নির্বাচনী প্রচারে আপ বিধায়ক মহিলাকে দিয়েছিলেন ‘ফ্লাইং কিস’, ভোটের মাঝে এফআইআর দায়ের দীনেশ মোহানিয়া-র বিরুদ্ধে
দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের ভোটগ্রহণের মাঝেই ফের নতুন উত্তেজনা শুরু। যা নিয়ে নতুন করে উত্তপ্ত রাজ্য-রাজনীতি। আম আদমি পার্টির (AAP) বিধায়ক দীনেশ মোহানিয়া-র বিরুদ্ধে একজন মহিলাকে 'ফ্লাইং কিস' দেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। দিল্লি পুলিশ সূত্রে খবর, সঙ্গম বিহার থানায় তার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩২৩/৩৪১/৫০৯ ধারায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তারা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে এবং ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।যা জানা যাচ্ছে, নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে এক মহিলার দিকে উড়ন্ত চুম্বন ছুঁড়ে দিয়েছিলেন বিধায়ক। যাতে হকচকিয়ে যান ওই মহিলা। পরে তিনিই থানায় গিয়ে সঙ্গম বিহারের বিধায়ক দীনেশ মোহানিয়ার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনেন। তাতেই তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয় বলে জানা যাচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবেই ভোটের মুখে আপ নেতার এই কর্মকাণ্ড, দলকে বেশ চাপে ফেলছে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

অন্যদিকে, দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে রাজধানীর উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে। এর মধ্যেই চলছে হাইভোল্টেজ ভোটগ্রহণ। আম আদমি পার্টি (AAP) তাদের কল্যাণমূলক প্রকল্প ও শাসনব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, বিজেপি ও কংগ্রেস নিজেদের শক্তিশালী অবস্থানে ফিরতে চায় রাজধানীতে। তাই তার চেষ্টা চালাচ্ছে দুটি দলই।
ভোটগ্রহণ সকাল ৭টা থেকে শুরু হয়েছে এবং ১.৫৬ কোটি ভোটার তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করছেন এই ভোটে। ৭০টি বিধানসভা আসনের জন্য ১৩,৭৬৬টি কেন্দ্র নির্ধারিত হয়েছে, যেখানে ৬৯৯ জন প্রার্থীর ভাগ্য নির্ধারিত হবে আজ।
নির্বাচন কমিশন সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে ২২০ কোম্পানি আধাসামরিক বাহিনী, ৩৫,৬২৬ জন দিল্লি পুলিশ কর্মী এবং ১৯,০০০ হোমগার্ড মোতায়েন করেছে। বিশেষ নিরাপত্তার অংশ হিসেবে প্রায় ৩,০০০টি কেন্দ্রকে সংবেদনশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। কিছু এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চলছে। এছাড়াও অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। প্রবীণ নাগরিক ও প্রতিবন্ধী ভোটারদের জন্য ৭৩৩টি বিশেষ বুথ তৈরি করা হয়েছে।
২০২০ সালের বিধানসভা নির্বাচনে ৬২ শতাংশ ভোটার উপস্থিতি ছিল। তবে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি কমে ৫৬ শতাংশে নেমে আসে। এবারের বিধানসভা নির্বাচনে কতজন ভোটার ভোট দেবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের কৌতূহল রয়েছে।
ভোটগ্রহণ সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলবে এবং এরপর ভোট গণনা শুরু হবে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি। এখন দেখার বিষয়, দিল্লির ভোটাররা কাকে সমর্থন করেন এবং কোন দল সরকার গঠনের দৌড়ে জয়ী হয়।












Click it and Unblock the Notifications