যৌন হেনস্তার বাধা দেওয়ার ট্রেন থেকে ছুড়ে ফেলা হল যুবতীকে, কোচ থেকে উদ্ধার নির্যাতিতার ছেলেকে
যৌন হেনস্তার বাধা দেওয়ার ট্রেন থেকে ছুড়ে ফেলা হল যুবতীকে, কোচ থেকে উদ্ধার নির্যাতিতার ছেলেকে
একটি মর্মান্তিক ঘটনার সাক্ষী থাকল হরিয়ানা। যৌন হেনস্তার বাধা দেওয়ার কারণে এই মহিলাকে চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠল। ঘটনায় ওই যুবতীর মৃত্যু হয়েছে। ট্রেনে যুবতীর সঙ্গে তাঁর নয় বছরের ছেলে ছিল। হরিয়ানা পুলিশ ওই কিশোরকে উদ্ধার করেছে বলে জানা গিয়েছে। ট্রেনের ওই কোচটিতে মাত্র তিন জন যাত্রী ছিলেন বলে জানা গিয়েছে।

হরিয়ানা পুলিশের দাবি
ট্রেনটি ফতেহবাদ তোহানা শহর স্টেশনে দাঁড়ায়। সেই সময় ওই কোচে একটি কিশোরকে কাঁদতে দেখা যায়। তিনি তাঁর বাবাকে বলেন, তাঁর মাকে একজন ব্যক্তি চলন্ত ট্রেন থেকে ফেলে দিয়েছেন। ফতেহবাদ পুলিশের প্রধান আস্থা মোদী সাংবাদিকদের জানান, তিনজন যাত্রী ছাড়া ট্রেনের ওই কোচটি সম্পূর্ণ ফাঁকা ছিল। অভিযুক্ত বুঝতে পারেন ছোট শিশুকে নিয়ে নির্যাতিতা এক ভ্রমণ করছেন। সেই সুযোগে অভিযুক্ত যুবতীকে যৌন হেনস্তার চেষ্টা করে। যুবতী বাধা দিতে চাইলে দুজনের মধ্যে বেশ খানিকক্ষণ ধ্বস্তাধ্বস্তি হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি এরপরেই চলন্ত ট্রেন থেকে যুবতীকে ফেলে দেন। তারপরে নিজেও চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ পারেন।

নির্যাতিতার মৃতদেহ উদ্ধার
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযোগের পর পুলিশ অভিযুক্তের সন্ধান পাওয়া গিয়েছে। অভিযুক্তের নাম সন্দীপ। বয়স ২৭ বছর। চলন্ত ট্রেন থেকে ঝাঁপ দেওয়ার কারণে যুবক গুরুতর আহত হয়েছেন। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। কিছুটা সুস্থ হলে তাঁকে গ্রেফতার করা হবে বলে ফতেহবাদ পুলিশের প্রধান আস্থা মোদী জানিয়েছেন। অন্যদিকে, রাত হয়ে যাওয়ার কারণে বৃহস্পতিবার রাতে নির্যাতিতার দেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। শুক্রবার রেললাইনের ট্র্যাকের পাশে একটি ঝোপ থেকে নির্যাতিতার দেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

নির্যাতিতা স্বামীর অভিযোগ
সাংবাদিকদের বলেন, 'ট্রেন স্টেশনে ঢোকার প্রায় ২০ কিলোমিটার আগে আমার ছেলে ফোন করে। সে আমাকে স্টেশনে নিতে আসতে বলে। সে জানায়, স্ত্রীকে একজন ট্রেন থেকে ফেলে দিয়েছে। স্টেশনে ছেলেকে একা কাঁদতে দেখি। আমাকে সে সব কথা জানায়। আমরা অভিযোগ দায়ের করি। রাত থেকে স্ত্রীর সন্ধানে তল্লাশি শুরু হয়। আজকে সকালে রেল লাইনের ট্র্যাক থেকে আমার স্ত্রীর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।' তিনি জানিয়েছে, গত কয়েকদিন ধরে রোহতকে স্ত্রী ছেলেকে নিয়ে ছিলেন। বৃহস্পতিবার রাতে ১৪৫ কিমি দূরে তোহানায় ফেরার জন্য ট্রেন ধরেছিলেন।

প্রশ্নের মুখে মহিলা যাত্রী নিরাপত্তা
এই ঘটনায় ফের রাতের ট্রেনে মহিলা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তোহানায় রেলওয়ে পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর জগদীশ সাংবাদিকদের বলেন, রাতের ট্রেনে নিরাপত্তার কোনও খামতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রেলওয়ে পুলিশ রাতে কোচগুলোর ওপর বিশেষ নজর রাখে। ঘটনার সময় কোন কর্মীরা ডিউটিতে ছিল, তা খতিয়ে দেখা হবে।












Click it and Unblock the Notifications