Adani-Hindenburg Case: সত্যিই কি শেয়ারবাজারে কারচুপিতে আদানিদের হাত?, শীর্ষ আদালতে আজ রায়দান
সুপ্রিম কোর্টে আজ আদানি হিন্ডেনবার্গ মামলার রায়দান। শেয়ার বাজারে কারচুপির অভিযোগ রয়েছে শিল্পপতি আদানিদের বিরুদ্ধে। প্রধানমন্ত্রী মোদী ঘনিষ্ঠ থাকায় আদানিদের আড়াল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। এই নিয়ে একাধিকবার উত্তাল হয়েছে লোকসভা অধিবেশন।
বিরোধীরা বারবার হিন্ডেনবার্গ রিপোর্ট উল্লেখ করে দাবি করেছে শেয়ার বাজারে আদানিদের শেয়ারের দর বাড়ানোর নেপথ্যে রয়েছে বড় কারচুপি। তাই নিয়ে কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে হিন্ডেনবার্গ রিপোর্টে। সেই রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো হই হই পড়ে যায় গোটা দেশে।

আদানি শিল্পপতিরা প্রধানমন্ত্রী মোদী ঘনিষ্ঠ। সেকারণেই তাঁরা শেয়ারবাজারেও এই দুর্নীতি করতে পেরেছে বলে দাবি বিরোধীদের। লোকসভা অধিবেশনে বিরোধীরা এই নিয়ে সরব হয়েছিল। কেন আদানিদের আড়াল করার চেষ্টা করছে সরকার তা নিয়ে সরব হয়েছিলেন তাঁরা।
যদিও আদানিরা সেই অভিযোগ অস্বীকার করে। গৌতম আদানি দাবি করেছিলেন চক্রান্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে এই অভিযোগক করা হচ্ছে। শেয়ারবাজারে শেয়ারের দর বাড়ানোর ক্ষেত্রে তাঁদের কোনও হাতই নেই। পুরোটাই পরিকল্পিত ভাবে তাঁদের কোনঠাসা করতে বলা হচ্ছে।
এই নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও হয়। ২০২৩ সালে একাধিকবার এই মামলার শুনানি হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। নতুন বছরের শুরুতেই সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার রায়দান রয়েছে। বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ রায়দান শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড় এবং বিচারপতি জেপি পারডিওয়ালা এবং বিচারপতি মনোজ মিশ্রর বেঞ্চে হবে মামলার রায়দান।
হিন্ডেনবার্গ রিপোর্টের ভিত্তিতে চারটি আবেদন রয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। আইনজীবী বিশাল তিওয়ারি, এমএল শর্মা এবং কংগ্রেস নেত্রী জয়া ঠাকুর ও অনামিকা জয়সোয়ালের করা আবেদনের প্রেক্ষিতেই আজ মামলার রায়দান হবে। ২০২৩ সালের ২৪ নভেম্বর হয়েছিল মামলার শেষ শুনানি।
মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে আদানিরা সরকারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে শেয়ার বাজারে কারচুপি করে নিজেদেরে কোম্পানির শেয়ারের দর বাড়িয়েছে। সেকারণে ২০২৩ সালে আদানিদের শেয়ারের দর সর্বাধিক থেকেছে। হিন্ডেনবার্গ রিসার্ট রিপোর্টে সেই তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই রীতিমতো হইচই পড়ে গিয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এই অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পরেই সেবি ঘটনার তদন্ত শুরু করে। এবং প্রাথমিক তদন্তে একপ্রকার আদানিদের ক্লিনচিট দেয় সেবি। কিন্তু আদানিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করতে না পারার জন্য সেবিকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে নারাজ সুপ্রিম কোর্ট। তবে সত্যিটা প্রকাশ্যে আসবেই বলে জানিয়েছিল শীর্ষ আদালত। হিন্ডেনবর্গ রিপোর্টে উল্লেখিত তথ্য সঠিক কিনা সেটা সেবির কাছে জানতে চেয়েছিল সুপ্রিমকোর্ট। কারণ এতে লক্ষ লক্ষ বিনিয়োগকারীর স্বার্থ জড়িয়ে আছে।
যদিও এই মামলার শুনানিতে সিনিয়র আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ দাবি করেছিলেন আদানিদের বিরুদ্ধে তদন্ত সঠিক ভাবে করেনি সেবি। এবং সেবির ভূমিকাও এই ঘটনায় সন্দেহের তালিকা থেকে বাদ যায় না। ২০১৪ সাল থেকেই নাকি সেবির কাছে এই নিয়ে একাধিক তথ্য দেওয়া হয়েছিল। পাল্টা সেবির হয়ে ময়দানে নেমেছিলেন সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহেতা। তিনি দাবি করেছিলেন গত কয়েক বছরে একটা ট্রেন্ড তৈরি হয়েছে। সব কিছুতেই রাজনীতির রং দেওয়া হচ্ছে। এবং পরিকল্পনা করে রাজনীতি করা হচ্ছে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে। তিনি জানিয়েছিলেন সেবির কাছে ২৪টি অভিযোগের মধ্যে ২২টি অভিযোেগ আদানিদের বিরুদ্ধে জমা পড়েছিল।












Click it and Unblock the Notifications