উত্তরপ্রদেশ বিজেপির হাতে থাকলেও কমবে ভোট, পাঞ্জাব-উত্তরাখণ্ডে আপের উত্থানের ইঙ্গিত এবিপি সি-ভোটারে
উত্তরপ্রদেশ বিজেপির হাতে থাকলেও কমবে ভোট, পাঞ্জাব-উত্তরাখণ্ডে আপের উত্থানের ইঙ্গিত এবিপি সি-ভোটারে
শিয়রে বড় পরীক্ষা বিজেপির। ফের ৫ রাজ্যের বিধানসভা ভোট। এদিকে এবিপি সি-ভোটারের সমীক্ষা বলেছ উত্তর প্রদেশের বিধানসভা ভোটে বিজেপি জিতবে। কিন্তু ভোট অনেকটাই কমবে। ওদিকে আবার পাঞ্জাবে বিজেপির নাম গন্ধ থাকবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে এবিপি সি-ভোটারে। আর উত্তরাখণ্ডে ক্ষমতা ধরে রাখাই কঠিন হয়ে যাপে বিেজপির। মোটের উপর চার রাজ্যের বিধানসভা ভোট খুব একটা সুবিধাজনক হবে না বিজেিপর পক্ষে।

উত্তর প্রদেশে কমবে ভোট
সামনেই পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা ভোট। উত্তর প্রদেশ, পাঞ্জাব, উত্তরাখণ্ড, গোয়া এবং মণিপুর। পাঁচ রাজ্যের বিজেপির জয়যাত্রা খুব সহজ হবে না। বিশেষ করে উত্তর প্রদেশে। এবিপি সি-ভোটার দাবি করেছে, উত্তর প্রদেশে এবার বিজেপি জিতবে। কিন্তু খুব একটা সহজ হবে না সেই জয়। যোগীর জনপ্রিয়তা গত ৫ বছরে অনেকটাই কমেছে। উত্তর প্রদেশের ব্রাহ্মণরা বিজেপির উপর রুষ্ট। অর্থাৎ উচ্চ বর্ণের ভোট খুব একটা বিজেপির ঝুলিতে আসবে না বসেই মনে করছে এবিপি সি ভোটারের সমীক্ষা। ৪০৩ বিধানসবা কেন্দ্রের নির্বাচন হবে উত্তর প্রদেশে। বিজেপি জোট ২১৩ -২২১টি আসনের বেশি পাবে না বলে মনে করছে সমীক্ষা। ২০১৭-র বিধানসভা ভোটে যেখানে ৩১৭ আসন পেয়েছিল বিজেপি জোট। এবার সেখানে ১০০ ভোট কম পড়বে বিজেপির।

যোগীর জনপ্রিয়তা হ্রাস
যোগীর জনপ্রিয়তা গত ৫ বছরে অনেকটাই কমেছে। তার সুফল পেয়েছে সমাজবাদী পার্টি। অখিলেশ যাদব যদিও সেই ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না বলেই দাবি করেছেন। তারপরেও সমাজবাদী পার্টি এবার বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে দাবি করেছে সমীক্ষা। ২০২২-র বিধানসভা ভোটে সমাজবাদী পার্চি ১৫২ থেকে ১৬০টি আসন পাবে বলে দাবি করা হয়েছে সমীক্ষায়। বিজেপির সঙ্গে মূল লড়াইটা হবে সমাজবাদী পার্টির। মাঝে থাকবে বহুজন সমাজ পার্টি। ৬০টি আসন তাঁদের ঝুলিতে পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। কংগ্রেসের কোনও চিহ্ন এবারও থাকবে না উত্তর প্রদেশে। সমীক্ষা অন্তত তাই বলছে। সমাজবাদী পার্টি আগে থেকেই জানিয়ে দিয়েছে ছোট দল ছাড়া তারা আর কোনও দলের সঙ্গে জোটে যাবে না। মেপে মেপে পা ফেলছেন অখিলেশ যাদব। কয়েকদিন আগেই কনৌজে সমাজবাদী পারফিউম প্রকাশ্যে এনেছেন তিনি। সুগন্ধী বাজারে আনার পরেই জোর চর্চা শুরু হয়ে গিয়েছে। ভোটের আগেই একের পর এক চমক দিয়ে রাজ্যবাসীর মনজয়ে মরিয়া হয়ে উঠেছে সপা। এদিকে লখিমপুর খেরি কাণ্ড নিয়ে বেশ চাপেই রয়েছে বিজেপি। বরুণ গান্ধীও বেসুরো গাইতে শুরু করেছেন।

পাঞ্জাবে ধাক্কা খাবে বিজেপি
৫ রাজ্যের বিধানসভা ভোটের মধ্যে আরও একটি বড় পরীক্ষা পাঞ্জাব। কৃষি আইন নিয়ে গত এক বছর ধরে আন্দোলন করছেন পাঞ্জাবের কৃষকরা। ২৯ নভেম্বর দিল্লিতে সংসদ অভিযানের ডাক দিয়েছে কৃষকরা। ২৮ নভেম্বরের মধ্যে কৃষি আইন প্রত্যাহার করতে বলা হয়েছে। তার মধ্যে আবার ভোট এগিয়ে আসছে পাঞ্জাবে। ১১৭টি বিধানসভা আসনের মধ্যে এবার আপই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে দাবি করা হয়েছে। কারণ কংগ্রেসের অবস্থা ভীষণ খারাপ। গোষ্ঠী দ্বন্দ্বে জর্জরিত কংগ্রেস। তার উপরে আবার অমরিন্দর সিং আলাকা করে রাজনৈতিক দল তৈরি করেছেন। কাজেই এবার সরকারে থাকা হবে না কংগ্রেসের এমনই মনে করছে এবিপি সি ভোটার সমীক্ষা। ১১৭টি আসনের মধ্যে ৪৭-৫৩টি আসন পেয়ে একক সংখ্যা গরিষ্ঠতা পাবে আপ। কংগ্রেসকে ৪০-৫০টি আসন পেয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। অন্যদিকে শিরোমণি অকালি দল ১৬-২৪ আসন পাবে বলে জানিয়েছে সমীক্ষা। বিজেপি ১টার বেশি আসন পাবে না বলে দাবি করেছেন তিনি।

উত্তরাখণ্ডেও চাপে বিজেপি
উত্তরাখণ্ডেও চাপে থাকবে বিজেপি। এমনই দাবি করা হয়েছে এবিপি সি ভোটারে। উত্তরাখণ্ডে উপনির্বাচনেরই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে বিজেপির অবস্থা। মুখ্যমন্ত্রীর নিজের শহরেই জিততে পাকেনি বিজেপি। কংগ্রেসের কাছে ধুয়ে মুছে সাফ হয়ে গিয়েছে তারা। গত এক বছরের মধ্যে ৩ জন মুখ্যমন্ত্রী বদল হয়েছে উত্তরাখণ্ডে। ৭০টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে ৩৬-৪০টি আসন পাবে বিজেপি। তার থেকেও বিজেপির কাছে বড় চ্যালেঞ্জ হবে মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচন করা। কংগ্রেস হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেবে বিজেপিকে। ২০টির বেশি আসন পাবে কংগ্রেস। অন্যদিকে আপ আসন সংখ্যা বাড়াবে বলে জানিয়েছে এবিপি সি ভোটার।












Click it and Unblock the Notifications