আদানি ইস্যুতে জেপিসির চেয়ে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত কমিটির তদন্তকেই পছন্দ পাওয়ারের
আদানি ইস্যুতে শরদ পাওয়ার সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে রাহুল গান্ধী তথা বিরোধী নেতাদের বিপরীত অবস্থান নেন। তিনি বিরোধীদের জেপিসি দাবির বিরোধিতা করেন। সাফ জানিয়ে দেন জেপিসি তদন্তের থেকে সুপ্রিম কোর্ট নিযুক্ত কমিটির হাতে তদন্তভার থাকাই শ্রেয়।
কিন্তু কেন তিনি জেপিসির থেকে এগিয়ে রাখলেন সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে গড়া কমিটির তদন্তকে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত, শারদ পাওয়ারের কথা শুনে তিনি আদানিকে সমর্থন করছে বলে প্রাথমিকভাবে মনে হলেও, তিনি তাঁর ব্যাখ্যায় বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন তিনি বিরোধীদের জেপিসির বিরোধিতা করছেন।

শরদ পাওয়ার জানিয়েছেন, আদানি ইস্যুতে যদি বিরোধীদের দাবি মেনে জেপিসি তদন্তর দাবি মেনে নেয় কেন্দ্র তাতে কি আদৌ ফায়দা হবে বিরোধীদের। সেই তদন্ত কি নিরপেক্ষ হতে পারে? কারণ হিসেবে তিনি ব্যাখ্যা করেন, জেপিসিকে যদি ২১ জন সদস্য থাকে তবে ১৫ জন থাকবেন শাসক দলের আর মাত্র ৬ জন থাকবে বিরোধী দলের।
পাওয়ার বলেন, "বিরোধীরা চেয়েছিল একটি সংসদীয় কমিটি নিয়োগ করা হোক আদানি ইস্যুর তদন্তে। সংসদীয় কমিটি নিযুক্ত হলে মনিটরিং থাকত ক্ষমতাসীন দলের কাছে। আর বিরোধীদের দাবিটি ছিল ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে। তদন্তের জন্য জেপিসি হলে ক্ষমতাসীনদের দলেরই সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকত। তাতে সত্য কী বেরিয়ে আসত?

পাওয়ার বলেন, আদানিরা যদি কিছু ভুল করে থাকে, তবে অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিত। কিন্তু সংসদে জেপিসি তদন্তের দাবি নিয়ে আমার ভিন্নমত। তাঁর কথায়, আগে কখনও জেপিসি গঠিত হয়নি, এমনটি নয়। একটি জেপিসির দাবি করা ভুল নয়। তবে কেন দাবি করা হচ্ছে, সেটা ভেবে দেখা দরকার।
আদানি ইস্যুতে শরদ পাওয়ার বলেন, জেপিসির থেকে অনেক কার্যকরী সুপ্রিম কোর্টের গড়া কমিটির তদন্ত। একটি সময়সীমার মধ্যে এই তদন্ত হওয়া দরকার। আর তা একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, একজন বিশেষজ্ঞ, একজন প্রশাসক এবং একজন অর্থনীতিবিদকে নিয়ে গড়া একটি কমিটি করলে তা অনেক নিরপেক্ষ হবে।

শরদ পাওয়ার সুপ্রিম কোর্টের পদক্ষেপকে স্বাগত জানান। এবং আদানির বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য সুপ্রিম কোর্ট সঠিক পদক্ষেপ নিয়েছে বলেই তিনি মনে করেন। পাশাপাশি তিনি মনে করেন, "সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্ববধানে কমিটি গড়ে যদি তদন্ত হয় তাহলে সেই তদন্ত কারো দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে না।
তাঁর মতে, যদি সুপ্রিম কোর্ট তদন্ত পরিচালনা করে, তবে সত্য প্রকাশের আরও ভালো সম্ভাবনা থাকবে। তাই সুপ্রিম কোর্ট তদন্ত ঘোষণা করার পরে, জেপিসি তদন্তের কোনও গুরুত্ব নেই তাঁর কাছে। উল্লেখ্য, কংগ্রেস তথা রাহুল গান্ধী যখন বারবার জেপিসির দাবিতে সরব হয়েছেন, তখন শরদ পাওয়ারের এই দাবি বিরোধীদের ভাবাবে।












Click it and Unblock the Notifications