স্ত্রীর বোরখা না পরা মানসিক নিষ্ঠুরতা নয়, স্বামীর ধারণাকে খারিজ এলাহাবাদ হাইকোর্টের
বিবাহবিচ্ছেদের মামলায় বড় নির্দেশ দিল উত্তরপ্রদেশের এলাহাবাদ হাইকোর্ট। স্ত্রীর বোরখা না পরা মানসিক নিষ্ঠুরতার ভিত্তিতে বিবাহ বিচ্ছেদের অধিকার দিতে পারে বলে স্বামীর যুক্তিকে কার্যত খারিজ করল আদালত। বিচারপতি সৌমিত্র দয়াল সিং এবং দোনাদি রমেশের একটি বেঞ্চ মানসিক নিষ্ঠুরতা এবং পরিত্যাগের ভিত্তিতে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন খারিজ করার বিরুদ্ধে স্বামীর দায়ের করা মামলার শুনানি করেন এদিন। আর সেই মামলাতেই ডিভিশন বেঞ্চ স্বামীর যুক্তি মানতে অস্বীকার করেছে। অবশ্য আদালত বিবাহ বিচ্ছেদের আবেদন গ্রহণ করেছে।
বিচারপতি সিং-এর নেতৃত্বে বেঞ্চ, নিষ্ঠুরতার ইস্যুতে স্বামীর আবেদন, স্ত্রীর স্বাধীন মনের যুক্তি মানতে অস্বীকার করেছেন। স্বামী অভিযোগ করেছিলেন, তাঁর স্ত্রী নিজের ইচ্ছামত বাজারে এবং অন্যান্য জায়গায় গিয়েছেন বিনা বোরখায়। সেই পরিপ্রেক্ষিতে বেঞ্চ বলেছে, যদি স্ত্রী নিজে কাজ করে, অবৈধ বা অনৈতিক সম্পর্ক না রেখে একা বা কোন ব্যক্তির সাথে ভ্রমণ করে, তাহলে এই ধরনের কর্মকে নিষ্ঠুরতা বলা যায় না। একজন স্ত্রীয়ের নিজস্ব স্বাধীনতা রয়েছে তাঁর পোশাকের বিষয়ে।

এলাহাবাদ হাইকোর্ট নিষ্ঠুরতার বিষয়ে স্বামীর দেওয়া যুক্তি গ্রহণ করেনি। আদালত বলেছে, স্ত্রীর নিজের ইচ্ছায় ঘোরাফেরা, বাজারে যাওয়া, অন্যের সঙ্গে দেখা করা, বোরখা না পরা ইত্যাদি স্বামীর দাবি গুলিকে মানসিক নিষ্ঠুরতা বলে অভিহিত করা যায়। এর জন্য স্ত্রীকে দায়ী করা হচ্ছে, যা মেনে নেওয়া কঠিন। আদালত জানিয়েছে, উভয় পক্ষই সুশিক্ষিত। আবেদনকারী স্বামী একজন যোগ্য ইঞ্জিনিয়ার, আর বিবাদী স্ত্রী একজন সরকারি স্কুলের শিক্ষিকা।
হাইকোর্ট বলেছে যে জীবনের প্রতি উপলব্ধির পার্থক্য ব্যক্তির পক্ষ থেকে বিভিন্ন আচরণের জন্ম দিতে পারে। উপলব্ধি এবং আচরণের এই ধরনের পার্থক্যকে অন্য ব্যক্তির আচরণ পর্যবেক্ষণকারী অন্য ব্যক্তির পক্ষ থেকে নিষ্ঠুরতা হিসাবে বর্ণনা করা যেতে পারে। এই জাতীয় ধারণাগুলি নিখুঁত নয় বা এমন নয় যেগুলি নিজেরাই নিষ্ঠুরতার অভিযোগের জন্ম দেয়।
আদালত বলেছে যে, যতক্ষণ না পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রমাণিত হচ্ছে, ততোক্ষণ এগুলিকে নিষ্ঠুরতা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া যায়না। বিচারপতি সৌমিত্র দয়াল সিংয়ের নেতৃত্বে একটি বেঞ্চ স্ত্রীর অপমানের আবেদনে কাজ না করার পারিবারিক আদালতের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে এদিন।
বেঞ্চ বলেছে যে আবেদনকারী স্বামী, তাঁর স্ত্রী-এর বিরুদ্ধে অভিযুক্ত ব্যভিচারের কাজ সম্পর্কে কোনও চূড়ান্ত প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। এ ছাড়া স্ত্রীও কোনো প্রত্যক্ষ বা নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পেশ করতে পারেননি। সেক্ষেত্রে তিনিও যদি দাবি করেন স্বামী সম্পূর্ণ ভুল কথা বলছেন, তাও সম্পূর্ণ ভাবে গ্রহণ যোগ্য হবে না। তাই আপাতত উভয়পক্ষের কথা বিবেচনা করে বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা গ্রহণ করেছে আদালত। তবে স্বামীর আনা বোরখা না পড়ার যুক্তিকে মান্যতা দেয়নি এলাহাবাদ হাইকোর্ট।












Click it and Unblock the Notifications