মিজোরাম সংঘাতের মধ্যেই নাগাল্যান্ডের সঙ্গে বড় চুক্তি অসমের! সীমান্ত থেকে বাহিনী সরাল দুই রাজ্যে
একদিকে অসম ও মিজোরামের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে, অন্যদিকে নাগাল্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে সমস্যা মেটাল অসম। শনিবার দুই প্রতিবেশী রাজ্যের মধ্যে চুক্তি হওয়ার পরই সীমানা থেকে সরিয়ে নেওয়া হল বাহিনী। দুই রাজ্যই তাদের বাহিন
একদিকে অসম ও মিজোরামের মধ্যে দ্বন্দ্ব চরমে, অন্যদিকে নাগাল্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে সমস্যা মেটাল অসম। শনিবার দুই প্রতিবেশী রাজ্যের মধ্যে চুক্তি হওয়ার পরই সীমানা থেকে সরিয়ে নেওয়া হল বাহিনী। দুই রাজ্যই তাদের বাহিনী সরিয়ে নিয়েছে। এর ফলে দুই রাজ্যের অশান্তি কিছুটা স্তিমিত হল।

শান্তিস্থাপনে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন নাগাল্যান্ডের মুখ্যমন্ত্রী নেইফু রিওকে। এই চুক্তিকে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। শনিবার টুইট করে এই খবর জানিয়েছেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত বিশ্বশর্মা।
তিনি টুইটে লিখেছেন, 'অসম ও নাগাল্যান্ডের সীমান্তে শান্তি ফেরাতে বড়সড় পদক্ষেপ নেওয়া হল। দুই রাজ্যের মুখ্য সচিবেরা একটি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন। দুই রাজ্যই তাদের সীমানা থেকে বাহিনী সরিয়ে নিয়েছে।' গত বৃহস্পতিবারই নাগাল্যান্ড ইস্যুতে এই পদক্ষেপের প্রশংসা করেছেন তিনি।
তিনি লিখেছেন, 'আমাদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ। নেইফু রিও-কে এমন সীমানায় শান্তি ফেরানোর ক্ষেত্রে পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।' হেমন্ত বিশ্ব শর্মা আরও উল্লেখ করেন, সীমানায় শান্তি স্থাপনের ক্ষেত্রে অসম প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।
উত্তর-পূর্বের অর্থনীতি ও সামাজিক পরিস্থিতির স্বার্থে এই শান্তি স্থাপনে তিনি জোর দেবেন বলে জানিয়েছেন। অসমের মুখ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে বিতর্কিত অঞ্চল চিহ্নিত করা হবে। দুই রাজ্য যে সমঝোতায় পৌঁছেছে, তা ঐতিহাসিক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
আজ, ৩১ জুলাই একটি ভার্চুয়াল মিটিং-এ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দুই রাজ্যের মুখ্যসচিব। জানখানা নালা এলাকা থেকে সরানো হয়েছে বাহিনী, দেসোই উপত্যকার অভয়ারণ্য থেকেও সরে যাচ্ছে বাহিনী। সীমানায় থাকা কুঁড়েঘরগুলিও আস্তে আস্তে সরিয়ে দেওয়া হবে।
সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ভবিষ্যতে অসম ও নাগাল্যান্ড দুই রাজ্যই এই সীমানায় নজর রাখবে। অসমের বন দফতরের কর্মীরাও নজরদারি চালাবেন আগের মতো।
সম্প্রতি জানখানা নালায় একটি সেতি তৈরি করেছিল নাগাল্যান্ড, সেটাও ভেঙে ফেলা হচ্ছে, যাতে অবৈধভাবে কেউ যাতায়াত করতে না পারেন। অভয়ারণ্যে, যাতে মানুষজন না প্রবেশ করেন, তার জন্যই দ্রুত ভেঙে ফেলা হবে ব্রিজ।
উল্লেখ্য, গত কয়েকদিন আগে অসম-মিজোরাম সীমান্ত সংঘাত ঘিরে চলে গোলাগুলি। এই ঘটনাতে ছয়জন ছয়জন অসম পুলিশের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার পর থেকেই অভিজগ-পাল্টা অভিযোগের পালা শুরু হয়। মিজোরাম এবং অসম দুই রাজ্যে একে অপরকে গুলি চালানোর জন্যে দায়ি করেছে। এর মধ্যে অসমের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু করেছে মিজোরাম।
ফলে ক্রমশ চড়ছে উত্তেজনার পারদ। অন্যদিকে এই পরিস্থিতিতে নাগাল্যান্ডের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করে সমস্যা মেটাল অসম। উল্লেখ্য, অসমের সঙ্গে একাধিক রাজ্যের সীমান্ত নিয়ে সংঘাত রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications