তৃণমূল নয়া অবস্থান দিল্লিতে! কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব রেখে চলার বার্তা অভিষেকের
কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব রেখেই চলতে চায় তৃণমূল। তা সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ফের সাফ করে দিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব রেখেই চলতে চায় তৃণমূল। তা সংসদীয় কমিটির বৈঠকে ফের সাফ করে দিলেন তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ইউপিএ-মিত্রদের ভাঙিয়ে বিকল্প জোট গড়ার কাজে হোঁচট খাওয়ার পরও তৃণমূল সরে আসছে না জাতীয় রাজনীতিতে তাদের নয়া রাজনৈতিক অবস্থান থেকে।

কংগ্রেস বিরোধী ভূমিকা পালনে ব্যর্থ, যুক্তি তৃণমূলের
বিজেপিকে হারানোর লক্ষ্যে ২০২৪-এর আগে তৃণমূল সর্বাগ্রে প্রধান বিরোধী মুখ হয়ে উঠতে চাইছে। চাইছে কংগ্রেসের সঙ্গে সমান্তরাল পথে চলতে। কংগ্রেসকে বাদ দিয়েই শক্তিশালী বিরোধী জোট গঠনই তাঁদের লক্ষ্য। তৃণমূলের যুক্তি, কংগ্রেস বিরোধী ভূমিকা পালনে ব্যর্থ হয়েছে। বিজেপির বিরোধিতা করার সাহস ওদের নেই। তাই কংগ্রেস নয় তৃণমূলকেই হয়ে উঠতে হবে প্রধান বিজেপি বিরোধী।

কংগ্রেসের সঙ্গে বিরোধী ঐক্যে সামিল হওয়ার প্রশ্নে
একইসঙ্গে তৃণমূল চাইছে পার্টি সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মোদী বিরোধী প্রধান মুখ হিসেবে তুলে ধরতে। তাই ২০২১-এর প্রধানমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হ্যাশট্যাগে প্রচার শুরু করেছিল তৃণমূল। তৃণমূল তখনও কিন্তু কংগ্রেসের সঙ্গে বিরোধী ঐক্যে সামিল হওয়ার পক্ষপাতী ছিল। এমনকী তারপর দিল্লিতে গিয়ে সোনিয়া গান্ধী ও রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকও করে এসেছিলেন মমতা।

রাহুল-বিরোধিতা অব্যাহত তৃণমূলের
মমতার সেই বৈঠকের পর রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সংসদে তৃণমূল কংগ্রেসও একযোগে বিক্ষোভে সামিল হয় বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে। রাহুল গান্ধী নেতৃত্বে অগ্রসর হতেই তৃণমূল পিছু হটতে শুরু করে। এরই মধ্যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তলব করে ইডি। তৃণমূলের মুখপত্র জাগো বাংলায় রাহুল-বিরোধিতা শুরু হয়ে যায়। ফলাও করে লেখা হয়, রাহুল নন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই মোদী-বিরোধী প্রধান মুখ।

কংগ্রেস ভাঙার কাজ শুরু, মমতাও বিরোধিতায় সামিল
তৃণমূল এই অবস্থান স্পষ্ট করে দেওয়ার পাশাপাশি কংগ্র্সে বিরোধী অভিযানে নেমে পড়েন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা। ত্রিপুরা দিয়ে শুরু করে গোয়ায় কংগ্রেস ভাঙার কাজ শুরু হয়ে যায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও কংগ্রেসকে নিশানা করতে শুরু করেন। দিল্লিতে গিয়ে সম্প্রতি কংগ্রেসে ভাঙন ধরানোর পর মুম্বইয়ে কংগ্রেসের মিত্রশক্তিকে ছিনিয়ে আনতে যান।

বিরোধী ঐক্য প্রসঙ্গে কংগ্রেস দ্বিচারিতা করছে
কিন্তু মমতা সেই অভিযানে হোঁচট খাওয়ার পর তৃণমূল খানিক নরম হলেও তারা যে কংগ্রেস বিরোধিতা থেকে সরে আসনি তার প্রমাণ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এদিনের বিবৃতি। দিল্লি পৌঁছেই অভিযেক জানিয়ে দেন, বিরোধী ঐক্য প্রসঙ্গে কংগ্রেস দ্বিচারিতা করছে। পশ্চিমবঙ্গে তারা তৃণমূলের বিরোধিতা করছে, তৃণমূল অন্য রাজ্যে গেলে কংগ্রেস বিরোধী ঐক্য ভাঙার অভিযোগ করছে।

কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে চলুন
এই মর্মে অভিষেক পরামর্শ দেন, কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রেখে চলুন। কংগ্রেসের থেকে আমাদের কৌশল ভিন্ন হতে হবে। এদিন ফের তিনি কংগ্রেস ভাঙার জল্পনা উসকে দেন। বলেন, এরপর কোন রাজ্যে আমরা পা রাখব, তা এখনই স্পষ্ট করছি না। বিজেপির বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিবাদ চলবে বলে তিনি জানান।












Click it and Unblock the Notifications