নির্বাচনের আগে নাম পরিবর্তন, আজমগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে দিলেন যোগী আদিত্য্যনাথ

ফৈজাবাদ হয়েছে অযোধ্যা, আলিগড়ের নাম বদলে 'হরিগড়' করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এবার আজমগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে হবে মাহারাজা সুহলদেব বিশ্ববিদ্যালয়।

নাম বদলে সেরা উত্তরপ্রদেশ। যখন তখন যে কোনও স্থানের নাম পরিবর্তন হয় যোগী আদিত্যনাথের রাজ্যে। বদায়ুন জেলার নাম বদলে ভেদামাউ করার কথা বলা হয়েছে কিছুদিন আগেই। এলাহাবাদের নাম বদলে হয়েছে 'প্রয়াগরাজ'। ফৈজাবাদ হয়েছে অযোধ্যা, আলিগড়ের নাম বদলে 'হরিগড়' করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এবার আজমগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে হবে মহারাজা সুহলদেব বিশ্ববিদ্যালয়।

আজমগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম বদলে হবে সুহলদেবের নামে

কেন এই নাম পরিবর্তন ?
যোগী আদিত্যনাথ একটি অনুষ্ঠানে বলেছেন, আমরা শুধুমাত্র রাজ্যের আধ্যাত্মিকদিকের প্রচার করতে চাই না, ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথাও মানুষকে জানাতে চাই। তাই এই নাম পরিবর্তনের কথা আমরা ভাবছি।

কিন্তু কে এই রাজা সুহলদেব?
খ্রিস্টীয় একাদশ শতক। উত্তর ভারতে গঙ্গার উত্তরে এবং রাপ্তী নদীর দক্ষিণ তীরে কোশল রাজ‍্যের শ্রাবস্তীর রাজা সুহলদেব। ১০৩০ সালে গজনীর সুলতান মামুদ অন্তত ১৭ বার ভারত আক্রমণ করে দেশে ফিরে মারা যাবার পর ভারতে তাঁর ভাইপোর নেতৃত্বে পরের বছরই আরেকটি মুসলমান অভিযান হয়েছিল। ভাইপোর নাম- সৈয়দ সালার মাসুদ গাজি। ১৬ বছর বয়সে সালার মাসুদ সিন্ধু নদ পেরিয়ে ভারতে ঢোকেন এবং একে একে জিতে নেন মুলতান, দিল্লি, মীরাট এবং শেষে সাত্রিক। এই সাত্রিকে তিনি তৈরি করেন সদর দফতর।

এখান থেকেই একের পর এক অভিযান শুরু করেনস্থানীয় রাজাদের বিরুদ্ধে। দিল্লির রাজা মহীপাল তোমর আগেই পরাজিত হয়েছিলেন, মীরাটের রাজা হরি দত্ত হেরে গিয়ে ইসলামধর্ম নিয়ে ফেললেন। এরপর বুলন্দশহর থেকে বাদাউন হয়ে সালার মাসুদ পৌঁছান কনৌজ। তিনিও বশ্যতা স্বীকার করেন। এবার অভিযানের দায়িত্ব দিয়ে ভারাইচ রাজ‍্যে পাঠানো হয় সৈয়দ সৈফুদ্দিন এবং মিয়ান রজভকে। এইসময়ে স্থানীয় রাজারা গড়ে তুলে মাসুদ বাহিনীকে বেশ চাপে ফেলে দেন। তাই ১০৩৩ সালে সালার মাসুদ নিজে ভারাইচে আসেন সবকিছু নিজের চোখে দেখতে। মাসুদ বাহিনী পরাজিত রাজাদের উপর ফের আক্রমণ করেন। এবার যুদ্ধক্ষেত্রে এলেন শ্রাবস্তীর রাজা সুহলদেব। লখিমপুর, সীতাপুর, বারাবাঁকি, উন্নাও, ফৈজাবাদ, ভারাইচ, শ্রাবস্তী, গোণ্ডা প্রভৃতি ছোট ছোট রাজ‍্যগুলি ছিল রাজা সুহলদেবের অধীনে। রাজা সুহলদেব ছিলেন একাধারে গো-রক্ষক এবং সাধুসন্তসেবক। সালার মাসুদ যুদ্ধক্ষেত্রে গোরু বেঁধে রেখে দিয়েছিলেন।

উদ্দেশ্য ছিল, রাজা সুহেলদেব গো-বধ করবেন না এবং সেই সুযোগে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়া যাবে। কিন্তু সুহেলদেব খবর পেয়ে যুদ্ধের আগের দিন রাতেই সব গোরুগুলোর বাঁধন খুলে ছেড়ে দিয়েছিলেন। দু' পক্ষের মধ্যে শুরু হলো তুমুল লড়াই। একদিকে বিশাল মাসুদ বাহিনী এবং অন্যদিকে সুহলদেবের মুষ্টিমেয় সেনাদল। হার মেনে নেয় মাসুদ বাহিনী। রাজা সুহেলদেবের হাতে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয়ে নিহত হলেন সালার মাসুদ। ১০৩৪ সালের এই যুদ্ধ 'ভারাইচের যুদ্ধ" নামে পরিচিত। আর এই ইতিহাসকে মনে করাতেই যোগীর বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম পরিবর্তনের ভাবনা।

Notifications
Settings
Clear Notifications
Notifications
Use the toggle to switch on notifications
  • Block for 8 hours
  • Block for 12 hours
  • Block for 24 hours
  • Don't block
Gender
Select your Gender
  • Male
  • Female
  • Others
Age
Select your Age Range
  • Under 18
  • 18 to 25
  • 26 to 35
  • 36 to 45
  • 45 to 55
  • 55+