জ্যোতিরাদিত্য বিজেপিতে যোগ দিতেই 'বন্ধু' সচিনের টুইট! রাজস্থান কংগ্রেস ঘিরে জল্পনা জোরালো
'হিন্দুস্তান কি দিল' মধ্যপ্রদেশে যে কংগ্রেস 'ভালো নেই' তা বহুদিন ধরেই শোনা যাচ্ছিল কমল নাথ বনাম জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার ঠান্ডা লড়াইকে কেন্দ্র করে। এরপর রাজবংশের সন্তান 'হাত' ছেড়ে পদ্ম তুলে নিতেই ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আর এই রাজকীয় যোগদানের সঙ্গে সঙ্গেই মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেস সরকারের পতন কার্যত নিশ্চিত হয়ে গিয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিজেপির পাখির চোখ রাজস্থানও। সেখানের কংগ্রেস সরকারের উপমুখ্যমন্ত্রীর টুইট ঘিরে নতুন জল্পনা চড়তে শুরু করেছে।

'বর্ষীয়ান' পার্টিতে দ্বন্দ্ব!
কংগ্রেসের ওয়ার্কিং কমিটিতে ষাট বছর বয়সের নিচে আপাতত রয়েছেন ৩ জন। আর পঞ্চাশের নিচে রয়েছেন ২ জন। এমন পরিস্থিতিতে জ্যোতিরাদিত্যর মতো তরুণ তুর্কী নেতার দল ছেড়ে চলে যাওয়া নিঃসন্দেহে দলে বড় ধাক্কা। শুধু তাই নয় , বিজেপিতে যোগ দিয়েই জ্যোতিরাদিত্য ক্ষোভের সুরে জানিয়েছেন যে , কংগ্রেসে যুব নেতাদের কথা শোনা হয়না। আর এই যুব বনাম বর্ষীয়ান যুদ্ধ ঘিরে রাজস্থান কংগ্রেসেও জট কিছু কম নয়!

রাজস্থানে যুব বনাম বর্ষীয়ান যুদ্ধ
২০০ আসনের রাজস্থান বিধানসভায় ২০১৮ সালে কংগ্রেস বিজেপিকে রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে উৎখাত করেছিল। আর সেই জয়ের অন্যতম নায়ক ছিলেন তরুণ তুর্কী নেতা সচিন পাইলট। এরপর যখন সচিন শিবির মনে করেছিল , যে রাজস্থানের তখতে সচিনই বসবেন মুখ্যমন্ত্রীর পদে, তখন দেখা যায়, কংগ্রেস হাইকমান্ড সচিনকে সরিয়ে বেছে নিয়েছেন বর্ষীয়ান অশোক গেহলটকে। এরপর থেকেই রাজস্থানে যুব বনাম বর্ষীয়ান ইস্যু ঘিরে কংগ্রেসের অন্তর কলহ শুরু হয়।

রাজস্থানের ৩ ডজন কংগ্রেস বিধায়ক রয়েছেন বিজেপির দিকে!
রাজস্থানে কার্যত ৩ ডজন কংগ্রেস বিধায়ক ইতিমধ্যেই বিজেপির দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছেন। এমন দাবি রাজস্থান কংগ্রেসের। জ্যোতিরাদিত্যর বিজেপিতে যোগদানের পর থেকেই এই ট্রেন্ড বলে খবর।

সচিন -জ্যোতিরাদিত্য বন্ধুত্ব
সচিন পাইলট ও জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ারা প্রায় একই সময়ে রাজনীতিতে প্রবেশ করেছেন। সচিন পাইলটের সঙ্গে জ্যোতিরাদিত্যর বন্ধুত্বের সম্পর্ক বেশ মজবুত। অন্যদিকে, জ্যোতিরাদিত্য মধ্যপ্রদেশ কংগ্রেসে যে সমস্যায় ভুগেছেন, সেই 'যুব বনাম বর্ষীয়ান' ইস্যুতে ভুগছেন সচিনও। এমন এক প্রেক্ষাপটে জ্যোতিরাদিত্যর দল ছাড়ার খবর শুনে সচিন তাঁকে ফোনও করেন। ফোনে না পেয়ে মেসেজ করেন। কিন্তু কোনও উত্তর আসেনি। এরপর এক টুইটে কার্যত কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন জ্যোতিরাদিত্য।

সচিন পাইলটের টুইট
বন্ধু জ্যোতিরাদিত্যর কংগ্রেস ছেড়ে প্রস্থানের ঘটনার পর একরাশ 'আফসোস' নিয়ে টুইট করেন সচিন। তিনি লেখেন, 'জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার কংগ্রেস ছেড়ে যাওয়াটা দুর্ভাগ্যজনক। আমার মনে হয়, সমস্ত কিছু ঠিক হতে পারত যদি সবাই মিলে বসে সমস্যার সমাধান হতে পারত পার্টির মধ্যেই। ' আর সচিনের এই বক্তব্য পার্টির কাছে যেমন একটি বড় বার্তা। তেমনই বিজেপিও সচিনের এই ক্ষোভকে কাজে লাগাতে মরিয়া চেষ্টা করছে।












Click it and Unblock the Notifications