বায়ুদূষণ, বিপদজ্জনক একিউআই, দিল্লিতে শ্বাস–প্রশ্বাসের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালের দ্বারস্থ একাধিক রোগী
দিল্লিতে শ্বাস–প্রশ্বাসের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালের দ্বারস্থ একাধিক রোগী
দিওয়ালিতে সুপ্রিম কোর্টের নিষেধাজ্ঞার তোয়াক্কা না করেই দিল্লির একাধিক এলাকায় বাজি ফেটেছে আর তার ফলস্বরূপ জাতীয় রাজধানীতে বায়ুর গুণগত মান গিয়ে পৌঁছেছে অত্যন্ত খারাপ জায়গায়। এমনকী দিওয়লির ২দিন পরও দিল্লির একিউআই স্তর ক্রমাগত 'গুরুতর’ বিভাগে রয়েছে এবং বাজি ফাটানোর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে দিল্লিবাসীকে।

বাড়িতে থাকার পরামর্শ
দিওয়ালির ২ দিন পর দিল্লির হাসপাতালগুলিতে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা ও চোখ জ্বালা নিয়ে একাধিক রোগীকে ভিড় জমাতে দেখা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে দিল্লিতে আতসবাজি ফাটানোর পাশাপাশি প্রতিবেশী রাজ্যগুলিতে খড় পোড়ানো বেড়ে যাওয়ার কারণে এ বছরও পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। আকাশ হেলথকেয়ারের চিকিৎসক পরিণীতা কউর বলেন, 'দিওয়ালির পর পরই শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা নিয়ে রোগীদের হাসপাতালে আসতে দেখা যায়। সর্দি-কাশি, বুকে ব্যাথা ও নাক বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগ নিয়ে রোগীরা হাসপাতালে ভিড় জমান।' তিনি এও বলেন, 'দিওয়ালিতে আতসবাজি ফাটানোর কারণে এবং দিল্লির আশেপাশে খড় পোড়ানোর জন্য একিউআই ক্রমশঃ খারাপের দিকে যাচ্ছে। যার ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা আরও বাড়তে দেখা গিয়েছে। আমরা দিল্লিবাসীকে বলব যতটা সম্ভব এখন বাড়িতেই থাকুন।'

একিউআই ক্রমশঃ নামছে
অ্যাপোলো হাসপাতালের চিকিৎসক রাজেশ চাওলা বলেন, 'যখন শীতকাল শুরু হয় তখন দিল্লিতে বাতাসের চলাচল কমে যায়। এর সঙ্গে উৎসবের মরশুম এবং যানজটের কারণে বায়ু দূষণের বৃদ্ধি সব মিলিয়ে একিউআই স্তরকে নীচের দিকে নামিয়ে আনে। আর সেই কারণেই শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা নিয়ে রোগীদের ভিড় দেখতে পাওয়া যাচ্ছে।' তিনি আরও বলেন, 'দিওয়ালির পর শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা ২০ শতাংশ বাড়তে দেখি আমরা। রোগীদের মধ্যে একজন তীব্র শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আমরা তাঁকে অক্সিজেন ও স্টেরোয়েড দিয়েছি।' রাজেশ চাওলা এও বলেন, 'খড় এখনও পোড়ানো হচ্ছে। অন্যান্য কারণের জন্য (একিউআইয়ে অবস্থা গম্ভীর) রোগীদের মধ্যে শ্বাস-প্রশ্বাসের রোগ বাড়তে দেখা দিয়েছে।' দিল্লিবাসী খুব ভয় পেয়ে রয়েছে এবং অধিকাংশই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। সাধারণ চিকিৎসক পর্যায়ে এ ধরনের রোগীর সংখ্যা বেশি।

প্রত্যেক বছর একই সমস্যা মুখোমুখি দিল্লি
দিল্লি এইমসের পালমোনারি বিভাগের প্রধান অনন্ত মোহন এ প্রসঙ্গে বলেন, 'দিল্লিতে একিউআই-এর মাত্রা বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতীয় রাজধানী আগামী সপ্তাহে শ্বাসকষ্টজনিত রোগের রোগী এবং অভিযোগ বৃদ্ধির সাক্ষী হতে পারে।' মেদান্তা দ্য মেডসিটির চেয়ারম্যান নরেশ ত্রেহান বলেন, 'সকলে বায়ু দূষণের জন্য ভুক্তভোগী। মাথা ব্যাথা, শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা, বিশেষ করে যাঁদের হাঁপানি ও ফুসফুসের সমস্যা রয়েছে, তাঁরা হাসপাতালে আসছেন। শিশুরা খুবই দুর্বল এবং এই দূষণ তাদের মস্তিষ্কের বিকাশকে প্রভাবিত করতে পারে।' ত্রেহান আরও বলেন, 'হাসপাতালে রোগীতে ভর্তি হয়ে গিয়েছে। তাই এটা আমাদের জন্য খুবই কঠিন পর্যায়। প্রত্যেক বছর আমরা এই সমস্যার মুখোমুখি হই, কিন্তু আমরা এটাকে সংশোধন করতে ব্যর্থ হই।'

কোভিড ও দূষণ সমানভাবে বিপদজ্জনক
প্রসঙ্গত, এখনও দেশ থেকে কোভিড-১৯ বিদায় নেয়নি। এরই মধ্যে এ ধরনের সঙ্কট সত্যিই চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পরশ হাসপাতালের পালমোনোলজি বিভাগের প্রধান অরুনেশ কুমার বলেন, 'আমরা ভেদাভেদ করছি না, কিন্তু উভয় (কোভিড ও দূষণ) সমানভাবে বিপদজ্জনক। যদিও দূষণ একটি বহুবর্ষজীবী ঘটনা। এটা আমাদের কাছে নতুন নয়। দিল্লির গড় একিউআই লকাডাউনের কিছু মাস পর কখনই স্বাভাবিক ছিল না।' তিনি আরও বলেন, 'অধিকাংশ সময়ে দিল্লির দূষণের মাত্রা তীব্রই ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা বেড়ে যাওয়ার জন্য দিল্লি-এনসিআরের মানুষ জেগে উঠেছে। কিন্তু সত্যতা হল আমাদের একিউআই কখনই স্বাভাবিক ছিল না।' তিনি এ প্রসঙ্গে আরও বলেন, 'আমাদের পরিবেশ কখনও স্বাস্থ্যকর ছিল না সেটা আমাদের চিহ্নিত করতে হবে। আমরা সবসময়ই দূষিত বাতাসেই শ্বাস-প্রশ্বাস নিই। কোভিড সাহায্য করে না, শীত এবং কুয়াশার মতো সংক্রমণ বাড়তে পারে কারণ আমাদের ওপরে চলা ঠান্ডা বাতাসের সঙ্গে পরিবেশের একটি ফোঁটাতে করোনা ভাইরাস আটকে যাওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।'












Click it and Unblock the Notifications