করোনা ভাইরাসে মৃত্যু, একবছর পর জোড়াদেহ মিলল হাসপাতালের মর্গ থেকে
করোনা ভাইরাসে মৃত্যু, একবছর পর জোড়াদেহ মিলল হাসপাতালের মর্গ থেকে
করোনার তৃতীয় ওয়েভের আশঙ্কা, তার ওপর নতুন ভ্যারিয়ান্ট ওমিক্রনের চোখ রাঙানি। এরমধ্যে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায় হতবাক বেঙ্গালুরুর প্রশাসন। কোভিডে মৃত্যুর প্রায় এক বছর পর হাসপাতালের মর্গ থেকে হদিশ মিলেছে দুটি মৃতদেহের। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরুর ইএসআই হাসপাতালে।

রাজাজিনগর পুলিশ জানিয়েছে ওই দুটি মৃতদেহ দুর্গা এবং মনিরাজুর। পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন যে এক বছর আগে ওই দু’টি দেহ পুরনো মর্গে বরফ ঘরে সংরক্ষিত ছিল। তিনি বলেন, 'শনিবার যখন হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মীরা পুরনো মর্গটি পরিস্কার করতে যান তখন সেখান থেকে দুর্গন্ধ পান তাঁরা এবং পরে এই দু’টি দেহ উদ্ধার হয়।’ পুলিশ এই দু’টি দেহকে ময়াতদন্তের জন্য ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে পাঠিয়েছে এবং এই দুই মৃতদেহের পরিবারের সদস্যের খোঁজ চালানো হচ্ছে।
তবে গত একবছর ধরে এই দেহদু’টি হাসপাতালের মর্গে রয়েছে, এটা কি করে সম্ভব? এ বিষয়ে পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা জানিয়েছেন যে করোনায় মৃতদের বহু পরিবারের সদস্যরাই দেহ নিতে দ্বিধাবোধ করতেন। তিনি বলেন, 'এই দেহ দুটিও সম্ভবত দাবিহীন। ইতিমধ্যে দ্বিতীয়ও ওয়েভের ধাক্কা সামলাতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। তাই অগোচরেই পড়ে ছিল দুর্গা মনিরাজুর দেহ।’ তিনি জানিয়েছেন যে সোমবারের মধ্যে মৃতদের পরিবারকে সনাক্ত করে ফেলা হবে এবং তাঁদের অনুমতির পরই মৃতদেহ দু’টির সৎকার করা হবে রীতি মেনে। গত বছরের অক্টোবরেই হয়ত এই দু’টি মৃত্যু হয়েছে তবে হাসপাতালের নিশ্চিতকরণের জন্য অপেক্ষা করছে পুলিশ।
এদিকে, করোনার দক্ষিণ আফ্রিকান ভ্যারিয়ান্ট 'ওমিক্রন’ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগে গোটা বিশ্ব। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিচ্ছে ভারতও। সংবাদসংস্থা এএনআই-এর খবর অনুযায়ী, রবিবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য সচিব রাজেশ ভূষণ রাজ্য এবং কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে করোনা ভাইরাসের নয়া ভ্যারিয়ান্ট 'ওমিক্রন’ নিয়ে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছেন। রাজ্যগুলিও এ ব্যাপারে আরও বেশি নজরদারি রাখতে চিঠিতে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। করোনার নয়া ভ্যারিয়ান্ট সম্পর্কে নিয়মিতভাবে সজাগ থাকতে রাজ্যগুলিকে নির্দেশ দিয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব। এরই পাশাপাশি টিকাকরণ কর্মসূচির পরিধিও বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। করোনার বিরুদ্ধে গত দু’বছর ধরে লড়ছে গোটা বিশ্ব। এর আগে ভাইরাসের ডেল্টা স্ট্রেনের হামলায় তছনছ হয়ে গিয়েছিল বিশ্বের একাধিক দেশ। ভারতেও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ বিপজ্জনক হওয়ার পিছনে শক্তিশালী ডেল্টা স্ট্রেনই দায়ী ছিল বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ।












Click it and Unblock the Notifications