‘শূন্য’ পেয়েও হাল ছাড়ছেন না অভিষেক, উত্তর-পূর্বে দলের বিস্তারে নয়া কৌশল তৃণমূলের
গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে মুথ থুবড়ে পড়েছে অভিষেকের ঘোড়া। সামনে বছর ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের নির্বাচন। কিন্তু গোয়ায় হারের পর থেকে ত্রিপুরা, মেঘালয় বা অন্যান্য রাজ্যে কোনও কর্মসূচি পালন করেনি তৃণমূল।
গোয়া বিধানসভা নির্বাচনে মুথ থুবড়ে পড়েছে অভিষেকের ঘোড়া। সামনে বছর ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের নির্বাচন। কিন্তু গোয়ায় হারের পর থেকে ত্রিপুরা, মেঘালয় বা অন্যান্য রাজ্যে কোনও কর্মসূচি পালন করেনি তৃণমূল। ফলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, এবার কি তবে ভিনরাজ্য দলের বিস্তারের পরিকল্পনা থেকে পিছু হটছে তৃণমূল? কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার চাপের মুখে স্পষ্ট করে দিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

শীঘ্রই লড়াই শুরু তৃণমূলের
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও হাল না ছাড়ার বার্তা দিলেন। তিনি জানিয়ে দিলেন পিছু হটছেন না তাঁরা। আগামী বছর ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের বিধানসভা ভোটে তাঁরা লড়বেন। উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিকে যে এবার তৃণমূল পাখির চোখ করবে, তা স্পষ্ট হয়ে গেল তৃণমূলের দায়িত্ব বণ্টনে। তৃণমূল শীঘ্রই তাদের লড়াই শুরু করবে উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলিতে।

ত্রিপুরাকে প্রথম টার্গেট তৃণমূলের
২০২১-এ তৃণমূল কংগ্রেস বাংলার বিধানসভা নির্বাচনে পর পর তিনবার জয়ী হওয়ার পরই ভিনরাজ্যে দলের বিস্তারে অবস্থান স্পষ্ট করে দিয়েছিল। ত্রিপুরাকে প্রথম টার্গেট করে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তারা। ত্রিপুরা রাজ্যে বিজেপির কোন্দলের সুযোগ নিতে চেয়েছিল। তারপর ত্রিপুরার তৃণমূলের একটা সংগঠন ছিলই। একটা সময় কংগ্রেসকে ভেঙে তৃণমূল ত্রিপুরায় পথ চলা শুরু করেছিল। তারপর তারাই বিজেপিতে গিয়ে পরিবর্তনের কাণ্ডারি হয়ে ওঠেন ত্রিপুরায়।

ভোট শতাংশে তৃণমূলের অস্তিত্ব
সেই লক্ষ্য নিয়ে ত্রিপুরায় পা দিয়ে তৃণমূল দলের বিস্তারের কাজ শুরু করে। সম্প্রতি ত্রিপুরার পুর নির্বাচনে অংশ নিয়ে তাঁদের অস্বিত্ব জানান দেয়। কিন্তু বিজেপিকে হারিয়ে কোনও পুরসভা দখল করতে পারেনি তৃণমূল। ভোট শতাংশে তৃণমূল তাদের অস্তিত্ব তুলে ধরলেও, সাফল্য পায়নি ত্রিপুরায়। তারপর ত্রিপুরা ছেড়ে গোয়া নিয়ে পড়েন তৃণমূল নেতারা।

তৃণমূলের উত্থানে বিরোধী শক্তি ভাগ
কিন্তু গোয়াতেও কাঙ্খিত সাফল্য ধরা দেয়নি তৃণমূলকে। তৃণমূল কোনও আসনই জিততে পারেনি গোয়ায়। উল্টে কংগ্রেসের ভোট কেটে বিজেপির জয়ের পথ তাঁরা সুগন করে দিয়েছে। ত্রিপুরা বা মেঘালয়েও সেই একই পথে হাঁটছে তৃণমূল। ২০২১-এ ত্রিপুরায় আবার পা দিয়ে তারা কংগ্রেসকেই ভেঙেছে। দুর্বল হয়েছে কংগ্রেস। বলা যায় কংগ্রেস দু-তিন ভাগে ভাগ হয়ে বিজেপির চলার পথ মসৃণ করে দিয়েছে। তারপর রয়েছে সিপিএম। বিরোধী ভোট ভাগ হচ্ছে আর শাসকদল বিজেপি তার লাভ তুলছে।

গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিজেপিকে হারাব
তবে সম্প্রতি বিজেপির বিক্ষুব্ধ গোষ্ঠীর নেতা সুদীপ রায় বর্মন দলবল নিয়ে কংগ্রেসে যোগ দেওয়ায় তৃণমূলের মনোবল ভেঙে দিয়েছেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা বিজেপির বিক্ষুব্ধদের নিয়ে আশাবাদী ছিলেন বরাবরই। তাই তাঁরা বলতেন, আমরা ইচ্ছা করলেই ত্রিপুরার সরকার ভেঙে দিতে পারি। কিন্তু আমরা তা করব না। আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে বিজেপিকে ছুড়ে ফেলে দেব।

রাজনৈতিক ভিত তৈরির কাজ থেমে নেই
কিন্তু ত্রিপুরা পুর নির্বাচনের পর থেকে তৃণমূলকে আপ সেভাবে দেখা যাচ্ছে না। মাত্র একজন কাউন্সিলর হয়েছিলেন ত্রিপুরা থেকে। তিনি আবার বিজেপিতে যোগ দিয়েছেনষ ২০ শতাংশ ভোট পেলেও তৃণমূল যে এখনও ঘাঁটি গাড়তে পারেনি প্রতিবেশী রাজ্য ত্রিপুরায়, তা নিশ্চিত তাদের ক্রিয়াকলাপে। যদিও তা মানতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। তৃণমূলের দাবি, তাঁদের রাজনৈতিক ভিত তৈরির কাজ থেমে নেই ত্রিপুরা-মেঘালয়-সহ উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে।

এক-একজন নেতাকে দায়িত্ব এক এক রাজ্যে
তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তাঁরা এক ইঞ্চি জমিও ছাড়বেন না বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে। তিনি বলেন, সমস্ত রাজ্যেই এক-একজন নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁরা নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ত্রিপুরার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আর মেঘালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মানস ভুঁইয়াকে। অসম দেখছেন সুস্মিতা দেব।

সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পালা তৃণমূলকে
এখানে উল্লেখ্য, একটা সময়ে ত্রিপুরার দায়িত্ব ঘটা করে তুলে দেওয়া হয়েছিল কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়া সুস্মিতা দেবের হাতে। অসমিয়া সুস্মিতার ত্রিপুরা-যোগকে কাজে লাগাতে চেয়েছিল তৃণমূল। কিন্তু তৃণমূল ভোট বাড়াতে সক্ষম হলেও, সে অর্থে লাভের লাভ কিছু হয়নি। বিগত তিন মাস ত্রিপুরা বা উত্তরপূর্বে বড় কোনও কর্মসূচি পালন না করলেও অভিষেক স্পষ্ট করে দিলেন খুব শীঘ্রই তারা শুরু করবেন রাজনৈতিক কর্মসূচি। মেঘালয় নিয়েও তাদের পরিকল্পনা রয়েছে। মেঘালয়ে ইতমধ্যেই প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা পেয়েছে তৃণমূল। এবার সামনে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পালা।












Click it and Unblock the Notifications