সিএএ-এনআরসি বিক্ষোভ দমনে যোগী সরকারের পদক্ষেপকে প্রশ্ন এলাহাবাদ হাইকোর্টের
নাগরিকত্ব সংশোধন আইন ও এনআরসি বিরোধী বিক্ষোভ ঠেকাতে উত্তরপ্রদেশ সরকারের পদক্ষেপ নিয়ে প্রশ্ন তুলল এলাহাবাদ হাইকোর্ট। পাশাপাশি আলিগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটিতে পুলিশি কার্যকলাপ প্রসঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে এলাহাবাদ হাইকোর্ট। রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও যোগী আদিত্যনাথের সরকারকে প্রশ্ন করেছে হাইকোর্ট।

প্রমাণ ছাড়া গ্রেফতার করায় ধৃতদের ছেড়ে দিতে বাধ্য হয় পুলিশ
বছর ঘুরতেই ছেড়ে দেওয়া হয় হিংসার ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া বেশ কয়েকজনকে। কোনও প্রমাণ না মেলায় ১০ দিন পুলিশ হেফাজতে থাকার পর ছাড়া হয় মুজফ্ফরনগরের ৪ জনকে। চারজনকেই সিএএ বিরোধী বিক্ষোভে হিংসা ছড়ানোর দায়ে গ্রেফতার করেছিল উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। কিন্তু আতিক আহমেদ (৩০), মহম্মদ খালিদ (৫৩), শোয়েব খালিদ (২৬) ও এক সরকারি দফতরের ক্লার্ককে গ্রেফতার করেও ছেড়ে দিতে বাধ্য হল যোগী সরকারের পুলিশ। এরপরেই প্রশ্ন ওঠে সঠিক প্রমাণ না থাকলে তাদের গ্রেফতার কেন করা হয়েছিল। আর তা করা হলেও ১০ দিন কোন ভিত্তিতে তাদের আটকে রাখা হয়েছিল!

হিংসার ছবি দেখা যায় রাজ্য জুড়ে
উত্তরপ্রদেশে গত কয়েকদিনে একের পর এক জায়গায় দেখা গিয়েছে ব্যাপক হিংসার ছবি। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন ইস্যুতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সঙ্গে রীতিমতো তোলপাড় হয় যোগীরাজ্য। এমন এক পরিস্থিতিতে যোগী আদিত্যনাথ নির্দেশ দেন যে, যারা হিংসায় জড়িত তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে সেই সম্পত্তি থেকে পাওয়া অর্থ দিয়ে সরকারি সম্পত্তি নষ্টের ক্ষতিপূরণ তোলা হবে।

রাজ্যে হিংসা বরদাস্ত করবে না বলে জানায় সরকার
যোগী সরকার জানিয়ে দেয় কোনও মতেই রাজ্যে হিংসা বরদাস্ত করবে না। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে খতিয়ে দেখা হবে কারা হিংসায় যুক্ত। তাদের সনাক্ত করেই চলবে সম্পত্তি ক্রোক করার প্রক্রিয়া। মূলত যে সমস্ত ৬০ টি দোকানের সামনে জমায়েত বেশি হয়েছে এবং তা সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গিয়েছে , সেই দোকান গুলিকেই সন্দেহের তালিকায় রেখেছে সরকার।

মোট ১৬ জনের মৃত্যু হয় এই হিংসার ঘটনায়
এর আগে সিএএ বিরোধী হিংসার আগুন জ্বলে কানপুর, লখনউ, মুজাফফরনগর, আলিগড়। এই জায়গিগুলি থেকে একের পর হিংসার ছবি উঠে আসে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয় বাস ও সরকারী সম্পত্তি। সরকারি মতে, উত্তরপ্রদেশে একের পর এক হিংসায় ২০ টি মটরসাইকেল, ১০ টি গাড়ি, ৩ টি বাস, ৪ টি মিডিয়া ওবি ভ্যান জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে। এদিকে সিএএ-র প্রতিবাদে উত্তরপ্রদেশে গতমাসে ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এই ১৬ জনের মধ্যে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে গুলিতে।

পুলিশের গ্রেফতারি নিয়ে বিতর্ক
উত্তরপ্রদেশে সিএএ বিরোধী বিক্ষোভে জড়িত থাকায় করা হয়েছে সাড়ে চার হাজার জনকে। নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে উত্তর প্রদেশের একাধিক শহরে আগুন জ্বলেছে হিংসার। আর তার জেরেই গ্রেফতার করা হয়েছে ৭০৫ জনকে। এদিকে হিংসায় জড়িত থাকায় এফআইআর-এ নাম রয়েছে ৯৩ বছর বয়সী বৃদ্ধে থেকে ৬ বছর আগে মৃত ব্যক্তিরও।












Click it and Unblock the Notifications