রাজ্যের দক্ষিণেই লুকিয়ে 'জিয়নকাঠি', মাইসোর থেকে মান্ড্যতেই নজর সব দলের
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে কর্নাটকের দক্ষিণের জেলাগুলিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই সব জেলায় মূলত জনতা দল সেক্যুলার বা জেডিএস ও কংগ্রেসেরই প্রভাব বেশি ছিল। একেবারে দক্ষিণের চামারাজানগর থেকে শুরু করে মাইসোর, মান্ড্য, রামনগরম জেলাগুলি জুড়েই ব্যাপক প্রভাব ছিল প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবগৌড়ার।
শুধু তাই নয়, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্ধারামাইয়া, কর্নাটকের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ডি কে শিবকুমারের মতো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও ওই অঞ্চলে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।

রাজ্যের এই দক্ষিণ অংশে মূলত প্রভাব বশি ভোক্কালিগাদের। আগারারিয়ান সম্প্রদায়ের মানুষই এই সব অঞ্চলে বেশি। বর্তমানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা দেবগৌড়ার পুত্র এইচডি কুমারস্বামীর দায়িত্বে রয়েছে এইসব অঞ্চল। তবে ভোক্কালিগা সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি ডি কে শিবকুমারকে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে কংগ্রেসের প্রভাব ছাপিয়ে যেতে পারে জেডিএস-কে।
যেহেতু পরপর বেশ কয়েকটি নির্বাচনে কংগ্রেস ও জেডিএসের ফলাফল ভাল, তাই বিজেপির জন্যও একটা বড় চ্যালেঞ্জ এই অঞ্চলে সামনে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে। দক্ষিণ কর্নাটকে সব দলই বিশেষ নজর দিচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

বিজেপি আগেও একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছিল কর্নাটকে। তবে ২০০৮ ও ২০১৯ সালে অপারেশন কমলায় বিরোধী দল থেকে সদস্য এনে, তবেই সরকার গঠন করতে পেরেছিল বিজেপি। এবার আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে দক্ষিণের ওই অংশে পরপর প্রচার কাজ শুরু করেছে বিজেপি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ থেকে শুরু করে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এসেছেন ওই ওই এলাকার জেলাগুলিতে। সম্প্রতি বেঙ্গালুরু-মাইসোর এক্সপ্রেসওয়ের উদ্বোধনও করেছেন তাঁরা। চলতি সপ্তাহেই মান্ড্য থেকে প্রচার কাজ শুরু করেছেন উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ।

ওই অঞ্চলে বিজেপির তেমন কোনও বড় নেতাও নেই। এবারের নির্বাচনে মন্ত্রী ভি সোমান্নাকে বিজেপি টিকিট দিয়েছে সিদ্ধারামাইয়ার বিরুদ্ধে। আর এক মন্ত্রী আর অশোককে দাঁড় করানো হয়েছে শিবকুমারের বিরুদ্ধে। তবে এই দুটো ক্ষেত্রের বিজেপির জন্য ঝুঁকি রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সাত মাস আগে থেকেই এই অংশে ভার্চুয়াল প্রচার শুরু করা হয়েছে সব দলের তরফে। ভারত জড়ো যাত্রার অধীনে কর্নাটকে গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর গিয়েছিলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। মাইসোর, মান্ড্য, টুমকুরের মতো জেলায় গিয়েছিলেন তিনি। অর্থাৎ দক্ষিণের মাটি ছাড়তে রাজি নয় কোনও দলই।












Click it and Unblock the Notifications