দিল্লি নির্বাচনে আপ-কংগ্রেসের হার কি ইন্ডিয়া জোটের ভবিষ্যতের ওপরও প্রশ্ন তুলে দিল?
দিল্লি বিধানসভা নির্বাচনের পর, বিজেপি বিরোধী সবচেয়ে বড় জোট 'ইন্ডিয়া ব্লক' এর ভবিষ্যৎ নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠে গেল এবার। শনিবার, জম্মু ও কাশ্মীরের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ তার এক্স-হ্যান্ডেলের পোস্টে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টির (আপ) অন্তর্দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত প্রকাশ্যে এনেছেন। তিনি সাফ ভাষায় বলেছেন, 'আরও লড়াই করুন একে অপরের বিরুদ্ধে...!'
তিনি একটি ভিডিও ক্লিপ শেয়ার করেন, যেখানে এক ঋষিকে বলতে শোনা যায়, "নিজেদের মধ্যে লড়াই করে একে অপরকে শেষ করে দাও"। আবদুল্লাহর এই পোস্ট স্পষ্টতই আপ এবং কংগ্রেসের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্দেশ দিয়েছে, যা বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিয়েছে বলেও মনে করছেন অনেকে। ওমর আবদুল্লাহ-র এই পোস্ট থেকে কার্যত একটা বিষয় স্পষ্ট যে, ইন্ডিয়া জোটের অন্যতম সদস্য আবদুল্লাহ-ও দিল্লি নির্বাচনে কংগ্রেস-আপকে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়াই করতে দেখতে চাননি। কিন্তু যখন সেটা ঘটল, বোধহয় কোথাও একটা গিয়ে তিনিও বুঝেছিলেন, এইবার আর আপ ফিরবে না দিল্লির বুকে।

- আপ বনাম কংগ্রেস: কে দোষী?
দিল্লির নির্বাচনের আগে এবং পরে, আপ ও কংগ্রেস একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযোগ তুলেছে। কংগ্রেসের দাবি, আপ বিজেপির মতো আচরণ করছে এবং বিজেপি বিরোধী ভোট বিভক্ত করেছে। অপরদিকে, আপ কংগ্রেসকে বিজেপির 'বি-টিম' বলে আখ্যা দিয়েছে এবং অভিযোগ করেছে যে তারা গোপনে বিজেপির কাছ থেকে সহায়তা নিচ্ছে। কংগ্রেস ও আপের মধ্যে এই দ্বন্দ্বই ইন্ডিয়া জোটের ঐক্যকে প্রশ্নচিহ্নের মুখে এনে দাঁড় করিয়েছে।
অন্যদিকে, দিল্লি নির্বাচনে কংগ্রেসের কৌশল নিয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টি দীর্ঘদিন ধরেই সন্দিহান ছিল। এমনকি এই দিল্লি নির্বাচনের আগেও টিএমসি ও সপা দুই দলই সমর্থন জানিয়েছিল কেজরিওয়ালকে। কংগ্রেসকে সমর্থন জানাননি কেউই।
এমনকি এক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতাকে বলতে শোনা গিয়েছিল, "আমরা চাইছিলাম কংগ্রেস গোয়ায় আমাদের জন্য কিছু আসন ছেড়ে দিক। কিন্তু তারা রাজি হয়নি"। সেই প্রসঙ্গে কংগ্রেসের পাল্টা বক্তব্য ছিল, "তৃণমূলের গোয়ায় কোনও শক্তিশালী ভিত্তি নেই, তাহলে কেন আমরা আসন ছেড়ে দেব?"
এই মতবিরোধই বিরোধী জোটের ভেতরের অসন্তোষ প্রকাশ করে চলেছে অবিরত। এই বিরোধী জোটের ভিতরে ফাটল শুধু নির্বাচনেই নয়, সংসদের কার্যক্রমেও স্পষ্ট ছিল। সংসদের শীতকালীন ও বাজেট অধিবেশনে তৃণমূল, আপ ও সমাজবাদী পার্টি কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভে অংশ নেয়নি। এতেই বোঝা যায় যে ইন্ডিয়া ব্লকের ভিতরে সম্পূর্ণ সমন্বয় নেই। আর যেটুকু রয়েছে, সেটুকুও আলগা ভাবে রয়েছে, যেকোনও ঝড়ে তা ভেঙে যেতে পারে। যেমনটা প্রমাণ মিলল এই দিল্লি নির্বাচনেই।
এখন প্রশ্ন উঠছে-দিল্লির নির্বাচনের পর ইন্ডিয়া ব্লক কি ভেঙে যাবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যদি জোট টিকে থাকে, তাহলে কংগ্রেসকে নেতৃত্ব থেকে সরানোর দাবি উঠতে পারে। যদি জোট না টিকে থাকে, তাহলে বিজেপি বিরোধী ফ্রন্টের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়বে। আসন ভাগাভাগি নিয়ে আরজেডি ও কংগ্রেসের মধ্যেও টানাপোড়েন বাড়বে।
দিল্লির বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ইন্ডিয়া ব্লকের জন্য একটি বড় ধাক্কা। আপ ও কংগ্রেসের পারস্পরিক লড়াই বিজেপির পথ সহজ করে দিয়েছে। যদি বিরোধী জোট সত্যিই বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই করতে চায়, তবে তাদের অভ্যন্তরীণ বিভাজন দূর করতে হবে এবং কৌশলগতভাবে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। কিন্তু কোটি টাকার প্রশ্ন হল, আদৌ কি তা করা সম্ভব হবে? ইন্ডিয়া জোট কি জোটবদ্ধ হতে পারবে?












Click it and Unblock the Notifications