কৃষক আন্দোলনের মাঝেই অনাস্থা ভোট হরিয়ানায়, 'কঠিন' পরীক্ষার সামনে বিজেপি সরকার
হরিয়ানায়-দিল্লি সীমান্তে গত ১০০ দিনেরও বেশি সময় ধরে কৃষক আন্দোলন চলছে। বিভিন্ন সময়ে এই আন্দোলন প্রতিহত করতে গিয়ে নিন্দার সম্মুখীন হয়েছে হরিয়ানার বিজেপি সরকার। এই আবহে আজ হরিয়ানা বিধানসভায় মনোহর লাল খট্টরের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিরুদ্ধে আনা হতে পারে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হতে পারে।

অনাস্থা প্রস্তাব আনবে কংগ্রেস
হরিয়ানায় প্রধান বিরোধী দল কংগ্রেস সম্প্রতি দাবি করে যে বিজেপি সরকারকে সমর্থন জানানো দুই নির্দল বিধায়ক নিজেদের সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। যদিও অঙ্ক কষে দেখলে জানা যাবে তাতে বিজেপি সরকার সমস্যায় পড়বে না। তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মত, বিজেপি সরকারকে অপ্রস্তুত করতেই এই প্রস্তাব আনা হতে পারে কংগ্রেসের তরফে।

সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা কি রয়েছে?
বিজেপি এবং জেজেপির জোট সরকার ইতিমধ্যেই দাবি করেছে যে তাদের সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠতা এখনও বজায় রয়েছে। কংগ্রেস অযথা চাপ সৃষ্টি করতেই নাকি এভাবে অনাস্থা প্রস্তাব পেশ করা হবে। এদিকে কংগ্রেসের দাবি, বিধায়কদের সমর্থন প্রত্যাহার এটা প্রমাণ করে যে কেন্দ্রের আনা কৃষি আইনকে প্রত্যাখ্যান করেছেন তাঁরা। এদিকে বহু জেজেপি বিধায়কও এই অভিযোগ করেছেন যে নিজেদের কেন্দ্রে তাঁরা কৃষকদের দ্বারা উপেক্ষিত হচ্ছেন।

হরিয়ানা বিধানসভার সমীকরণ
উল্লেখ্য ৯০ আসন বিশিষ্ট হরিয়ানা বিধানসভায় বিজেপির ৪০ জন বিধায়ক রয়েছে। তাছাড়া জোট সঙ্গী জেজেপির বিধায়ক সংখ্যা ১০। এই আবহে অনাস্থা প্রস্তাব আনা হলেও বিজেপি-জেজেপি সরকার সুরক্ষিত থাকবে। এদিকে কংগ্রেসের অভিযোগ, সরকারে থাকা বহু বিধায়কই নাকি সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ পোষণ করছেন। সেই বিধায়করা সরকারের বিরুদ্ধে ভোট দেবেন, এই আশাতেই কংগ্রেস অনাস্থা প্রস্তাব আনতে চলেছে।

কী বলছেন মুখ্যমন্ত্রী?
কংগ্রেসের বক্তব্য, 'অনাস্থা ভোট হলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে কোন বিধায়ক কোন দিকে ঝুঁকে। সরকারের জনসাধারণ বিরোধী সিদ্ধান্তের জেরে মানুষ তিতি বিরক্ত।' এদিকে এই প্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মনোহর লাল খট্টরের দাবি, 'হরিয়ানা সরকার কোনও হুমকির সম্মুখীন নয়। পাঁচ বছরের মেয়াদ অনায়াসে পূর্ণ করবে।'

কোন পথে দুষ্মন্ত চৌতালা
এদিকে কয়েকদিন আগেও জেজেপি প্রধান তথা হরিয়ানার উপমুখ্যমন্ত্রী দুষ্মন্ত চৌতালা দাবি করেছিলেন, যদি কৃষকদের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নিশ্চিত না করতে পারেন, তাহলে তিনি সরকার থেকে পদত্যাগ করবেন। যা চাপ সৃষ্টি করেছিল বিজেপি সরকারের উপর। অবশ্য পরবর্তীতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে দিল্লিতে দেখা করে দুষ্মন্ত দাবি করেন, সরকার সুরক্ষিত রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications