সুপ্রিম কোর্টের রায় যাই হোক, রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এককাট্টা অযোধ্যাবাসী
একটানা ৪০ দিন সওয়াল জবাবের পর গত ১৪ই অক্টোবর শেষ হয়েছে বিতর্কিত অযোধ্যা মামলার শুনানি। সূত্রের খবর আগামী মাসে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির রঞ্জন গগৈয়ের অবসর গ্রহণের আগে যে কোনও সময়ই বেরোতে পারে এই মামলার রায়।

এদিকে দেশবাসীর দীর্ঘ প্রতীক্ষাকে সঙ্গে করেই অযোধ্যা মামলা প্রসঙ্গে তুঙ্গে উঠেছে রাজনৈতিক তরজা। তবে মামলা শেষে দেশের সর্বোচ্চ ন্যায়ালয় যাই রায় দিক রাজ্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কিছুতেই নষ্ট হতে দেবেন না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন অযোধ্যা বাসীরা।
অন্যদিকে ১৯৯২-এ বাবরি মসজিদ কাণ্ডের পর থেকেই বিতর্কিত ওই এলাকা সম্পূর্ণ ভাবে সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণাধীন। যদিও এরপরও রাম মন্দির ও বাবরি মসজিদ ইস্যুতে বিতর্ক পিছু ছাড়েনি অযোধ্যা-বাসীর। গত সপ্তাহেই অযোধ্যার বিতর্কিত ওই এলাকায় দীপাবলির অনুষ্ঠান করতে চেয়ে বিতর্কে উস্কে দিয়েছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদ।
অযোধ্যা মামলা প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা খালিখ আহমেদ খান বলেন, 'অযোধ্যা বিশ্বের বৃহত্তম সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। এখানে যেমন প্রাচীন প্রাচীন মন্দির, মসজিদ, দরগা রয়েছে পাশাপাশি রয়েছে জৈন ও বৌদ্ধ মন্দিরও। গুরু নানকও এই শহরে এসেছিলেন শিখ ধর্ম প্রচারের উদ্দেশ্যে। বিশ্বের কোথাও একসাথে আমরা এতগুলি ধর্মের সহাবস্থান দেখতে পাই না।’
১৯৯২-র স্মৃতি চারণা করে তিনি এদিন বলেন, 'বিদ্বেষমূলক ধর্মীয় অপ্রচার চালিয়ে অনেকেই অতীতে বারংবার এই পবিত্র জায়গা কে কলুষিত করার চেষ্টা করেছে। বাবরি মসজিদ ধ্বংসের পর অনেক মুসলিমকেই ঘর ছাড়া হতে হয়েছে। জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছে তাদের নিজস্ব ঘরবাড়ি।’ এই প্রসঙ্গে কিছু দিন আগে করা মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ড কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, 'এত বিতর্কের পরও দেশের অখণ্ডতা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে সুপ্রিম কোর্টের রায়কে স্বাগত জানানো উচিত দেশের বাকি মুসলিম সমাজের মানুষের।’
অন্যদিকে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেতা শরদ শর্মার গালাতেও প্রায় একই সুর শোনা গেল। অযোধ্যা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায় যাই হোক তাকে জয় বা পরাজয় কোনও কিছু হিসাবেই দেখতে রাজি নন তিনি। তার কথায়, 'ভগবান রামকে আমরা একজন নৈতিক মূল্যবোধের প্রতিমূর্তি হিসাবেই জেনেছি। রায়দানের পর যে পক্ষই জিতুক বা হারুক সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে পারলে তবেই শহরটির প্রকৃত উন্নতি সম্ভব।’ এখন অযোধ্যা মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের বিচারকের সাংবিধানিক বেঞ্চ কি রায় দেয় সেদিকেই তাকিয়ে গোটা দেশ।












Click it and Unblock the Notifications