অভিষেক রবিবারই ত্রিপুরা যাচ্ছেন, সায়নীকে গ্রেফতারের পর রণকৌশল বদল তৃণমূলের
বাংলার যুব তৃণমূলের সভানেত্রী সায়নী ঘোষকে গ্রেফতারের পরই রণকৌশল বদল করে রবিবারই ত্রিপুরায় যাচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ত্রিপুরা পুলিশ তৃণমূলের যুব সভানেত্রীকে থানায় তলব করে দীর্ঘ জেরার পর গ্রেফতার করে।
বাংলার যুব তৃণমূলের সভানেত্রী সায়নী ঘোষকে গ্রেফতারের পরই রণকৌশল বদল করে রবিবারই ত্রিপুরায় যাচ্ছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ত্রিপুরা পুলিশ তৃণমূলের যুব সভানেত্রীকে থানায় তলব করে দীর্ঘ জেরার পর গ্রেফতার করে। তাঁকে গ্রেফতার পরই অভিষেক রওনা দেন ত্রিপুরার উদ্দেশ্যে। ত্রিপুরা থানায় গিয়েই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পরবর্তী কর্মসূচির কথা জানাবেন।

সোমবার আগরতলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচি ছিল। সেইমতো সোমবারই অভিষেক ত্রিপুরায় আসবেন, তা ঠিক ছিল। কিন্তু এদিন দিনভর ত্রিপুরার রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তাল থাকার পর বিকেলে যুব তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রী সায়নী ঘোষকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সেই কারণেই রণকৌশল বদল করে অভিষেক রবিবারই ত্রিপুরা যাচ্ছেন।
এদিন সায়নীকে থানায় নিয়ে গিয়ে গ্রেফতার করা হয়। তৃণমূলের অভিযোগ, ত্রিপুরায় পুরভোটের চারদিন আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভা বানচাল করতেই পুলিশকে দিয়ে সায়নীকে গ্রেফতার করিয়েছে বিজেপি। সায়নীর বিরুদ্ধে এফআইআর বা কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগের কথা জানাতে পারেনি পুলিশ। তাঁকে থানায় ডেকে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর বিকেলে গ্রেফতার দেখানো হয়। খুনের চেষ্টার অভিযোগে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ। তাঁর বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সভার সামনে গিয়ে খেলা হবে স্লোগান তুলে উত্তেজনা ছড়ানোর চেষ্টা এবং গাড়ি চাপা দিয়ে মারার চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। গাড়িতে আর যে সব নেতা-নেত্রীরা ছিলেন, তাঁদেরও ডেকে জেরা করা হবে বলে জানিয়েছে ত্রিপুরা পুলিশ। কিন্তু চালককে কেন তলব করা হল না বা তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর হল না, তার উত্তর মেলেনি।
সায়নীকে গ্রেফতারের পর অভিষেক ত্রিপুরায় গিয়ে রণনীতি ঠিক করবেন বলে জানা গিয়েছে তৃণমূলের তরফে। অভিষেক একদিন আগেই যাচ্ছেন ত্রিপুরায়। তিনি সটান থানায় যাবেন বলেও জানা গিয়েছে। এদিকে সায়নীকে এদিন পুলিশ হেফাজতেই রাখা হয়েছে। সোমবার তাঁকে আদালতে পেশ করা হবে। তৃণমূলের তরফে সমস্তরকম আইনি পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে সায়নীকে মুক্ত করার জন্য।
শনিবার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেবের সভাস্থলের পাশ দিয়ে যখন যাচ্ছিল সায়নী ঘোষের গাড়ি, তখন বাইরে থেকে কেউ একজন বলেন দিদি খেলা হবে। সায়নী ঘোষের উদ্দেশে তা বলার পর সায়নীও বলেন, খেলা হবে। তারপর সায়নীর গাড়িতে হামলার চেষ্টা হয়। গাড়িতে ধাক্কা দিতে শুরু করেন কর্মী সমর্থকরা। এই ঘটনায় সায়নী বিজেপি কর্মীদের উত্তপ্ত করেছেন বলে অভিযোগ ওঠে। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার অভিযোগে তাঁকে শেষপর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়। যিনি গাড়ি থেকেই নামলেন না, গাড়িতে বসে শুধু খেলা হবে স্লোগান দিলেন, তাঁকে গ্রেফতার করা হল বিপ্লব দেবের জঙ্গলরাজ ত্রিপুরায়।
রবিবার সকালেই ত্রিপুরা পুলিশ হোটেলে হানা দিয়ে যুব তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রীকে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু বঙ্গ তৃণমূলের সম্পাদক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বাধা দেন। তিনি নোটিশ দেখাতে বলেন পুলিশকে। কোন অভিযোগে তাঁকে থানায় তলব করা হচ্ছে, তা জানতে চান। ত্রিপুরা পুলিশ কোনও নোটিশ দেখাতে পারেনি, তারপর সায়নী ঘোষকে অনুরোধ করা হয় থানায় আসার। থানায় যাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টার মিথ্যা অভিযোগ চাপিয়ে গ্রেফতার করা হয় বলে দাবি তৃণমূল নেতৃত্বের।
ত্রিপুরা পুলিশের অনুরোধ মেনে সৌজন্যের খাতিরে সায়নী গিয়েছিলেন আগরতলা পূর্ব মহিলা থানায়। সেখানে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় একদল হেলমেট পরে লাঠি হাতে থানায় হামলা চালায়। তৃণমূল নেতারা আক্রান্ত হন। পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে হোটেল থেকে ডেকে এনে সায়নীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ত্রিপুরার পুলিশ বিজেপির দলদাসে পরিণত হয়েছে। যাঁরা হামলা চালাল তাঁরা গ্রেফতার হল না। আর যিনি গাড়িতে বসে খেলা হবে বললেন তিনি খুনের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার। আজব কাণ্ড ত্রিপুরা পুলিশের।












Click it and Unblock the Notifications