অ্যালার্ম বাজল মহারাষ্ট্রেও! সিন্ধিয়ার বিদায়ের জন্য কংগ্রেসকে তোপ শরিক শিবসেনার
কংগ্রেসের সঙ্গে ১৮ ভছরের সম্পর্ক ছেদ করে বিজেপিতে যোগ দিলেন জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া। আর এতেই দুন্ধুমার শুরু হয়ে গিয়েছে অন্যান্য অ-বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে। এর মধ্যে সব থেকে ভয়ে রয়েছে রাজস্থানের অশোক গেহলোটের সরকার ও মহারাষ্ট্রের শিবসেনার নেতৃত্বাধীন সরকারে। এরই মধ্যে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে তোপ দাগল কংগ্রেসের শরিক শিবসেনা!

জ্যোতিরাদিত্য নিয়ে কংগ্রেসকে তোপ সঞ্জয় রাউতের
কংগ্রেস ছেড়ে জ্যোতিরাদিত্য বিজেপির পথে হাঁটতে শুরু করতেই কংগ্রেসকে তোপ দেগে শিবসেনার মুখপাত্র সঞ্জয় রাউত বলেন, 'জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়া একজন জনপ্রিয় নেতা। তিনি বহু বছর ধরে অনেক কঠোর পরিশ্রম করেছেন। যদি দলে তাঁকে আরও একটু বেশি সম্মান দেওয়া হত তবে মধ্যপ্রদেশে কমনাথের সরকারের এই টালমাটাল পরিস্থিতি হত না।'

অপারেশন কমল নিয়ে বিজেপিকে পাল্টা হুঁশিয়ারি সঞ্জয়ের!
কংগ্রেসকে তোপ দেগেও বিজেপিকে হুঁশিয়ার করে দেন সঞ্জয়। তিনি বলেন, 'মহারাষ্ট্র সরকার অনেক শক্তিশালী। মধ্যপ্রদেশের ভাইরাস মহারাষ্ট্রে প্রভাব ফেলবে না। উদ্ধব ঠাকরে, শরদ পাওয়ার, সনিয়া গান্ধীর মধ্যে ভালো কথাবার্তা হয়। এর আগেও মহারাষ্ট্রে সরকার ভাঙার চেষ্টা চালায় বিজেপি। তবে মহারাষ্ট্রে অপারেশন কমল কার্যকর করা যাবে না।'

জ্যোতিরাদিত্যের বিদায়ে চাপে কংগ্রেস
জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার কংগ্রেস ছাড়া ও তাঁর অনুগামী বিধায়কদের পদত্যাগের মধ্যপ্রদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের ক্ষমতা হারাতে চলেছে কংগ্রেস, একপ্রকার স্থির হয়েই গিয়েছে। এরই মধ্যে বিজেপির সুব্রামনিয়ান স্বামী ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন এবার তাঁরা মহারাষ্ট্রের ক্ষমতা দখল করবে দল। যার পরে শুরু হয় জল্পনা। এদিকে রাজস্থানেও কংগ্রেস বিধায়কদের সঙ্গে বিজেপির যোগাযোগের খবর সামনে আসে। যাতে আরও চাপে পড়ে যায় কংগ্রেস।

২২ জন বিধায়ক নিয়ে বিজেপির পথে সিন্ধিয়া
বিজেপির পথে যে তিনি পা বাড়িয়ে দিয়েছেন তা স্পষ্ট হয়ে যায় হোলির দিন সকালেই। মঙ্গলবার সকাল সকাল প্রধানমন্ত্রীর বাড়িতে যান প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধ্যা। সিন্ধিয়া যাওয়ার কিছুক্ষণ পরেই মোদীর বাসভবনে ঢোকেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও। জল্পনা ছিল আগেই। তবে এই ছবি সামনে আসতেই আর সব সন্দেহ চলে যায়। এর পরপরই কংগ্রেস থেকে ইস্তফা দেন সিন্ধিয়া ঘনিষ্ঠ ১৯ জন বিধায়ক। পরে ইস্তফা দেন আরও বেশ কয়েকজন। মোট ২২ জন বিধায়ক কংগ্রেস ছেড়ে দেন। এদের সকলেরই পরবর্তী গন্তব্য বিজেপি।

টালমাটাল পরিস্থিতি কমনাথের সরকারের
জানা যাচ্ছে বিজেপির থেকে রাজ্যসভার টিকিট নিশ্চিত হতেই এই দলবদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিন্ধিয়া। পাশাপাশি জুটতে পারে মন্ত্রিত্ব। এই ইস্তফার হিড়িকে কমলাথের সরকারের পতন এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা। ২২ জন কংগ্রেস বিধায়ক ইস্তফা দিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কমল নাথ সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যরাও আছেন। মঙ্গলবার পর্যন্ত কমল নাথ সরকারের সঙ্গে ১২০ জন বিধায়কের সমর্থন ছিল। সেখানে বিজেপির সদস্য সংখ্যা ১০৭। সরকার গড়তে দরকার ১১৫-জন বিধায়কের সমর্থন। সেক্ষেত্রে কংগ্রেস থেকে পদত্যাগ করা ২২ জন বিজেপিতে যোগ দিলে সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে কমল নাথের সরকার। পাশাপাশি একধাক্কায় সরকার গড়ার ক্ষেত্রে অনেকটা এগিয়ে যাবে বিজেপি। আর সঙ্গে রাজ্যসভাতেও কংগ্রেসের সদস্য পাঠানোর পথ কঠিন হতে চলেছে এবার।












Click it and Unblock the Notifications