সব যুদ্ধাপরাধীই তাঁর সন্তান! নিজের ছেলের মুক্তির প্রস্তাব ফিরিয়েছিলেন ফিল্ড মার্শাল কেএম কারিয়াপ্পা
যুদ্ধ অপরাধী অভিনন্দন ভার্থামান। তাঁকে মুক্ত করতে চলছে নানা পরিকল্পনা।১৯৬৫-র ভারত-পাক যুদ্ধে তৈরি হয়েছিল এমনই পরিস্থিতি।যুদ্ধ অপরাধী হিসেবে বন্দি করা হয়েছিল স্কোয়াড্রন লিডার বছর ৩৬-এর কেসি কারিয়াপ্পা
যুদ্ধ অপরাধী অভিনন্দন ভার্থামান। তাঁকে মুক্ত করতে চলছে নানা পরিকল্পনা। ১৯৬৫-র ভারত-পাক যুদ্ধে তৈরি হয়েছিল এমনই এক পরিস্থিতি। যুদ্ধ অপরাধী হিসেবে বন্দি করা হয়েছিল স্কোয়াড্রন লিডার বছর ৩৬-এর কেসি কারিয়াপ্পাকে। শুধু নিজের ছেলের মুক্তির প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন দেশের প্রথম ফিল্ড মার্শাল কেএম কারিয়াপ্পা।

১৯৬৫-র ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের শেষ দিন। যুদ্ধ বিমানে ছিলেন কেসি কারিয়াপ্পা। সেটিকে সীমান্তে গুলি করে নামায় পাকিস্তান। কিছুক্ষণ পরে বিমানের ধ্বংসাবশেষ থেকে
বের হন কেসি কারিয়াপ্পা। বন্দি হিসেবে তাঁকে নিয়ে যায় পাকিস্তান সেনা। বন্দি অবস্থায় ভারতীয় ওই সেনা অফিসার নিজের নাম, র্যাঙ্ক, ইউনিট নম্বর দিয়েছিলেন পাকিস্তানের সেনাকে। যা পৌঁছে গিয়েছিল রাওয়াপিন্ডিতে পাকিস্তানের সেনার সদর দফতরে।
ঘন্টা খানেকের মধ্যে যেখানে সেই সেনা অফিসারকে বন্দি রাখা হয়েছিল সেখানে ছুটে যান সেনা আধিকারিকরা। বন্দি সেনা অফিসারের কাছে জানতে চান, তিনিই ফিল্ড মার্শাল কেএম কারিয়াপ্পার ছেলে কিনা। কেএম কারিয়াপ্পা স্বাধীন ভারতের প্রথম সেনাপ্রধান। তাঁকে তিন বাহিনীর প্রধান হিসেবেও নিয়োগ করা হয়েছিল। কেসি কারিয়াপ্পা জানান, তিনিই কেসি কারিয়াপ্পার ছেলে। কেসি কারিয়াপ্পা সেসময় জানতেও পারেননি কী ঘটছে এর পিছনে। তবে তিনি ভয়ে ছিলেন, যে তাঁর গ্রেফতারের কথা পরিবারকে জানানো হয়নি।
যদিও এর বাইরের ঘটনা ইতিহাস। পাকিস্তানের তৎকালীন সামরিক শাসক জেনারেল আয়ুব খান রেডিওতে ঘোষণা করেন কেসি কারিয়াপ্পাকে গ্রেফতার করেছে তাদের বাহিনী। তিনি নিরাপদেই রয়েছেন। অন্যদিকের ঘটনা হল, ফিল্ড মার্শাল কারিয়াপ্পা ১৯৪৭ সালের আগে ব্রিটিশ ভারতে আয়ুব খানের বস ছিলেন। আয়ুব খান কেএম কারিয়াপ্পাকে সম্মানও করতেন। তাঁরই নির্দেশে নয়াদিল্লিতে পাকিস্তানের হাইকমিশনার ব্যক্তিগতভাবে কেএম কারিয়াপ্পার সঙ্গে দেখা করেন। ছেলের সম্পর্কে জানান। একইসঙ্গে আয়ুব খানের প্রস্তাবের কথাও জানান। যদিও ফিল্ড মার্শাল কারিয়াপ্পা সঙ্গে সঙ্গে সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। আয়ুব খান কেসি কারিয়াপ্পাকে মুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কিন্তু তাতে রাজি ছিলেন না কেসি কারিয়াপ্পার বাবা ফিল্ড মার্শাল কেএম কারিয়াপ্পা। তিনি বলেন, গ্রেফতার হওয়া সব ভারতীয় সেনাই তাঁর সন্তান।
অভিনন্দন ভার্থামানকে গ্রেফতার হওয়ার পর তৈরি হওয়া পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলছিলেন ৮০ বছরের কেসি কারিয়াপ্পা। সেই সময় নিজের বাবার কথাও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর কাছে( কেএম কারিয়াপ্পা) নিজের ছেলে এবং অন্য সেনা জওয়ান, সবাই এক। এমন কী আয়ুব খান ছিলেন তাঁর জুনিয়র এবং কাছের। তিনি নিজের ছেলের আগে মুক্তি চাননি। কেসি কারিয়াপ্পা জানিয়েছেন, পরে অন্যদের সঙ্গে তাঁকেও মুক্তি দেওয়া হয়।












Click it and Unblock the Notifications