করোনা ভাইরাস আরও বেশি বিপজ্জনক হতে পারে এটা হলে, কোন তথ্য জানাচ্ছে গবেষণা?
করোনা ভাইরাসের জেরে দেশে মৃতের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। এই সংক্রমণ কমার কোনও নামই নিচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে আরও ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। একদিনে এটাই এখনও পর্যন্ত দেশে সব থেকে বেশি মৃত্যু। যার জেরে সরকারি হিসাবে এখনও পর্যন্ত দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১৪৯-এ।

১৪ এপ্রিল দেশের লকডাউন পর্ব শেষ হওয়ার কথা
এই পরিস্থিতিতে আগামী ১৪ এপ্রিল দেশের লকডাউন পর্ব শেষ হওয়ার কথা। তবে যে হারে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে তা বিবেচনা করে এই লকডাউনের মেয়াদ আরও বাড়তে পারে বলেই অনেকে মনে করছেন। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি রাজ্য ইঙ্গিত দিয়েছে যে ১৪ এপ্রিলের পরেও তারা লকডাউন চালিয়ে যেতে চায়। একটি সরকারি সূত্র জানিয়েছে যে এই রাজ্যগুলির দেওয়া প্রস্তাবও বিবেচনা করছে কেন্দ্র।

দূষণমুক্ত হয়ে গিয়েছে পরিবেশ
এদিকে লকডাউনের মধ্যেই প্রায় কোনও যান চলাচল না থাকায় ও কলকারখানা না চলায় দূষণমুক্ত হয়ে গিয়েছে পরিবেশ। আকাশে কালো ধোঁয়া সরে যেতেই পাঞ্জাব থেকে ৩০ বছর পর হিমাচলপ্রদেশের পর্বত মালা দেখা যাচ্ছে। তবে পরিস্থিতি আবার যখন স্বাভাবিক হয়ে যাবে এবং লকডাউন উঠে যাবে, কালো চাদরে ঢাকা পরবে আমাদের এই বিশ্ব।

বায়ুদূষণই দেশের জনগণের জন্য মারাত্মক
আর এই বায়ুদূষণই দেশের জনগণের জন্য মারাত্মক বলে জানিয়েছে সম্প্রতি শেষ হওয়া এক গবেষণা। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণা বলছে, বায়ুদূষণ বাড়লে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ এর জেরে বেড়ে যাবে। লকডাউন জারির পর থেকে ক্রমেই দেশের ৮৫টি শহরের এয়ার কোয়ালিটি অভাবনীয় ভাবে ভালো হয়ে গিয়েছে। তবে সাধারণ পরিস্থিতিতে এই বায়ুদূষণের জেরে তিলে তিলে বহু মানুষ নানা সমস্যায় পড়েন ও প্রাণ হারান বলে জানানো হচ্ছে। আর বর্তমানে দূষণের সঙ্গে করোনা মিলে গেলে তা আরও মারাত্মক হবে বলে জানা যাচ্ছে।

কতটা ভয়ঙ্কর হতে পারে পরিস্থিতি?
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এই গবেষণার উদাহরণ হিসাবে মুম্বইকেই ধরা যেতে পারে। বিশ্বের অন্যতম দূষিত শহর মুম্বই। বায়ুদূষণে জর্জরিত শহরের তালিকায় শীর্ষের দিকে স্থান এর। মুম্বইতে এখন শ্মশানের নিস্তব্ধতা। মহারাষ্ট্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি করোনা আক্রান্ত রয়েছে বাণিজ্যনগরীতেই। সেখানে ৬০০-র বেশি জন করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। সেখানে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ওই মারণ ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে অন্তত ৩৪ জনের। তবে এই পরিস্থিতি লকডাউন চলাকালীন। যদি লকডাউনের পর স্বভাবিক গতিতে শহর ফিরে আসে, তখন করোনার প্রকোপ আরও জাঁকিয়ে বসবে এই শহরে।












Click it and Unblock the Notifications