বাজেট অধিবেশন ঘিরে সর্বদলীয় বৈঠক, বিরোধীদের স্বচ্ছতার দাবি
নতুন বাজেট অধিবেশন সামনে রেখে মঙ্গলবার সংসদ ভবনে বসল সর্বদলীয় বৈঠক। প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সরকারের পাশাপাশি বিরোধী শিবিরের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। মূল উদ্দেশ্য পুরো অধিবেশন যেন শান্তিপূর্ণ ও ফলপ্রসূভাবে চলতে পারে।
সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু, বিজেপির শীর্ষ নেতারা, কংগ্রেসের জয়রাম রমেশ.সহ একাধিক রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা বৈঠকে মত বিনিময় করেন।

আগামী বুধবার রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর ভাষণের মধ্য দিয়ে শুরু হবে অধিবেশনের আনুষ্ঠানিকতা। ২৯ জানুয়ারি পেশ হবে অর্থনৈতিক সমীক্ষা। আর ১ ফেব্রুয়ারি রবিবার দিন সংসদে বাজেট পেশ করবেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন, এটি হবে তাঁর নবম ধারাবাহিক বাজেট। প্রথম দফার অধিবেশন চলবে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। বিরতি শেষে ৯ মার্চ থেকে ২ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে দ্বিতীয় দফা।
তবে বৈঠকেই বিরোধীরা সরব হয় সরকারের বিরুদ্ধে। কংগ্রেস নেতাদের অভিযোগ বাজেট অধিবেশনে কোন কোন বিল আসছে সে সম্পর্কে আগাম কোনও তালিকা দেয়নি কেন্দ্র। কংগ্রেসের কে. সুরেশ জানান, সরকারের এই ব্যাখ্যা 'অসন্তোষজনক' ও 'অস্বচ্ছ'।
বৈঠক শেষে কিরেন রিজিজু স্পষ্ট জানান, এমজিএনআরজিএ বাতিল করে প্রস্তাবিত ভিবি গ্রাম জি আইন সরকার প্রত্যাহার করবে না। তাঁর কথায়, "একবার দেশ ও সংসদের সামনে কোনও আইন আনা হলে পেছনে ফেরার সুযোগ নেই।"
সরকারের অগ্রাধিকার বাজেট সংক্রান্ত কাজ বলেই জানান রিজিজু। বিরোধীদের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনার দাবি তিনি স্বীকার করলেও সাংবিধানিক দায়িত্ব হিসেবে বাজেট পাসের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
এই বৈঠকে তৃণমূল কংগ্রেসও তীব্র সুরে তোলে পশ্চিমবঙ্গে এসআইআর প্রক্রিয়ায় 'অনিয়ম' ও 'স্বচ্ছতার ঘাটতির' অভিযোগ। সাংসদ সাগরিকা ঘোষ দাবি করেন, এতে প্রভাব পড়েছে প্রায় দেড় কোটি মানুষের ওপর ও মৃত্যুর ঘটনাও নথিবদ্ধ হয়েছে। পাশাপাশি বিরোধী শাসিত রাজ্যগুলির তহবিল আটকে রাখা ও কেন্দ্রীয় এজেন্সির 'দুর্ব্যবহার' এরও অভিযোগ করেন তিনি।
আইইউএমএলের ই টি মহম্মদ বশীর সংসদীয় কার্যক্রমকে 'প্রহসন' এর সঙ্গে তুলনা করে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলিতে গুরুতর আলোচনার দাবি জানান। অন্যদিকে বিজেডি সাংসদ সস্মিত পাত্র কৃষি সংকট, ওড়িশার আইনশৃঙ্খলা, যুব বেকারত্ব ও নতুন গ্রাম জি আইনের কর্মসংস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
ভিবি গ্রাম জি বিলকে ঘিরে বিরোধীদের বিস্তর সমালোচনা চলছে। এই বিলের লক্ষ্য গ্রামাঞ্চলে নিশ্চিত কর্মদিবস ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১২৫ করা ও বিকশিত ভারত ২০৪৭ প্রকল্পের সঙ্গে উন্নয়ন কর্মসূচিকে যুক্ত করা।
অধিবেশন শুরু আগেই বিরোধী শিবিরের সুর তাই স্পষ্ট বাজেটই নয়, এছাড়াও তারা আরও অনেক প্রশ্নের উত্তর চান।












Click it and Unblock the Notifications