‘মুখ ফসকে’ দ্রৌপদী মর্মুকে ‘রাষ্ট্রপত্নী’, অধীর চৌধুরীর মন্তব্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর
‘মুখ ফসকে’ দ্রৌপদী মর্মুকে ‘রাষ্ট্রপত্নী’, অধীর চৌধুরীর মন্তব্যে ক্ষমা চাওয়ার দাবি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর
সোমবারই রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন দ্রৌপদী মুর্মু। তাঁর সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করে সমালোচনার শিকার হলেন কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। তাঁর এই মন্তব্যের জেরে উত্তাল হয়ে ওঠে লোকসভা ও রাজ্যসভা। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি এবং নির্মলা সীতারমণ জানিয়েছেন, অবিলম্বে কংগ্রেস সাংসদকে ক্ষমা চাইতে হবে। অন্যদিকে, অধীর রঞ্জন চৌধুরী অনুরোধ করেছেন, আদতে কী বলতে চেয়েছেন, তা ব্যাখ্যা করার সুযোগ দেওয়া হোক।

ঠিক কী বলেছিলেন অধীর চৌধুরী
ইডি সোনিয়া গান্ধীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। তারপরই প্রতিবাদ করে কংগ্রেসের সাংসদরা বিক্ষোভ করেন। সেই সময় সাংবাদিকরা অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে কংগ্রেসের পরবর্তী পরিকল্পনার কথা জিজ্ঞাসা করেন। এই প্রসঙ্গে অধীর চৌধুরী বলেন, তাঁরা রাষ্ট্রপতির কাছে যাবেন। তিনি দেশের প্রতিটি মানুষের রাষ্ট্রপতি। সেই সময় তিনি রাষ্ট্রপতি না বলে দ্রৌপদী মুর্মুকে 'রাষ্ট্রপত্নী' বলে উল্লেখ করেন। এই ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই সংসদের লোকসভা ও রাজ্যসভা উত্তাল হয়ে ওঠে। অধীর রঞ্জন চৌধুরী ইতিমধ্যে নিজের মন্তব্যের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি বলেন, 'ভুল করে মুখ ফসকে রাষ্ট্রপত্নী কথাটি বলেছিলাম। ক্ষমতাসীনদল ইচ্ছা করে ঘটনাটিকে বড় করে দেখানোর চেষ্টা করছেন।'

কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানির তীব্র নিন্দা
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি অধীর রঞ্জন চৌধুরীর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, 'এই মন্তব্যের জন্য সোনিয়া গান্ধীকে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত। পাশাপাশি তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থী হওয়ার পর থেকে কংগ্রেস নানা ভাবে দ্রৌপদী মুর্মুকে অপমান করার চেষ্টা করছে। কংগ্রেসের নেতারা জানতেন, রাষ্ট্রপতিকে এভাবে সম্বোধন করে শুধু একটি সংবিধানিক পদকেই অপমান করা হয় না, আদিবাসীদের অধিকারের জন্য লড়াই করা মহিলাকেও অপমান করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতিকে এভাবে অপমানের অর্থ হল দেশের মহিলাদের অপমান করা। অধীর রঞ্জন চৌধুরীর এই মন্তব্য নারীবিরোধী ও দলিত বিরোধী।'

রাষ্ট্রপতিকে বার বার অপমান করা হয়েছে
কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি বলেন, 'যখন থেকে এনডিএ রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হিসেবে দ্রৌপদী মুর্মুকে মনোনীত করা হয়েছে, তখন থেকে তাঁকে অপমান করা হচ্ছে। রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে এবং পরে বার বার কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী তাঁকে অপমান করেছেন। শুধুমাত্র দলিত হওয়ার কারণে সোনিয়া গান্ধী তাঁকে অপমান করেছেন।' কংগ্রেস কখনই দলিত, উপজাতি ও মহিলাদের সম্মান দেননি বলে স্মৃতি ইরানি অভিযোগ করেন।

সোনিয়া গান্ধীর ক্ষমা চাওয়া উচিত
স্মৃতি ইরানির সঙ্গে সঙ্গে অধীর রঞ্জন চৌধুরীর এই মন্তব্যের বিরোধিতা করে সরব হয়েছেন একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিজেপি নেতারা। তাঁরা জানিয়েছেন, কংগ্রেস সাংসদের এই মন্তব্যের জন্য সোনিয়া গান্ধীর ক্ষমা চাওয়া উচিত। কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ লোকসভায় বিক্ষোভ দেখান। তিনি বলেন, এই মন্তব্যের জন্য কংগ্রেসের ক্ষমা চাওয়া উচিত। এই মন্তব্য নারী বিরোধী। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী বলেছেন, 'সোনিয়া গান্ধী দলের নেতা নির্বাচিত করেছিলেন। তাই তাঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত।'












Click it and Unblock the Notifications