মহারাষ্ট্রের বিদর্ভের ওপর কেন নজর রাখছেন আন্তর্জাতিক গবেষকরা? জেনে নিন এর কারণ
মহারাষ্ট্রের বিদর্ভের ওপর কেন নজর রাখছেন আন্তর্জাতিক গবেষকরা?
করোনার প্রথম ওয়েভের চেয়েও দ্বিতীয় ওয়েভ বেশি সংক্রমণ ছড়াতে দক্ষ। ইতিমধ্যেই দ্বিতীয় ওয়েভ প্রাণ কেড়েছে বহু জনের। এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী মহল কোভিডের বিকল্প বি.১.৬১৭–এর কারণে ভারতে বেশি মাত্রায় সংক্রমণ হচ্ছে বলে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করছেন। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্ট অনুযায়ী বিজ্ঞানীরা দাবি করেছেন যে এই ভ্যারিয়ান্ট প্রথমে মহারাষ্ট্রের অমরাবতীতে ছড়ায় এবং যার ফলে ফেব্রুয়ারিতে অমরাবতী সংলগ্ন জেলায় ব্যাপকভাবে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে।

অমরাবতীতে সংক্রমণের কারণ
সংক্রমিত রোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ নীতিন শিণ্ডে জানিয়েছেন, এই ভারতীয় ভাইরাস ব্রিটেন, আফ্রিকা বা ব্রাজিলের ভ্যারিয়ান্ট থেকে অনেকটাই আলাদা। মহারাষ্ট্রের বিদর্ভের ওপর এখন নজর রয়েছে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও গবেষকদের। এই ম্যাপের মধ্যে নাগপুরের নামও যোগ হয়েছে, যেখানে ভারতীয় এই ভাইরাসের খোঁজ মিলেছে। চিকিৎসক মহলের মতে, অমরাবতীতে এই সংক্রমমের তীব্রতা এই ভ্যারিয়ান্টের কারণেই। যদিও গবেষকরা এখনও পর্যন্ত তাঁদের এই অনুমানকে মীমাংসায় নিয়ে যেতে পারেননি।

অনেক দেশই ভারতের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে
আইসিএমআরের শীর্ষ বিজ্ঞানী ডাঃ অপর্ণা মুখার্জি বলেন, 'ডবল মিউট্যান্ট ভ্যারিয়ান্ট হিসাবে বি.১.৬১৭ সার্স-কোভ২-কে তকমা দিয়েছি। অন্যান্য মিউটেশন ছাড়াও এর ২টি উল্লেখযোগ্য মিউটেশন রয়েছে, ই৪৮৪কিউ ও এল৪২৫আর, যা তাত্ত্বিকভাবে সংক্রমণ ছড়ানো বৃদ্ধির পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমানোর জন্য দায়ি।' যদিও তিনি এটাও জানিয়েছেন যে এটা বলা খুবই কঠিন যে ডবল মিউট্যান্ট দ্বিতীয় ওয়েভ হওয়ার জন্য দায়ি। তিনি বলেন, 'সংক্রমণের তীব্রতা শুরুর অনেক মাস আগেই ডবল মিউট্যান্ট সনাক্ত হয়ে গিয়েছিল।'
ব্রিটেন ও হংকংয়ের মতো বেশ কিছু দেশ সফরের ক্ষেত্রে ভারতকে লাল-তালিকায় রেখেছে, অন্যদিকে আমেরিকা তার নাগরিকদের সম্পূর্ণ টিকাকরণের আগে ভারত সফর করতে নিষেধ করেছে। কারণ এ দেশেও নতুন ভ্যারিয়ান্ট দেখা গিয়েছে।

ভারতীয় ভ্যারিয়ান্ট বেশি সংক্রমণযোগ্য
ইগ্লোবাল ইনিসিয়েটিভের তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের ডিসেম্বরে যে সব নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল সেখানেই চিহ্নিত করা হয় বি.১.৬১৭-কে। ৩ এপ্রিল পর্যন্ত জেনোম সিক্যুয়েন্সিংয়ের জন্য সংগ্রহীত ভারতীয় নমুনার ২৯ শতাংশের মধ্যে এই ভ্যারিয়ান্ট পাওয়া যায়। ভারতীয় এই ভ্যারিয়ান্ট আরও বেশি সংক্রমণযুক্ত হওয়ায় বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ বাড়ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বিডেনের কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণ পরামর্শক দলের ডা: অতুল গাওয়ান্দে এটিকে 'অত্যন্ত ভয়ঙ্কর' বলে অভিহিত করেছেন। ভায়রোলজি গবেষক গ্রেস রবার্টের মতে এই ভ্যারিয়ান্টে প্রাণহানি নিয়ে এখনও কোনও গবেষণা হয়নি। বেলফাস্টের কুইন বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে যে আগের চেয়ে এই ভ্যারিয়ান্ট ২০ শতাংশ বেশি সংক্রমণযোগ্য।

কোভ্যাকসিন কার্যকর
তবে স্বস্তির খবর এই যে আইসিএমআরের গবেষণায় উঠে এসেছে যে ভারত বায়োটেকের কোভ্যাকসিন সার্স-কোভ-২-এর একাধিক ভ্যারিয়ান্টের ওপর কার্যকর এবং কোভিড-১৯ এর পাশাপাশি ডবল মিউট্যান্টকে কার্যকরভাবে নিরপেক্ষ করে।












Click it and Unblock the Notifications