিছুই অস্বীকার করেননি অমিত শাহ, বলেছেন মুসলিম ধর্মীয় নেতারা। এই বৈঠককে তারা বরফ গলার বৈঠক বলেও বর্ণনা করেছেন।












Click it and Unblock the Notifications