হাসপাতালে ১৩০ দিনের কোভিড লড়াই জিতে বাড়ি ফিরে সাইনি বললেন রোজ মৃত্যু দেখে ভয় পেতাম
হাসপাতালে ১৩০ দিনের কোভিড লড়াই জিতে বাড়ি ফিরে সাইনি বললেন রোজ মৃত্যু দেখে ভয় পেতাম
১৩০ দিন কোভিডের সঙ্গে লড়াইয়ের পর উত্তরপ্রদেশের একটি হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেন বিশ্বাস সাইনি৷ চার মাস ধরে হাসপাতালে থাকার পরে বিশ্বাস সাইনিকে সুস্থ ঘোষণা করে বাড়ি ফেরার অনুমতি দিয়েছেন চিকিৎসকরা। সাইনি, সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন এই চার মাস তিনি পরিবারের প্রত্যেকের থেকে দূরে ছিলেন৷ কোভিড ওয়ার্ডে নিজের চারপাশ প্রায় প্রতিদিন অন্যদের মৃত্যু দেখেছেন৷ কিন্তু মিরাট হাসপাতালের চিকিৎসকরা তাঁকে ক্রমাগত কোভিডের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে উৎসাহ দিয়ে গিয়েছেন৷ হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরও সাইনির মুখে মাস্কের দাগ রয়ে গিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে৷

বিশ্বাসের চিকিৎসক এম সি সাইনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, গত ২৮ এপ্রিল করোনা টেস্ট করিয়েছিলেন বিশ্বাস সাইনি। এঁর পর তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ এলে প্রাথমিকভাবে তাঁকে বাড়িতে রাখা হয়েছিল। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। বিশ্বাসের চিকিৎসক আরও বলেন, সাইনিকে এক মাস ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। পরে, ভেন্টিলেশন সরিয়ে দিলেও প্রতিদিন বেশ কয়েকঘন্টা অক্সিজেন সাপোর্টের প্রয়োজন ছিল বিশ্বাস সাইনির। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল যে আমরা কেউই ভালো কিছুর আশা করছিলাম না।
দীর্ঘ চার মাসের লড়াইয়ের পরে, সাইনি বাড়ি ফিরতে পেরেছেন। যদিও এখনও তাঁর অক্সিজেন সাপোর্টের প্রয়োজন রয়েছে। বাচ্চাদের সঙ্গে বসে অক্সিজেন সাপোর্টে সাইনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, লম্বা সময়ের ব্যবধানে বাড়িতে আমার পরিবারের কাছে ফিরে খুব ভালো লাগছে। একটা সময় প্রায় রোজ আমি হাসপাতালে মানুষকে মরতে দেখছিলাম। তখন আমি ভয়ে অস্থির হয়ে পড়তাম কিন্তু আমার ডাক্তাররা আমাকে বারবার উৎসাহ দিতেন এবং নিজেকে সুস্থ করার দিকে মন দিতে বলতেন৷
সম্প্রতি অ্যাপোলো হসপিটালের সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে ভারতে দ্বিতীয় তরঙ্গের পরে দীর্ঘ কোভিড মামলার এবং কোভিড-পরবর্তী জটিলতার সংখ্যা গত বছরের রিপোর্টের চেয়ে চারগুণ বেড়েছে।
প্রসঙ্গত উত্তরপ্রদেশের শেষ ২৪ ঘন্টায় ১২ জন নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন৷ সক্রিয়া করোনা রোগীর সংখ্যা ১৮২ জন। শেষ ২৪ ঘন্টায় মারা গিয়েছেন ৪ জন। সাইনির ঘটনায় চোখে আঙুল দিয়ে প্রমান করে করোনা কতটা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে মানুষের শরীরে৷ তাই তৃতীয় ওয়েভের আগেই দেশের মানুষকে সচেতন হবার কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। মাস্ক ব্যবহার এবং বাইরে বেরোলে করোনাবিধি মানা পাশাপাশি সম্পূর্ন টিকাকরণের উপর জোর দেওয়ার কথা বলছেন গবেষকরা৷












Click it and Unblock the Notifications