সম্মুখ সমরে আদানি গ্রুপ, হিন্ডেনবার্গের সঙ্গে লড়াই করতে নেওয়া হল অভিনব উদ্যোগ
মার্কিন শর্ট সেলার হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য মার্কিন আইনি পাওয়ার হাউসকে নিয়োগ আদানির।
এত সহজে হাল ছেড়ে দেওয়ার পাত্র নন আদানিরা। হাল ছেড়ে দিচ্ছেনও না, এবার তারা সম্মুখ সমরে নামছেন। হিন্ডেনবার্গের সঙ্গে লড়াই করতে অভিনব উদ্যোগ নিল আদানি গ্রুপ। হিন্ডেনবার্গকে জবাব দিতে তারা মার্কিন আইনি পাওয়ার হাউস ওয়াচটেলকে নিয়োগ করল এবার।

ভারতীয় বিলিয়নিয়ার গৌতম আদানি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করেছেন। ধৈর্য্য ধরতে বলেছেন। তিনি বলেছেন, তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য একটি শক্তিশালী ভিতের উপর দাঁড়িয়ে আছে। কোনও আর্থিক ঝুঁকি সম্মুখীন হননি বলেই তিনি তাঁর ব্যবসার শ্রীবৃদ্ধি ঘটাতে পেরেছিলেন। এখন যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা থেকে শীঘ্রই তারা বেরিয়ে আসবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন গৌতম আদানি।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ফিনান্সিয়াল টাইমস রিপোর্ট করেছে, আদানি গ্রুপ মার্কিন শর্ট সেলার হিন্ডেনবার্গ রিসার্চের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য ময়দানে নেমে পড়েছেন। সে জন্য তারা ওয়াল স্ট্রিটের সবথেকে উগ্র প্রতিরক্ষা আইন সংস্থাকে নিয়োগ করে হিন্ডেনবার্গ রিপোর্টকে জবাব দিতে চাইছে। আদানি গ্রুপের বিরুদ্ধে স্টক ম্যানিপুলেশন এবং অ্যাকাউন্টিং জালিয়াতির অভিযোগ আনা হয়েছে, তা খণ্ডন করাই এখন ভারতীয় সংস্থাটির লক্ষ্য।
ভারতীয় বিলিয়নিয়ার গৌতম আদানি সমস্যায় পড়েছেন তাঁর ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে শেয়ার মার্কেটে ধস নেমেছে। হিন্ডেনবার্গের রিপোর্টের পর তাঁর মূলধন হ্রাস পেয়েছে। আর তার ফলে যে সংকটের মুখোমুখি হয়েছেন তিনি, তা মোকাবিলার জন্য নিউইয়র্কের ওয়াচটেল, লিপটন, রোজেন এবং কাটজের সিনিয়র আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে সমাধান সূত্র বের করতে চাইছেন তিনি। যোগাযোগ
আদানি গোষ্ঠী এই যুদ্ধে হিন্ডেনবার্গের সঙ্গে লড়তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম ব্যয়বহুল আইন সংস্থা ওয়াচটেলকে নিয়োগ করেছে। হিন্ডেনবার্গ রিপোর্টের প্রভাবে তিনি গভীর সমস্যায় পড়েছেন। কয়েক দশক ধরে এই ওয়াচটেল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু বৃহত্তম কোম্পানির উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করছে।
এই ক্ষেত্রে তাদের সুখ্যাতি থাকায় আদানিরা তাদের উপর ভরসা করছে। আদানি গ্রুপ প্রথম থেকেই হিন্ডেনবার্গ রিসার্চ দ্বারা উত্থাপিত অভিযোগগুলি খারিজ করে আসছেন। আদানি গ্রুপের সাতটি প্রধান তালিকাভুক্ত কোম্পানি এবং তিনটি অন্যান্য সংস্থা রয়েছে। হিন্ডেনবার্গের রিপোর্টের পর এই সমস্ত সংস্থাগুলির স্টকে বিরাট পতন হয়েছে।
হিন্ডেনবার্গের রিপোর্টে জানা গিয়েছে, আদানি গ্রুপের তালিকাভুক্ত স্টকগুলির বাজার পড়ে গিয়েছে। ফলে আদানি গ্রুপের মূলধন থেকে ১১০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মুছে গিয়েছে। এরপর মার্কিন আইন সংস্থাকে নিয়োগের মাধ্যমে আদানি গ্রুপ শুধুমাত্র হিন্ডেনবার্গের সঙ্গে লড়াই করার পরিকল্পনা করছে না, বিশ্বব্যাপী আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে জানিয়েছে, তারা শক্তিশালী অবস্থানেই রয়েছে।












Click it and Unblock the Notifications