চিনকে বিদায় জানালেও ভারতমুখী হচ্ছে না বহু সংস্থাই! কেন জানেন? চাঞ্চল্যকর দাবি মার্কিন রাষ্ট্রদূতের
America-India: ট্রাম্পের (Donald Trump) পর এবার শুল্ক নিয়ে ভারতের সমালোচনা শোনা গেল মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরিক গার্সেটির (US Ambassador to India, Eric Garcetti) বক্তব্যেও। তিনি বলেন, অবিলম্বে ভারতের উচিৎ শুল্ক কমানো। বর্তমানে এই শুল্কের হার এতটাই বেশি যে বহু গ্লোবাল সংস্থা ভারতে আসছে না। গত কয়েকদিন আগেই ভারতের শুল্ক নীতি কড়া সমালোচনা করেন মার্কিন ভাবী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
কার্যত এই ইস্যুতে নরেন্দ্র মোদী সরকারকে চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দেন। বলেন, কর নিলে কর দিতে হবে। সম্প্রতি আমেরিকার একাধিক পণ্যের উপর কর আরোপ করে ভারত। আর এরপরেই কড়া ভাষায় ভারতের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। আর সেই একই বক্তব্য করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

'ইন্ডিয়া টুডে'কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গারসেটি বলেন, প্রেসিডেন্ট-নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্প কিছু ক্ষেত্রে অবশ্যই ঠিক। একই সঙ্গে ভারতের শুল্ক নীতি ট্রাম্পের সমালোচনার কথাও এদিন উঠে আসে গারসেটির বক্তব্যে। সর্বভারতীয় ওই সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এরিক গার্সেটির (Eric Garcetti) ভারত-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্কের কথা তুলে ধরেন।
শুধু তাই নয়, নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করা সত্ত্বেও যেভাবে ভাবী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভারতের সমালোচনা করেছেন তাও এদিন ওই সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ভাবী প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কিছু ক্ষেত্রে সঠিক। তবে আগামীদিনে ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে যাতে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।
তাঁর কথায়, বাণিজ্য নিয়ে যে বিতর্ক আছে তা মেটানোর চেষ্টা করবে, আর তা মিটবে আলোচনার মাধ্যমেই। গার্সেটির কথায়, চিনের উপর যে আস্থা তার বদলে যদি আমরা অন্য কাউকে আনতে চাই তাহলে সেটা ভারতই। ওষুধ থেকে সাস্থ্য, ইলেকট্রনিক্স সবক্ষেত্রেই ভারতের উপর ভরসা করার কথাই বলেন। তবে গার্সেটি মনে করেন, ভারতের ট্যারিফের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা উচিত।
তিনি বলেন, অনেক দেশ চিন থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে কিন্তু ভারতে আসছে না, কারণ ট্যারিফ অনেক বেশি। তিনি এই প্রসঙ্গে ভারতের কর্মীদের বুদ্ধিমত্তা, ট্রেনিং, ট্রেডমার্ক প্রোটেকশনের কথা উল্লেখ করেছেন। সম্প্রতি ডোনাল্ড ট্রাম্পের মুখে ভারতের অধিক শুল্কের কথা শোনা গিয়েছে। গত বছর নভেম্বরের নির্বাচনের আগে এক বক্তব্য পেশ করতে গিয়ে এ কথা বলেন ট্রাম্প।
তিনি বলেন, "আমেরিকাকে সম্পদশালী বানানোর যে পরিকল্পনা আমার আছে, তার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হল পারস্পরিকতা। আর আমরা সাধারণত শুল্কনীতি বদল করি না। আমি সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছি। ভ্যান ও ট্রাক ব্যবহারের ক্ষেত্রে আমরা কোনও চার্জ নিই না। আর চিন আমাদের থেকে ২০০ শতাংশ ট্যারিফ নেয়।" এরপরই তিনি বলেন, ব্রাজিলও অধিক শুল্ক নেয়, আর সবথেকে বেশি শুল্ক নেয় ভারত। এরপরই অবশ্য ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসা করেন তিনি।
ইতিমধ্যেই আমেরিকা রফতানি শুল্ক বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল। তবে ট্যারিফ নিয়ে ভারত চিন্তিত নয় বলে জানিয়েছেন তিনি। গত বছর মুম্বইয়ের এক অনুষ্ঠানে পীযূষ গোয়েল বলেন, আমি বিশ্বাস করি, ভারতকে এখনও বেশিরভাগ দেশই বিশ্বাসযোগ্য পার্টনার হিসেবে মনে করে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও জানিয়েছেন, ট্রাম্পের কথায় বোঝা যায় যে তিনি ভারতে ব্যবসা বিস্তার করতে আগ্রহী।












Click it and Unblock the Notifications