সেপ্টেম্বরেই ৪ ফুট বরফের তলায় লাহুল-স্পিতি! খোঁজ মিলল নিখোঁজ ৪৫ আইআইটি পড়ুয়ার
মাত্র মাস কয়েক আগেই লাহুল-স্পিতি সফরে এক স্থানীয় গৃহবধূ-র আক্ষেপ প্রত্যক্ষ করার সুযোগ হয়েছিল।
মাত্র মাস কয়েক আগেই লাহুল-স্পিতি সফরে এক স্থানীয় গৃহবধূ-র আক্ষেপ প্রত্যক্ষ করার সুযোগ হয়েছিল। সমুদ্রস্পৃষ্ট থেকে ১৫ হাজার ফিট উপরে হিমালয়ের কোলে অবস্থিত কাজা শহরের সেই গৃহবধূর আক্ষেপ ছিল শুখা স্পিতি নদিকে নিয়ে। কারণ, ফি বছরই জুন মাসের এই সময়ে বরফ গলার স্বচ্ছ জলে ভরে থাকে স্পিতি। কিন্তু গত শীতের সময় সেভাবে বরফ পড়েনি লাহুল-স্পিতিতে। ফলে, জুন মাসে গোটা লাহুল-স্পিতির পাহাড়ের গা-গুলো এক্কেবারে ন্যাড়া হয়েছিল। শীত এলেই চাষবাসের অযোগ্য হয়ে যায় লাহুল-স্পিতির উপত্য়কা। ফলে, গরমকাল শুরু হলেই ফের জেগে ওঠে লাহুল-স্পিতির চাষবাস ব্যবস্থা। এতে বাড়তি অক্সিজেন জোগায় স্পিতি এবং অন্য়ান্য নদিগুলির বরফ গলা জল। কিন্তু, জলের অভাবে জুন মাস থেকে কিছুদিন আগে পর্যন্তও নিত্য কাজকর্ম করাটাও অসুবিধা হত। মাত্র ৫০ লিটার জলের ট্যাঙ্কের দাম পৌঁছেছিল ১৫০০ টাকা-তে।

সেই গৃহবধূর আক্ষেপ ছিল লাহুল-স্পিতির এই ক্ষরা কাটতে কাটতে পরের জুন মাস লেগে যাবে। কারণ, শীত এলে বরফ যদি ভালমতো পড়ে তাহলেই স্বস্তি মিলবে। লাহুল-স্পিতি-তে বর্ষা বলে কোনও বস্তু নেই। সমুদ্রস্পৃষ্ট থেকে এত উঁচুতে বর্ষাকালে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মানে বরফ পড়া। কিন্তু তা বলে সেপ্টেম্বরে লাহুল-স্পিতি জুড়ে চার ফুট করে বরফের আস্তরণ! এমন তুষারপাত কবে হয়েছে তা খেয়াল করে বলতে পারছেন না হিমালয়ের কোল্ড-ডেজার্ট মাউন্টেনের বাসিন্দারা।

এই বরফের সঙ্গে লাহুল-স্পিতির স্থানীয়দের সখ্য থাকলেও পর্যটকরা পড়েছেন বেজায় অসুবিধায়। ঠিক কতজন পর্যটক এখন লাহুল-স্পিতিতে আটকে আছেন তার সংখ্য়াটা স্থানীয় প্রশাসন বলে পারছে না। তবে, বরফ ঢাকা রাস্তার উপরে দাঁড়িয়ে থাকা বিভিন্ন গাড়ি থেকে যে হিসাবটা পাওয়া গিয়েছে তাতে অন্তত ৩৪৫ জন পর্যটকের সংখ্যাটা জানা গিয়েছে। এদের মধ্যে হামতাপাসে ট্রেক করতে যাওয়া আইআইটি রুরকি-র ৪৫ জন ছাত্রের দলটিও রয়েছে। কিলং-এর কাছে দলটি আটকে আছে বলে জানিয়েছেন কিলং-এর সাবডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট অমর নেগি।

রোহটাং পাসেও ব্যাপক তুষারপাত হয়েছে। দিন কয়েক আগেও পর্যটকরা আক্ষেপ করছিলেন রোহটাং পাস-এর বরফের দেখা না পেয়ে। এখন সেখানে কয়েক ফুট বরফ। সেখান থেকে যে রাস্তা স্পিতির ভ্যালির দিকে ঢুকেছে তাতেও পুরু বরফের আস্তরণ। এই রাস্তাগুলিতেও আটকে রয়েছে একাধিক প্রাইভেট কার ও ট্রাক। কিলং-এর সাবডিভিশনাল ম্যাজিস্ট্রেট অমর নেগি জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার লাহুল-স্পিতিতে আটকে পড়া পর্যটকদের উদ্ধারে বায়ুসেনার কাছে দুটি হেলিকপ্টার চেয়েছ। এছাড়াও বুধবার আকাশ পথে লাহুল-স্পিতির-র পরিস্থিতি আকাশপথে খতিয়ে দেখবেন হিমাচলের মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম ঠাকুর। তাঁর সঙ্গে থাকবেন মন্ত্রী ডক্টর রাম লাল মার্কান্ডা। সাপরিষদ মুখ্যমন্ত্রী মঙ্গলবারই কুল্লু পৌঁছেছেন। সেখানে এদিন বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন মুখ্যমন্ত্রী জয়রাম ঠাকুর।

এদিকে, বরফের তলায় চলে যাওয়া কিলং-স্টিংগ্রি রাস্তার কিলোমিটার চারেক জেসিবি মেশিন চালিয়ে চলাচলের কিছুটা ব্যবস্থা করেছেন। রাস্তার মাঝে দুর্যোগে আটকে রয়েছে জেনারেল রিজার্ভ ইঞ্জিনিয়ার ফোর্সের একটি দলও।












Click it and Unblock the Notifications