ভেসে গিয়েছে ব্রিজ, জলের ধাক্কায় লাইনচ্যুত ট্রেন! প্রাক-বর্ষার বৃষ্টিতে অসমে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২ লক্ষ মানুষ
ভেসে গিয়েছে ব্রিজ, জলের ধাক্কায় লাইনচ্যুত ট্রেন! প্রাক-বর্ষার বৃষ্টিতে অসমে ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২ লক্ষ মানুষ
উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে প্রাক-বর্ষায় অবিরাম বৃষ্টি চলছে। এর মধ্যে অসম (assam) এবং অরুণাচল প্রদেশের (Arunachal pradesh) অবস্থা খারাপ। অসমের বিভিন্ন জায়গায় বন্যা ও ভূমিধ্বসের কারণে স্বাভাবিক জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। বিভিন্ন নদীর জল বিপদসীমার অনেকটা ওপর দিয়ে বাইছে। আবহাওয়া দফতরের তরফে আগামী তিন দিন ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়ার পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কা।
|
বন্যায় জলের নিচে হাফলং স্টেশন
অসমে ভারী বর্ষণ এবং ভূমিধ্বসের কারণে দিমা হাসাও জেলার হাফলং স্টেশনে সম্পূর্ণরূপে জলের নিচে। বন্যায় ডুবে থাকা স্টেশনের যে ছবি সামনে এসেছে, সেখানে দেখা যাচ্ছে কীভাবে বন্যার জলের চাপে স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনগুলো লাইনচ্যুত হচ্ছে। ১৫ মে থেকে হাফলংগামী সব রাস্তা এবং রেলপথ অবরূদ্ধ হয়ে রয়েছে। অবিরাম বৃষ্টি এবং ভূমিধসের কারণে হাফলং-এ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। কাছাড়ে বন্যায় মৃত্যু হয়েছে ২ জনের।
|
ভেসে গিয়েছে ব্রিজ
ব্যাপক বর্ষণ ও ভূমিধসের কারণে অসমে রাস্তা ও রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে একটি ব্রিজ। গত ২৪ ঘন্টায় বিভিন্ন জেলায় অন্তত ১৬ টি জায়গায় নদীর বাঁধ ভেঙেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করা ভিডিওতে ডিমা হাসাও জেলায় বন্যার জলে পুরনো সেতু ভেঙে পড়া এবং ভেসে যাওয়ার দৃশ্য দেখা গিয়েছে। দিমা হাসাও জেলায় যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ রূপে বিচ্ছিন্ন
|
ক্ষতিগ্রস্ত প্রায় ২ লক্ষ মানুষ
প্রাক বর্ষার বৃষ্টিতে অসমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ২ লক্ষ মানুষ। সরকারি তথ্য অনুযায়ী শুধুমাত্র কাছারেই ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা প্রায় ৫২ হাজারের মতো। বছরের প্রথম বন্যায় এখনও পর্যন্ত ৬৫২ টি গ্রাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় ১৭ হাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কাছাড় ও হোজাই জেলা।
|
আটকে পড়া মানুষজনকে উদ্ধার
অসমে অবিরাম বৃষ্টির কারণে অসমের নগাঁও জেলার একটি ভিডিও সামনে এসেছে। সেখানে বৃষ্টির জল সর্বত্র। বন্যা কবলিত এলাকায় আটকে পড়া মানুষকে উদ্ধারের কাজ চালানো হচ্ছে। বন্যা কবলিত এলাকায় প্রশাসনকে সাহায্য করতে সেনাবাহিনী ছাড়াও আধাসামরিক বাহিনী, দমকল, এসডিআরএফ এবং প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।ভূমিধ্স এবং জলের আটকে পড়ার কারণে দুটি ট্রেনের প্রায় ২৮০০ যাত্রীকে উদ্ধার করে বিমান বাহিনী। সাতটি জেলায় প্রায় ৫৫ টি ত্রাণ শিবির খোলা হয়েছে। সেখানে প্রায় ৩৩ হাজার মানুষকে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও অন্য জেলাগুলিতে আরও ১২ টি ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্র খোলা হয়েছে।
ছবি সৌ:টুইটার












Click it and Unblock the Notifications