এয়ারটেলের পর এবার জিও, ভারতে স্টারলিঙ্ক পরিষেবা আনার জন্যে চুক্তি স্বাক্ষর স্পেসএক্সের সঙ্গে
ভারতে স্টারলিঙ্ক ইন্টারনেট পরিষেবা আনার জন্য এয়ারটেল ও জিও উভয়ই স্পেসএক্সের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ঘোষণা করেছে। মঙ্গলবার এয়ারটেল চুক্তির ঘোষণা করার পর, বুধবার মুকেশ আম্বানির জিও-ও ইলন মাস্কের কোম্পানির সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি করেছে।
জিও অনলাইন ও খুচরা বিক্রয় কেন্দ্রের মাধ্যমে স্টারলিঙ্ক পরিষেবা দেবে। তবে, এটি সম্পূর্ণভাবে স্পেসএক্সের ভারতে অনুমোদন পাওয়ার ওপর নির্ভর করছে।
১) স্টারলিঙ্কের সাহায্যে ভারতের প্রত্যন্ত ও গ্রামীণ অঞ্চলে ইন্টারনেট পৌঁছানো হবে।
২) জিও কেবল স্টারলিঙ্ক সরঞ্জাম বিক্রি করবে না, বরং পরিষেবা ইনস্টলেশন ও সক্রিয়করণে সহায়তা করবে।
৩) বিশ্বের বৃহত্তম মোবাইল অপারেটর (জিও) ও বৃহত্তম উপগ্রহ পরিষেবা প্রদানকারী (স্টারলিঙ্ক) একসঙ্গে কাজ করবে।

এয়ারটেলের স্টারলিঙ্ক অংশীদারিত্ব
এর ঠিক আগের দিন, ভারতী এয়ারটেল ঘোষণা করেছিল যে তারা স্পেসএক্সের স্টারলিঙ্ক ইন্টারনেট পরিষেবা ভারতে আনার জন্য একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সেখানে তারা উল্লেখ করেছিল -
১) এয়ারটেল তার খুচরা দোকানে স্টারলিঙ্ক সরঞ্জাম বিক্রি করবে।
২) ব্যবসায়িক গ্রাহকদের জন্য এয়ারটেলের মাধ্যমে স্টারলিঙ্ক পরিষেবা পাওয়া যাবে।
৩) ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চল, স্কুল, স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও সম্প্রদায়কে সংযুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ করবে।
এয়ারটেলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর গোপাল ভিট্টল এই প্রসঙ্গে বলেন, "স্পেসএক্সের সাথে কাজ করা আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের স্যাটেলাইট সংযোগের প্রতিশ্রুতি আরও দৃঢ় করে"। স্বাভাবিক ভাবেই বোঝা যাচ্ছে স্টারলিঙ্ক নিয়ে ঠিক কতটা উৎসাহী এয়ারটেল, আর এই বিষয়টিই যেন প্রতিযোগিতা আরও বাড়িয়ে তুলছে।
এর আগে স্পেসএক্স ও জিওর মধ্যে স্পেকট্রাম বরাদ্দ নিয়ে বিরোধ ছিল। রিলায়েন্স নিলামের মাধ্যমে বরাদ্দ চেয়েছিল, কিন্তু ভারত সরকার ইলন মাস্কের পক্ষে ছিল। মাস্ক প্রশাসনিকভাবে স্পেকট্রাম বরাদ্দ চেয়েছিলেন, যা সেই সময় বিরোধ সৃষ্টি করেছিল। তবে আপাতত, এখন এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জিও ও স্পেসএক্স একসঙ্গে কাজ করবে, যা বাজারে এয়ারটেলের জন্য প্রতিযোগিতার মাত্রা আরও বাড়িয়ে তুলবে।
ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি -
১) এয়ারটেল ও জিও উভয়ই স্পেসএক্সের স্টারলিঙ্ক পরিষেবা আনার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে।
২) গ্রামীণ অঞ্চলে দ্রুত ইন্টারনেট পৌঁছানোর ক্ষেত্রে স্টারলিঙ্ক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
৩) স্পেকট্রাম বরাদ্দ নিয়ে দ্বন্দ্বের পরেও স্পেসএক্সের সাথে চুক্তি করে জিও নতুন কৌশল গ্রহণ করেছে।
স্টারলিঙ্কের প্রবেশের ফলে ভারতের ইন্টারনেট খাতে বড় পরিবর্তন আসবে, বিশেষত যেখানে ব্রডব্যান্ড সংযোগ নেই সেই জায়গা গুলোও এবার ব্রডব্যান্ড সংযোগের মধ্যে চলে আসবে। এখন দেখার বিষয়, এয়ারটেল ও জিওর মধ্যে কে দ্রুত এই পরিষেবা চালু করতে পারে এবং গ্রাহকদের আকৃষ্ট করতে সক্ষম হয়।












Click it and Unblock the Notifications