ফ্যাক্টর বেঙ্গালুরু! ১০ দিনের ছুটিতে কোন দিকে মধ্য়প্রদেশের রাজনৈতিক সমীকরণ?
মধ্যপ্রদেশের রাজনীতির কেন্দ্রস্থল এখন কর্নাটক। বেঙ্গালুরুতে থাকা বিক্ষুব্ধ কংগ্রেস বিধায়কদের উপরই এখন সব আশা ভরসা টিকে রয়েছে বিজেপি ও কংগ্রেসের। আর যা পরিস্থিতি তাতে আগামী ১০ দিন দুই পক্ষই এই বিধায়কদের নিজেদের শিবিরে টানতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাবে। তার মাঝে অবশ্য মধ্যপ্রদেশের বল গড়াতে চলেছে সুপ্রিমকোর্টে।

করোনা ভাইরাসের জেরে ছুটি মধ্যপ্রদেশ বিধানসভায়
করোনা ভাইরাস আপাতত দশ দিনের জন্য মধ্যপ্রদেশের কমলনাথ সরকারকে বাঁচাতে সক্ষম হয়েছে। তবে কংগ্রেসের এই 'চালের' বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই সুপ্রিম কোর্টে চলে গিয়েছে বিজেপি। মধ্যপ্রদেশের রাজ্যপাল লালাজি ট্যান্ডনের নির্দেশে আজই মধ্যপ্রদেশের বিধানসভায় শক্তি পরীক্ষা ছিল মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথের। তবে করোনা ভাইরাসের করাণ দেখিয়ে ২৬ মার্চ পর্যন্ত মুলতুবি করা হয় অধিবেশন। আর এর জেরে পিছিয়ে যায় আস্থা ভোটও। তবে নিছক করোনা ভাইরাসের জন্য এই আস্থা ভোট পিছিয়ে যায়নি। পিছিয়েছে কংগ্রেসের কাছে পর্যাপ্ত সংখ্যা না থাকায়। এমনটাই মত রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের।

সমীকরণের কেন্দ্রে কংগ্রস ত্যাগী ২১ বিধায়ক
মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস যতই বলুক যে ইস্তফা দেওয়া বিধায়করা তাদের সঙ্গেই আছেন, সেই দাবি যে সত্যি নয় তা প্রমাণ করে দেয় একটি ভিডিও বার্তা। জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার সঙ্গে কংগ্রস ত্যাগী ২১ বিধায়কের সেই ভিডিও বার্তায় আরও ঘোলাটে হয়ে গেল মধ্যপ্রদেশের রাজনৈতিক সমীকরণ। আর এর জেরে ক্ষমতা যে কার দখলে আসবে তা এখনও পরিস্কার নয়।

নজর বেঙ্গালুরুতে
মধ্যপ্রদেশের কংগ্রেস ও বিজেপি বিধায়কদের গতি প্রকৃতির থেকেও রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের নজর এখন টিকে বেঙ্গালুরুতে থাকা ২১ বিক্ষুব্ধ বিধায়কদের দিকে। আর এরই মধ্যে এক ভিডিও বার্তায় তাঁরা জানিয়ে দিয়েছেন যে এখনও তাঁরা বেঙ্গালুরুতেই রয়েছেন। তাঁদের পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষা সুনিশ্চিত করা হলে তবেই তাঁরা ভোপাল ফিরে যাবেন।

চাপে কমলনাথের কংগ্রেস সরকার
এদিকে এই পরিস্থিতিতে কংগ্রেসের পক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রমাণ করা খুব কঠিন হয়ে পড়বে। ২২৮ সদস্যের বিধানসভায় ৬ জন বিধায়কের ইস্তফা ইতিমধ্যেই গ্রহণ করেছেন অধ্যক্ষ। এর জেরে সদস্য সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ২২২-এ। যার অর্থাৎ ম্যাজিক ফিগার ১১২। তবে ২১ জন বিধায়ক ছাড়া সেই সংখ্যার ধআরের কাছেও পৌঁছাবে না কমলনাথের সরকার।

বিক্ষুব্ধ বিধায়ক নিয়ে কংগ্রেসের দাবি
এর আগে কংগ্রেসের দাবি ছিল, পদত্যাগী ২২ জন বিধায়কের মধ্যে ১২ জন বিজেপিতে যেতে চান না। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, আমরা মহারাজের সঙ্গে এসেছি, কিন্তু আমরা বিজেপিতে যেতে চাই না। এর ফলে মধ্যপ্রদেশ অঙ্ক বদলাচ্ছে। কংগ্রেস জানায়, এই ১২ বিধায়ক মুখ্যমন্ত্রী কমল নাথের বাড়িতে বৈঠকে বসেন। আর এই বৈঠকের পরই পাল্টা চাপে পড়ে বিজেপি। এদিকে বেঙ্গালুরুতে থাকা বিধায়কদের দাবি তাঁরা এখনও সেখানেই আছেন। যা নিয়ে পরিস্থিতি আরও ঘোলাটে হচ্ছে। এখন দেখার কোন দল কোন সমীকরণের সাহায্যে মসনদ দখল করে।












Click it and Unblock the Notifications