কোভিড–১৯ পরিস্থিতির মাঝেই মহারাষ্ট্রে ভাইরাসের দু’বার ভোলবদল, উদ্বেগ বাড়ল রাজ্যের
কোভিড–১৯ পরিস্থিতির মাঝেই মহারাষ্ট্রে ভাইরাসের দু’বার ভোলবদল, উদ্বেগ বাড়ল রাজ্যের
দেশের কোভিড–১৯ ভাইরাসের জিনোম সিকোয়েন্সের দায়িত্বে থাকা বৈজ্ঞানির প্রতিষ্ঠানগুলি কেন্দ্রকে সতর্ক করে জানিয়েছে যে মহারাষ্ট্রে দ্বিগুণ মিউটেশন দেখা দিয়েছে বিকল্প ভাইরাসের কারণে, রাজ্যে করোনা বৃদ্ধির পেছনে এর ভূমিকা কতটা তাৎপর্যপূর্ণ তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

সতর্কতা জারি
ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিস কন্ট্রোলের (এনসিডিসি) অধীনে একটি প্রকল্পে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলি নয়া প্রজাতির করোনা ভাইরাস সহ দ্বিগুণ মিউটেশন নিয়ে উদ্বেগের বিকল্প (ভিওসি) নিয়ে সতর্কতা জারি করেছে। ভিওসির আওতায় ব্রিটেন, ব্রাজিল ও দক্ষিণ আফ্রিকার মানুষদের জনস্বাস্থ্য নির্ধারিত হয়। এই প্রকল্পের ওপর কাজ করছে এমন একটি সূত্র মারফৎ জানা গিয়েছে, এখনও পর্যন্ত ৭ হাজার নমুনা সিকোয়েন্স করা হয়েছে, যার মধ্যে ২০০টি নমুনা মহারাষ্ট্রের বিভিন্ন অংশ থেকে নেওয়া। প্রসঙ্গত, বেশ কিছু সময় ধরে দেশের পশ্চিমের এই রাজ্যটিতে ফের করোনা সংক্রমণ মাথা চাড়া দিয়ে দেখা দিয়েছে। সূত্রের খবর, 'মহারাষ্ট্রের নমুনাগুলিতে, ২০ শতাংশে দু'টি মিউটেশন পাওয়া গিয়েছে, ই৪৮৪কিউ এবং এল৪৫২আর।'

দুটি প্রজাতির ভাইরাস
সূত্রের খবর, 'যদিও এটা বলা খুব কঠিন যে এই প্রজাতির ভাইরাস রাজ্যে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির জন্য দায়ি, তবে এটি অন্য কোথায় প্রমাণিত যে ই৪৮৪কিউ নিরপেক্ষ অ্যান্টিবডি থেকে রক্ষা করতে পারে এবং এ৪৫২আর সংক্রমণ বাড়াতে সহায়তা করে বলে পরিচিত এবং এটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৃহৎভাবে যুক্ত।' প্রসঙ্গত, ভারতে ব্রিটেনের করোনা ভাইরাস সনাক্ত হওয়ার পর গত বছর ডিসেম্বরে কেন্দ্র দেশের বিভিন্ন অংশে এই ভাইরাস খোঁজার জন্য এনসিডিসির অধীনে ১০ টি প্রতিষ্ঠান নিয়ে কনসোর্টিয়াম ইনসাকোগ গঠন করেছিল, যারা জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের ওপর কাজ করছিল। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রে কেন্দ্রের ভাইরাসের ভূমিকাই উল্লেখ করেছে, যার কারণে রাজ্যে দ্বিতীয় ওয়েভ দেখা দেওয়া শুরু করেছে।

এপিডেমিওলজিস্টদের তদন্ত
সরকারিভাবে জানা গিয়েছে, এনসিডিসির অধীনে থাকা এপিডেমিওলজিস্টরা এটা নিয়ে তদন্ত করে দেখছেন যে এই ভাইরাসটি ক্লাস্টারগুলিতে ছড়িয়ে পড়ছে কিনা এবং সেগুলি আরও সংক্রমক কিনা। এপিডেমিওলজিস্টরা এও পরীক্ষা করবেন যে রোগীদের মধ্যে ক্লিনিকাল ফলাফলগুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য অবনতি রয়েছে কিনা, নয়া ভাইরাসের সঙ্গে পজিটিভ পাওয়া গিয়েছিল এবং পূর্বে সংক্রমিত লোকেরাও মিউট্যান্ট ভাইরাসে পুনরায় সংক্রমিত হয়েছেন কিনা তাও পরীক্ষা করে দেখা হবে।

মহারাষ্ট্রে দ্বিতীয় ওয়েভ
মহারাষ্ট্রে কোভিড-১৯-এর দ্বিতীয় ওয়েভ শুরু হয়েছে। রাজ্য সরকারকে সতর্ক করে কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষকের দল এমনটাই জানিয়েছে। যদিও কেন্দ্রের পক্ষ থেকে রাজ্যের গাফিলতির দিকে আঙুল তুলে বলা হয়েছে যে ট্র্যাক, টেস্ট, আইসোলেট করা ও সংস্পর্শে আসা মানুষদের কোয়ারেন্টাইনে পাঠানোর ক্ষেত্রে রাজ্য সক্রিয় ভূমিকা গ্রহণ করেনি এবং রাজ্যবাসী কোভিড-১৯ বিধিও যথাযথভাবে মেনে চলেননি।












Click it and Unblock the Notifications