মমতার আরও এক বন্ধু-দল সরল বিরোধী বৈঠক থেকে! কেসিআরের পর রণেভঙ্গ কেজরিরও
মমতার আরও এক বন্ধু-দল সরল বিরোধী বৈঠক থেকে! কেসিআরের পর রণেভঙ্গ কেজরিরও
তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতির পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আর এক বন্ধু দল আম আদমি পার্টিও সরে দাঁড়াল বিরোধী বৈঠক থেকে। আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান তথা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা বিরোধী দলগুলির বৈঠকে যাচ্ছেন না অরবিন্দ কেজরিওয়াল বা তাঁর দলের কোনও প্রতিনিধিও।

তৃণমূলের আর এক বন্ধু দল আপও সরল বৈঠক থেকে
কংগ্রেসের সঙ্গে প্ল্যাটফর্ম শেয়ার করতে না চেয়ে টিআরএস বা তেলেঙ্গানা রাষ্ট্র সমিতি সরে দাঁড়িয়েছিল। বিরোধী ঐক্য গড়তে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পয়লা নম্বর বন্ধু সরে দাঁড়ালেন কংগ্রেসকে শিখণ্ডি করে। তারপর তৃণমূলের আর এক বন্ধু দল আপ জানিয়ে দিল, তাঁরা বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না। তবে বিরোধীদের রাষ্ট্রপতি পদপ্রার্থীকে তাঁরা সমর্থন করবেন কি না তা প্রার্থী ঘোষণা করার পরেই বিবেচনা করা হবে।

মমতাকে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার পর ভোলবদল
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বৈঠকে যোগ দিতে বিরোধী দলগুলির নেতাদের চিঠি দিয়েছিলেন। ইচিবাচক সাড়া পেয়ে মঙ্গলবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লিতে আসেন। বুধবার নির্ধারিত রয়েছ বৈঠক। তার আগে জাতীয়তাবাদী কংগ্রেস পার্টির প্রধান শরদ পাওয়ারের সঙ্গে তাঁর বাসভবনে দেখা করেন মমতা। বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শরদ পাওয়ারকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিরোধী মনোনীত প্রার্থী হতে বলেছিলেন। এনসিপি প্রধান অবশ্য এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন যে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে থাকতে চান।

কারা বিরোধী বৈঠকে সাইন আপ করেছে?
গত সপ্তাহে তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২২ জন বিরোধী নেতা এবং মুখ্যমন্ত্রীদের চিঠি লিখেছিলেন। তাঁদের ১৫ জুন নয়াদিল্লির কনস্টিটিউশন ক্লাবে মিটিংয়ে যোগ দিতে অনুরোধ করেছিলেন তিনি। কংগ্রেস সভানেত্রী সোনিয়া গান্ধী, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং সিপিএম সাধারণ সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি-সহ অ-বিজেপি দলগুলিকে বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হয়েছিল৷

কংগ্রেস ও বিজেপির সঙ্গে সমদূরত্ব বজায় রাখতেই সিদ্ধান্ত
আম আদমি পার্টি সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল প্রথম থেকেই এই বৈঠকে যোগ দেবেন বলে কথা দিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু একেবারে শেষ সময়ে তিনি সরিয়ে নিলেন নিজেকে। টিআরএস সাফ জানিয়ে দিয়েছিল, তারা কংগ্রেসকে মানতে পারবেন না, তাই বৈঠকে যোগ দেবেন না। তবে কি আম আদমি পার্টির অন্তর্ভুক্তিতে বাধা কংগ্রেস? প্রশ্ন থেকেই যায়।

মমতা বন্যোেনপাধ্যায়ের পাশ থেকে সরে দাঁড়াল দুই মিত্র-শক্তি
২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইকে সঙ্ঘবদ্ধ করার জন্য বিভিন্ন নেতাদের এক ছত্রছায়ায় আনতে চেয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধী ঐক্যকে বলবৎ করাই ছিল তাঁর উদ্দেশ্য। কিন্তু বিরোধী সমস্ত দলকে এক জায়গায় আনা যে এক বিষম বস্তু, তা হাড়ে হাড়ে টের পেলেন মমতা। এই কঠিন পরীক্ষায় মমতা বন্যোবসপাধ্যায়ের পাশ থেকে প্রথমে সরে দাঁড়াল তাঁর দুই মিত্র-শক্তিই।

২০২৪-এর লোকসভা ভোটের মহড়া মমতার প্রচেষ্টা ব্যর্থ
উল্লেখযোগ্য অনুপস্থিতির খাতায় নাম লেখালেন টিআরএ প্রধান কেসি রাও, আম সুপ্রিমো অরবিন্দ কেজরিওয়াল। টিআরএস ও আম আদমি পার্টি ছাড়াও বিজেডি ও অকালি দল থাকছে না মমতার ডাকা বৈঠকে। ওয়াইএসআর কংগ্রেসকে নিয়েও ধন্দে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠক শুরুর আগেই বিরোধীদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ফাটল। ফলে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হোক বা ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের মহড়া মমতার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে বসেছে।

মমতার ডাকা বিরোধী বৈঠকে যাঁরা উপস্থিত থাকতে পারেন
তবে এই বৈঠকে কংগ্রেস নেতা মল্লিকার্জুন খাড়গে, জয়রাম রমেশ এবং রণদীপ সুরজেওয়ালা, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা বা জেএমএমের সভাপতি ও মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, আরজেডির তরফে তেজস্বী যাদব, সিপিআইয়ের বিনয় বিশ্বম এবং সিপিএমের ইলামারাম করিম। ডিএমকে-র টিআর বালু, শিবসেনার সুভাষ দেশাই, আরএলডির জয়ন্ত চৌধুরী, ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ওমর আবদুল্লাহ এবং জম্মু ও কাশ্মীর পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির মেহবুবা মুফতিও যোগ দেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। কর্ণাটকের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এইচডি কুমারস্বামী এবং জনতা দল সেকুলারের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এইচডি দেবগৌড়াও এই বৈঠকে যোগ দেবেন।












Click it and Unblock the Notifications