আবহাওয়া নিয়ে বড় প্রশ্ন! বর্ষা বিদায় শুরু হওয়ার পরেও কেন কয়েক দশকের মধ্যে বর্ষণসিক্ত অক্টোবর
বর্ষণসিক্ত অক্টোবর (october)। অনেকেই অক্টোবরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় এমন বর্ষার (monsoon) কথা মনে করতে পারছেন না। ১৯৬০ সালের পরে এমন অক্টোবর দেখেনি দিল্লি। অন্যদিকে কেরলে প্রবল বন্যা। হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ডে বন
বর্ষণসিক্ত অক্টোবর (october)। অনেকেই অক্টোবরে দেশের বিভিন্ন জায়গায় এমন বর্ষার (monsoon) কথা মনে করতে পারছেন না। ১৯৬০ সালের পরে এমন অক্টোবর দেখেনি দিল্লি। অন্যদিকে কেরলে প্রবল বন্যা। হিমাচল প্রদেশ, উত্তরাখণ্ডে বন্যা পরিস্থিতি। ইতিমধ্যেই কেরল ও উত্তরাখণ্ডে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। বর্ষণে বিধ্বস্ত উত্তরবঙ্গ এবং উত্তরপূর্বের বেশ কিছু রাজ্যও।

একইসঙ্গে একাধিক নিম্নচাপ
গত সপ্তাহে একই সময়ে দুটি নিম্নচাপ তৈরি হয়েছিল, একটি আরব সাগরে, অন্যটি বঙ্গোপসাগরে। দুটি নিম্নচাপের জেরে কেরল, তামিলনাড়ু, অন্ধ্রপ্রদেশ, তেলেঙ্গানা, মধ্যপ্রদেশ, ওড়িশা, পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, উত্তরাখণ্ডে বৃষ্টি হয়। একইসঙ্গে দুটি নিম্নচাপ সক্রিয় থাকায় একদিকে পূর্ব উপকূল, অন্যদিকে পশ্চিম উপকূল, মধ্যভারত-সহ দেশের বিস্তীর্ণ অংশে বৃষ্টি হয়েছে। যা কোনও কোনও জায়গায় এখনও চলছে। বঙ্গোপসাগরে প্রথম নিম্নচাপের শক্তি কমতেই ফের আরেকটি নিম্নচাপ তৈরি হয় ওড়িশা এবং পশ্চিমবঙ্গ উপকূলে। যার জেরে দক্ষিণবঙ্গ এবং উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি হয়েছে গত তিনদিন ধরে।

বর্ষার বিদায়ে দেরি
দেশের আবহাওয়ার ইতিহাস ঘাটলে দেখা যাবে, সাধারণভাবে পশ্চিম ভারত থেকে বর্ষা আগেই বিদায় নিতে শুরু করে। তা সাধারণভাবে শুরু হয় ১৭ কিংবা ১৮ সেপ্টেম্বরের আশপাশের সময়ে। কিন্তু এবার তার শুরু হয়েছে ৬ অক্টোবর। ইতিমধ্যেই পশ্চিম ভারত, উত্তর ভারত, মধ্য ভারত এবং পূর্ব ভারতের বেশিরভাগ অংশ থেকে মৌসুমী বায়ু বিদায় নিয়েছে। কিন্তু দক্ষিণ ভারতে তা এখনও সক্রিয় রয়ে গিয়েছে। কেরল, তামিলনাড়ু, তেলেঙ্গানা, কর্নাটক, অন্ধ্রপ্রদেশে গত ১০ দিনে ব্যাপক বৃষ্টি হয়েছে। যা হয়েছে মৌসুমী বায়ু বিদায়ের সময়েই।
অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গ থেকে এখনও যেমন বর্ষা পুরোপুরি বিদায় নেয়নি, অন্যদিকে মনিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা এবং ওড়িশা থেকেই বর্ষা বিদায় নেয়নি।

পশ্চিম ঝঞ্ঝার সঙ্গে পূবালি হাওয়ার সংঘাত
সাধারণভাবে মধ্য অক্টোবর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিম হাওয়া বদলে যায় উত্তর-পূর্ব হাওয়ায়। কিন্তু এবার তা হয়নি। যে কারণে পশ্চিম ঝঞ্ঝার সঙ্গে পূবালি হাওয়ার একটা সংঘাত তৈরি হয়েছে। যার জেরে উত্তরাখণ্ডে প্রবল বৃষ্টি হয়েছে। একদিকে বিহারের ওপরে নিম্নচাপ প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প টেনে নিয়ে গিয়েছে, অন্যদিকে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা মেঘ তৈরিতে সাহায্য করেছে। এর পিছনে রয়েছে জয়বায়ু পরিবর্তনের তত্ত্বও। যা কিনা বায়ুমণ্ডলের আর্দ্রতাধারণ ক্ষমতা বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মৌসুমী বায়ুর দেরি আসা, একই সঙ্গে বিভিন্ন জায়গায় নিম্নচাপ তৈরি হওয়া, বিপরীতমুখি হাওয়ার জেরে বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়াও আবহাওয়াবিদরা আরব সাগরের ওপরের তাপমাত্রা বৃদ্ধিকেও দায়ী করছেন, এবারের বর্ষণসিক্ত অক্টোবরের জন্য। সাধারণভাবে আরব সাগরের ওপরের তাপমাত্রা থাকে ২৬ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। কিন্তু গত কয়েকবছরে তা বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি জল দূষণকেও দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা।












Click it and Unblock the Notifications