ভাঙচুরের পর মুসলিম দরগার রঙ বদলে গেরুয়া, রাস্তা অবরোধের পর পদক্ষেপ করার আশ্বাস পুলিশের
ভাঙচুরের পর মুসলিম দরগার রঙ বদলে গেরুয়া, রাস্তা অবরোধের পর পদক্ষেপ করার আশ্বাস পুলিশের
মধ্যপ্রদেশের নম্রদাপুরম (হোসাঙ্গাবাদ) জেলার সদর দফতর সংলগ্ন পাঁচ দশকের পুরনো মুসলিমদের দরগা ভাঙচুর করে, তাতে গেরুয়া রঙ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠল একদল অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে। রাজ্যের ২২ নম্বর জাতীয় সড়কের কাছে অবস্থিত এই দরগায় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে রবিবার কিছু ঘণ্টার মধ্যে।

পুলিশ জানিয়েছে, রবিবার ভোর ৬টা নাগাদ এই ঘটনাটি কিছু স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে, তাঁরা দেখেন যে দরগার রঙ সবুজের বদলে গেরুয়া হয়ে গিয়েছে এবং সেখানকার দরজাও ভাঙা। এই দরগার দায়িত্বে থাকা আবদুল সাত্তার জানিয়েছেন যে গ্রামের কিছু তরুণ তাঁকে ভোর ৬টা নাগাদ দরগার রঙ গেরুয়া করে দেওয়ার ঘটনা জানান। এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় সাত্তার বলেন, 'আমরা যখন সেখানে পৌঁছালাম, আমরা বুঝতে পারলাম যে দরগার কাঠের দরজা ভেঙে খোলা হয়েছে এবং তা ফেলা হয়েছে মারু নদীতে। শুধু মিনার নয়, দরগা ও প্রবেশদ্বারেও গেরুয়া রঙের প্রলেপ দেওয়া হয়েছিল। শুধু তাই নয়, দরগা প্রাঙ্গনে থাকা নলকূপও উপড়ে ফেলা হয়েছে।’
গ্রামবাসীদের মতে, আগে এই নিয়ে অভিযোগ করার পরও পুলিশ কোনও পদক্ষেপ না করায় তাঁরা রাজ্যের ২২ নম্বর জাতীয় সড়ক অবরুদ্ধ করার পরই পুলিশ নড়েচড়ে বসে। পুলিশ ও জেলা প্রশাসন গ্রামে পৌঁছে গ্রামবাসীদের পদক্ষেপ করার আশ্বাস দেওয়ার পরই গ্রামবাসীরা 'চাক্কা জ্যাম’ তুলে নেন। ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৫ (এ) ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।
এলাকায় এই ঘটনা নিয়ে যাতে কোনও উত্তেজনা না ছড়ায় তাই পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং দরগার রঙ পুনরায় বদল করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রামবাসীদের দরগাটি পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করার জন্য দমকলের দুটি গাড়িও পরিষেবার জন্য গ্রামে নিয়ে আসা হয়।
মাখন নগর পুলিশ স্টেশনেক টাউন ইনস্পেক্টর হেমন্ত শ্রীবাস্তব বলেন, 'আমরা এফআইআর দায়ের করেছি কিন্তু আমাদের প্রথম অগ্রাধিকার এই দরগাটি পুনরুদ্ধার করা, যেটা করা হয়ে গিয়েছে। এরপর আমরা অভিযুক্তদের গ্রেফতার করব। তবে ঘটনা দেখে মনে হচ্ছে এটা কোনও স্থানীয়দের কাজ নয়, কারণ এই গ্রামে হিন্দু–মুসলিম সকলেই শান্তিভাবে থাকেন এবং অতীতেও কোনও সাম্প্রদায়িক হিংসা এখানে দেখা যায়নি।’












Click it and Unblock the Notifications