পাপের প্রায়শ্চিত্য করে ত্রিপুরায় ঘর ওয়াপসি! রাহুলের উপস্থিতিতে কংগ্রেসে যোগদান সুদীপ রায় বর্মন ও আশিস সাহার
সোমবার বিধানসভার (assembly) অধ্যক্ষের কাছে ইস্তফা দেওয়ার পরে ইঙ্গিত ছিল। তারপর এদিন সকালে কংগ্রেস (congress) নেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) সঙ্গে দেখা করার পরে কংগ্রেসে যোগ দিলেন ত্রিপুরার দুই বিজেপি (BJP) ত্যাগী ন
সোমবার বিধানসভার (assembly) অধ্যক্ষের কাছে ইস্তফা দেওয়ার পরে ইঙ্গিত ছিল। তারপর এদিন সকালে কংগ্রেস (congress) নেতা রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) সঙ্গে দেখা করার পরে কংগ্রেসে যোগ দিলেন ত্রিপুরার দুই বিজেপি (BJP) ত্যাগী নেতা সুদীপ রায় বর্মন এবং আশিসকুমার সাহা।
|
সকালেই রাহুল-প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে বৈঠক
সোমবারই দিল্লি গিয়েছিলেন সুদীপ রায় বর্মন এবং আশিস কুমার সাহা। এদিন সকালেই তাঁরা চলে যান রাহুল গান্ধীর বাসভবনে। সেই সময় রাহুল গান্ধীর বাসভবনে চলে যান কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়ঙ্কা গান্ধী ভদরাও। চারজনের বৈঠক চলে বেশ কিছুক্ষণ। তবে এবারই প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে প্রথম বৈঠক নয়, দিন কয়েক আগে দিল্লিতে গিয়েও প্রিয়ঙ্কা গান্ধীর সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন সুদীপ রায়বর্মন।

পাপের প্রায়াশ্চিত্য করে ঘর ওয়াপসি
এদিন কংগ্রেসে যোগদানের পরে সুদীপ রায় বর্মন বলেন পাপের প্রায়াশ্চিত্য ধরে ঘর ওয়াপসি করলেন তিনি। প্রাক্তন এই বিধায়ক বলেন, ঘরে ফিরতে পেরে ভাল লাগছে। তিনি বলেন, অনেক বিধায়কই দলবদল করতে চান। কিন্তু টেকনিক্যাল কারণে তাঁরা কয়েকমাস অপেক্ষা করছেন। বিজেপির প্রতি সবাই বীতশ্রদ্ধ বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সুদীপ রায় বর্মন আরও বলেন, তিনি মনে করেন সময়ের আগেই ত্রিপুরায় নির্বাচন হতে পারে। সেক্ষেত্রে গুজরাত ও হিমাচল প্রদেশের সঙ্গে এই নির্বাচন করানো উচিত বলেও মনে করেন তিনি। ত্রিপুরার বিপ্লব দেব সরকারের প্রতি নিশানা করে বলেছেন, লুটপাট চলছে। সেখানে সাংবাদিকরাও স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন না।

সোমবার বিধায়ক পদে ইস্তফা দেন দুই নেতা
সোমবার সকালে ত্রিপুরা বিধানসভার অধ্যক্ষ রতন চক্রবর্তীর কাছে ইস্তফাপত্র জমা দেন সুদীপ রায়বর্মন এবং আশিসকুমার সাহা। পরে অধ্যক্ষ জানান, তিনি ইস্তফাপত্র গ্রহণ করলেও, তা নিয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নেননি। ইস্তফা জমা দেওয়ার পরে সুদীপ রায় বর্মন জানান, তাঁর সঙ্গে বিজেপির কোনও সম্পর্ক নেই। ত্রিপুরায় বিজেপি সাধারণ মানুষের জন্য কাজ করতে ব্যর্থ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

২০১৭ সালে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন, পরে বিজেপিতে
ত্রিপুরার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এবং প্রাক্তন কংগ্রেস নেতা সন্তোষমোহন দেবের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সমীর রায় বর্মনের ছেলে সুদীপ রায় বর্মন। ২০১৭ সালে তিনি মুকুল রায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দেন। ওই বছরেই মুকুল রায় বিজেপিতে যোগ দেন। বছর শেষে সুদীপ রায়বর্মন-সহ ত্রিপুরার তৃণমূল ইউনিটের প্রায় সবাই বিজেপিতে যোগ দেন। ভোটে জিতে মন্ত্রীও হয়েছিলেন সুদীপ রায় বর্মন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সঙ্গে খারাপ সম্পর্কের কারণে মন্ত্রীত্ব যায়। এরপর একাধিকবার সুদীপ রায়বর্মন দিল্লিতে গিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর গত অগাস্টে কলকাতায় এসে তৃণমূল নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠকও করেন। সাম্প্রতিক সময় তিনি বলেছিলেন আগামী নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে লড়াই করবেন না। গত নভেম্বরে বিজেপি বিধায়ক আশিস দাস তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সময়েও সুদীপ রায়বর্মন এবং আশিসকুমার সাহাকে নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছিল। তবে সব জল্পনার অবসান হল ৮ ফেব্রুয়ারি।












Click it and Unblock the Notifications