গ্রামীণ কর্মসংস্থান একশো দিনের কাজের মজুরি সংযুক্ত হচ্ছে আধারের সঙ্গে, সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের
১০০ দিনের কাজে অর্থাৎ মহাত্মা গান্ধী জাতীয় কর্মসংস্থান গ্যারান্টি আইনের অধীনে মজুরি প্রদানের জন্য এবার আধার রুটেড পেমেন্ট সিস্টেম চালু করছে কেন্দ্র।
এমজিএনআরইজিএ প্রকল্পের আওতায় একশো দিনের কাজেই মূলত কর্মসংস্থান হয় গ্রামীণ এলাকায়। এই একশো দিনের কাজের মজুরি এবার সংযুক্ত হচ্ছে আধারের সঙ্গে। একশো দিনের কাজের টাকা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগের মধ্যেই এই চমকপ্রদ সিদ্ধান্ত নিল কেন্দ্রের সরকার।

কেন্দ্রের গ্রামীণ উন্নয়নমন্ত্রক গত ৩০ জানুয়ারি এই মর্মে তাদের সর্বশেষ সিদ্ধান্ত জানিয়ে একটি চিঠি দিয়েছে রাজ্যকে। এই সিদ্ধান্তে জানানো হয়েছে, কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার ১০০ দিনের কাজে অর্থাৎ মহাত্মা গান্ধী জাতীয় কর্মসংস্থান গ্যারান্টি আইনের অধীনে মজুরি প্রদানের জন্য এবার আধার রুটেড পেমেন্ট সিস্টেম চালু করছে।
তবে এই আধার লিঙ্কযুক্ত পেমেন্ট প্রথার নিন্দায় সরব হয়েছে বিরোধীরা। কেননা এই সিদ্ধান্ত শ্রমিক বিরোধী বলে তাঁরা মন্তব্য করেছেন। শুধু বিরোধীরাই নন, জিন ড্রেজের মতো অর্থনীতিবিদও একশো দিনের কাজের মজুরি প্রসঙ্গে বলেছেন ৫৭ শতাংশ কর্মী আধার-ভিত্তিক পেমেন্ট সিস্টেমের অংশ নন। ফলে তারা সঙ্কটে পড়ে যাবে এই সিদ্ধান্তে।
বিরোধীরা মনে করছে, কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্ত জাতীয় প্রকল্পের অধীনে কাজ চাওয়া থেকে সাধারণকে নিরুৎসাহিত করার একটি প্রক্রিয়া। মোদী সরকারের একটি এমন প্রকল্পে এ জাতীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করল, যার অধীনে প্রতিটি গ্রামীণ পরিবারকে বছরে ১০০ দিনের কাজ দেওয়া হয়।
কেন্দ্রীয় গ্রামীণ উন্নয়ন মন্ত্রক জানিয়েছে একশো দিনের প্রকল্পের অধীনে সুবিধাভোগীদের সমস্ত অর্থ প্রদান শুধুমাত্র এবিপিএসের মাধ্যমে করা হবে এবং সেই অনুযায়ী রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে তৈরি হতে বলেছে। এই সিদ্ধান্তটি ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর করা হয়েছে বলেও জানানো হয় মন্ত্রকের তরফে।
নারেগা সংগ্রাম মোর্চা এই প্রকল্পে শ্রমিক গ্রুপগুলি ছাতা হিসেবে কাজ করে। তারা জানিযেছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে একশো দিনের কাদে নিবন্ধিত কর্মীদের ৫৭ শতাংশ কাজ হারাবে বা বঞ্চিত হবে। এই সংস্থার পক্ষে জানানো হয়েছে, এখন ব্যাঙ্ক ও ডাক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে শ্রমিকদের মজুরি দেওয়া হয়। আর এবিপিএস হল একটি জটিল প্রক্রিয়া। কর্মীদের তাদের আধার নম্বরের সঙ্গে তাদের অ্যাকাউন্ট লিঙ্ক করতে হবে। ব্যাঙ্কে গিয়ে লিঙ্ক করার পরই একশো দিনের টাকা মিলবে।
ব্যাঙ্কের গ্রাহকের বিশদ বিবরণ জমা দেওয়ার পরে অ্যাকাউন্টটি ভারতের ন্যাশনাল পেমেন্ট কর্পোরেশনে নিবন্ধিত হতে হবে। এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে অ্যাকাউন্টধারীর বায়োমেট্রিক প্রমাণীকরণও জড়িত। মাত্র ৪৩ শতাংশ কর্মী এবিপিএস সুবিধায় অ্যাক্সেস পেয়েছেন। বাকি ৫৭ শতাংশ এবিপিএস আওতায় পেমেন্টের বাইকে।












Click it and Unblock the Notifications